Monday, November 30, 2015

ঈদে মিলাদুন্নবির বিরোধীতাকারীদের অতীতের গুরুদের মিলাদ -ক্বিয়াম পালন ( মৌলভী হুসাইন আহমদ ) -৪

মৌলভী হুসাইন আহমদ দেওবন্দীর দৃষ্টিতে মীলাদের কিয়াম মুস্তাহাব : 

মৌলভী হোসাইন আহমদ দেওবন্দী যে  দারুল উলুম দেওবন্দ (ভারত) মাদরাসার শাইখুল হাদীস ছিল । সে  জীবনে রাসুলে আকরাম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মীলাদ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে কিনা তা নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া না গেলেও যারা মীলাদ কিয়াম করে তাদের পক্ষে মজবুত ফতোয়া দিয়েছে। 
তার লিখিত- “মাকতুবাতে শাইখুল ইসলাম” কিতাবে  বলে- 
" হযরত সাইয়্যিদুনা আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- " রাসুলে আকরাম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা এই জমিনে কিছু ভ্রমণকারী ফেরেশতা নিয়োগ করেছেন । তারা আমার উম্মতের প্রেরিত সালামগুলো আমার নিকট পৌছান” । (উক্ত হাদীসটি ইমাম নাসাঈ রহমাতুল্লাহে আলাইহি এবং ইমাম দারমী রহমাতুল্লাহে আলাইহি স্ব-স্ব কিতাবে বর্ণনা করেছেন) । 

ঈদে মিলাদুন্নবির বিরোধীতাকারীদের অতীতের গুরুদের মিলাদ -ক্বিয়াম পালন ( দেওবন্দ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ) -৩


দেওবন্দ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতার দৃষ্টিতে মীলাদের কিয়াম মুস্তাহসান : 

দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা হাজী সৈয়দ আবেদ হুসাইন ৪০১.৫০ (চারশত এক টাকা আট আনা) চাদা সংগ্রহ করে “দেওবন্দ মসজিদ” ছাত্তা নামক জায়গায় মাদরাসাটির লেখা-পড়ার কার্যক্রম শুরু করে । প্রথমে  মাদরাসার পৃষ্ঠ-পোষক কাম মুহতামিম পদে অবৈতনিক ভাবে খেদমত আঞ্জাম দেয় । কিছুদিন পর  মোলভী রফিউদ্দিনকে মাদরাসার মুহতামিম পদে নিযুক্ত করে হজ্জ্বব্রত পালন উদ্দেশ্যে মক্কা অভিমুখ রওয়ানা হয় । হজ্জ্ব সমাপনের পর দেশে ফিরলে মাদরাসার পরামর্শ কমিটির অনুরোধে আবার মুহতামিমের দায়িত্ব গ্রহণ করে । এরপর শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির মধ্যে কোন্দল দেখা দিলে, মুহতামিম পদ হতে ইস্তফা দিয়ে হযরত মাখদুম রহমাতুল্লাহে আলাইহি-এর দরবার “কালিয়ার” অভিমুখে গমন করে । মাদরাসার পরামর্শ কমিটির সদস্যগণ তার পিছনে ছুটল , আর অনুরোধে করতে লাগল যে, পৃষ্ঠপোষকতা ও মুহতামিমের দায়িত্ব হতে পৃথক না হওয়ার জন্য, প্রয়োজনে পরিচালনার ভার অন্য কাউকে সোপর্দ কর ।

ঈদে মিলাদুন্নবির বিরোধীতাকারী কওমী-দেওবন্দী গুরুদের মিলাদ -ক্বিয়াম পালন ( মৌলভী শামছুল হক ফরিদপুরী ) - ২

মৌলভী আব্দুল হাই লকনভীর দৃষ্টিতে মীলাদের কিয়াম মুস্তাহাব--- পাক-ভারত উপ-মহাদেশের প্রখ্যাত আলেম মৌলভী আব্দুল হাই লকনভী তদীয় “মজমুয়ায়ে ফতোয়া” কিতাবে মীলাদের কিয়াম মুস্তাহাব বলে ফতোয়া দিয়েছেন । নিম্নে তা প্রশ্ন উত্তর আকারে প্রদত্ত হলো- 

প্রশ্নঃ হযরত রাসুলে মকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা-এর জন্ম বৃত্তান্তের আলোচনা কালে কিয়াম করার হুকুম কি ? 

মুফতে আমীনি ও শায়খুল হদস এর গুরু মৌলভী শামছুল হক ফরিদপুরীর ঈদে মিলাদুন্নবি পালন


মৌলভী শামছুল হক ফরিদপুরী যাকে মুজাহিদে আযম, বাহরুল উলুম হিসেবে কিয়াম বিরোধীরা এক বাক্যে স্বীকার করে । সে একদিকে মৌলভী আশরাফ আলী থানবীর অন্যতম খলিফা, অন্যদিকে একাধারে ১৮ বছর পর্যন্ত জামাতে ইসলামীকে নৈতিকভাবে সমর্থন করে আসছিল । পরবর্তীতে সে জামাতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদীর লিখিত ‘খেলাফত ও মুলুকিয়ত’ বইখানা পড়ে অবাক হয়ে যায় । সাথে সাথে  বলে- অত্র বই খ্রীস্টান পাদ্রীদের ইসলাম বিরোধীদের মূল গ্রন্থ সমূহেরই বহিঃপ্রকাশ “। মওদুদীর উক্ত বইয়ে হযরত ওসমান যুন নূরাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সহ নবীর সাহাবীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা দোষারোপ, অপবাদ ও সমালোচনার সমাহার ।
‘খেলাফত ও মুলুকিয়াত’ বইটির প্রণেতা মওদুদীর ভ্রান্ত আকীদার প্রতিবাদে সে “ভুল সংশোধন” নামক একটি পুস্তক প্রকাশ করে । তাছাড়া সেঅনেক বই পুস্তিকা রচনা করেছে, তন্মধ্যে “তাছাউফ তত্ত্ব” পুস্তকটি সর্বসাধারণের নিকট সমাদৃত । উক্ত পুস্তকটির প্রথম অধ্যায়ে প্রশ্নোত্তর আকারে সর্বমোট ৭টি প্রশ্নের মধ্যে ৬ষ্ঠ তম প্রশ্নটি “মৌলুদ শরীফ ও কিয়াম” সম্পর্কিত । যেখানে সে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছে- “অধিকহারে যিকরে রাসুলের মাহফিল আয়োজন করা এবং তথায় কিয়াম করা উত্তম আদব; আর এর বিপরীতে বেআদবী বলে ফতোয়া দিয়েছে”

ঈদে মিলাদুন্নবির বিরোধীতাকারীদের অতীতের গুরুদের মিলাদ -ক্বিয়াম পালন ( মৌলভী শামছুল হক ফরিদপুরী ) -১


১. মৌলভী শামছুল হক ফরিদপুরীর দৃষ্টিতে মীলাদ ও কিয়াম মুস্তাহাবঃ

মৌলভী শামছুল হক ফরিদপুরী যাকে মুজাহিদে আযম, বাহরুল উলুম হিসেবে কিয়াম বিরোধীরা এক বাক্যে স্বীকার করে । সে একদিকে মৌলভী আশরাফ আলী থানবীর অন্যতম খলিফা, অন্যদিকে একাধারে ১৮ বছর পর্যন্ত জামাতে ইসলামীকে নৈতিকভাবে সমর্থন করে আসছিল । পরবর্তীতে সে জামাতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদীর লিখিত ‘খেলাফত ও মুলুকিয়ত’ বইখানা পড়ে অবাক হয়ে যায় । সাথে সাথে  বলে- অত্র বই খ্রীস্টান পাদ্রীদের ইসলাম বিরোধীদের মূল গ্রন্থ সমূহেরই বহিঃপ্রকাশ “। মওদুদীর উক্ত বইয়ে হযরত ওসমান যুন নূরাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সহ নবীর সাহাবীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা দোষারোপ, অপবাদ ও সমালোচনার সমাহার ।
‘খেলাফত ও মুলুকিয়াত’ বইটির প্রণেতা মওদুদীর ভ্রান্ত আকীদার প্রতিবাদে সে “ভুল সংশোধন” নামক একটি পুস্তক প্রকাশ করে । তাছাড়া সেঅনেক বই পুস্তিকা রচনা করেছে, তন্মধ্যে “তাছাউফ তত্ত্ব” পুস্তকটি সর্বসাধারণের নিকট সমাদৃত । উক্ত পুস্তকটির প্রথম অধ্যায়ে প্রশ্নোত্তর আকারে সর্বমোট ৭টি প্রশ্নের মধ্যে ৬ষ্ঠ তম প্রশ্নটি “মৌলুদ শরীফ ও কিয়াম” সম্পর্কিত । যেখানে সে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছে- “অধিকহারে যিকরে রাসুলের মাহফিল আয়োজন করা এবং তথায় কিয়াম করা উত্তম আদব; আর এর বিপরীতে বেআদবী বলে ফতোয়া দিয়েছে”

মক্কা-মদীনা শারীফে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

বিরোধী সম্প্রদায়ের লোকেরা দাবী করে মক্কা-মদীনার দেশ সৌদি আরবে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা হয় না, তাই আমাদেরও পালন করা উচিত নয়। তাদের এই কথাটি সম্পূর্ণ ভূল। ব্রিটিশদের সহযোগীতায় আল-সৌদ ও ওহাবী-খারেজী সম্প্রদায় দ্বারা মক্কা-মদীনা দখলের আগে সেখানেও যে মীলাদুন্নবী ছল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রচলন ছিল যার প্রমাণ পাওয়া বিভিন্ন আলেমগণের লেখনীতে -

১. প্রখ্যাত মুহাদ্দীস ইবন জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি মন্তব্য -
“সর্বদা মক্কা ও মদিনাবাসী, মিসর, ইয়ামেন, সিরিয়াবাসী এবং আরবের পূর্ব-পশ্চিমের সকলেই মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনুষ্ঠান করে থাকেন। রবিউল আউয়াল মাসের নব চন্দ্রের আগমনে আনন্দ উতসব করেন এবং তারা সকলেই এ সমস্ত অনুষ্ঠানাদি দ্বারা মহান পুরষ্কার ও সফলতা লাভ করেন”
বিয়ান আল মীলাদুন্নাবী, পৃঃ ৫৮

রাসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে স্বীয় মীলাদ বা জন্ম দিবস পালন করেছেন।

 নিম্নে কিছু নমুনা উপস্থিত করলাম -
১. হাদীস শাস্ত্রের প্রখ্যাত ইমাম আবু ঈসা মুহম্মদ তিরমিযী রহমতুল্লাহে আলাইহি তার সংকলিত সুনানে তিরমিযী শরীফে “মীলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” শিরোনামে একটি অধ্যায় প্রণয়ন করেছেন এবং এতে হুযুর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্ম তারিখ নিয়ে আলোচনা সম্বলিত হাদীস বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি হল--- 

  • অর্থাৎ- হযরত মোত্তালিব বিন আবদুল্লাহ আপন দাদা হযরত কায়েছ বিন মোখরামা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন- আমি ও নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘আমুল ফীল’ অর্থাৎ- বাদশাহ আবরাহার হস্তি বাহিনীর উপর আল্লাহর গজব নাযিল হওয়ার বছর জন্মগ্রহণ করেছি। হযরত ওসমান বিন আফফান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বনি ইয়ামার ইবেন লাইস-এর ভাই কুবাছ ইবনে আশইয়ামকে বলেন, আপনি বড় না রাসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম? তখন তিনি বলেন, রাসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্মান ও মর্যাদার দিক থেকে আমার চেয়ে অনেক বড়। আর আমি জন্ম সুত্রে রাসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে আগে মাত্র।  (তিরমিযী শরীফ ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা নং-২০৩ )  

আল-হাদীসের আলোকে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-

পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ধারাবাহিক পোষ্ট সমূহে এ পর্বে হাদীসের আলোকে আলোচনা করা হবে। মিলাদের ব্যবহারিক-অভিধানিক অর্থ জানা প্রয়োজন। অভিধানে মিলাদ শব্দের অর্থ জন্মের সময় কাল এবং ব্যবহারিক অর্থ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মের খুশিতে উনার মুযেজা, বৈশিষ্ট্য, জীবনী প্রভৃতি বয়াণ করা। অগণিত হাদীস শরীফের মাধ্যমে জানা যায়, রাসুলে করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-গণ রাসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মীলাদ বা জন্ম বৃত্তান্তের আলোচনা করেছেন। রাসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে স্বীয় মীলাদ বা জন্ম দিবস পালন করেছেন। নিম্নে কিছু নমুনা উপস্থিত করলাম।
১. عَنْ اَبِى قَتَدَةَ الاَنْصاَرِى رَضِى الله عَنهُ اَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سءل عَنْ صَوْمِ يَوْم الاِ ثْنَيْنِ قَلَ ذَاكَ يَوْمٌ وُلِدْتُ فِيْهِ بُعِثْتُ اَوْاُنْزِلَ عَلَىَّ فِيْهِ-
অর্থাৎ হযরত আবু কাতাদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্নিত  রাসুলে পাক ছল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লামার দরবারে আরজ করা হলো তিনি প্রতি সোমবার রোজা রাখেন কেন? উত্তরে নবীজি  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, এই দিনে আমি জন্ম গ্রহন করেছি, এই দিনেই আমি প্রেরিত হয়েছি এবং এই দিনেই আমার উপর পবিত্র কুরআন নাযিল হয়।

সুরা ইউনুসের অনুগ্রহ ও রহমত বলতে কি কোরআন শরীফ বুঝায় নাকি হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে

এক শ্রেণীর লোকেরা ফতওয়া দেয় মিলাদুন্নবী  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  পালন করা ‘শিরক’-‘বিদ’আত’-‘বিধর্মীদের নীতি’ ইত্যাদি ইত্যাদি। খুব জানতে ইচ্ছা করে এদের মত ফতওয়াবাজেরা এই ক্ষেত্রে কি ফতওয়া দিবে! ! ! 
মীলাদুন্নবী বা রাসূল হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  এর দুনিয়ায় আগমনের ঈদ বা আনন্দ উৎসব করার দলীল পবিত্র কুর’আনের এই আয়াতটি
 قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَ بِرَحْمَتِهِ فَبِذَالِكَ فَلْيَفْرَحُوْا هُوَا خَىْرٌ مِمَّا ىَجْمَعُوْنَ 
  • অর্থাৎ- "হে রাসুল আপনি বলুন আল্লাহর “অনুগ্রহ” ও “রহমত” প্রাপ্তিতে তাঁদের মুমিনদের খুশি উদযাপন করা উচিত এবং এটা হবে তাদের অর্জিত সকল কর্মফলের চেয়েও শ্রেষ্ট"। [সুরা ঈউনূছ,আয়াত ৫৮] 

মিলাদ-ক্বিয়াম সমস্ত নবি-রাসুল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সুন্নত

এ পৃথিবীতে যত নেয়ামত রয়েছে বা এসেছে এর মধ্যে সবচেয়ে বড় নেয়ামত হচ্ছে রাসুলে করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয় সাল্লাম। আল্লাহর এ নেয়ামত ও নুগ্রহকে কেন্দ্র করে রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মীলাদ বা জন্ম তথা দুনিয়ায় শুভাগমনের কথা আলোচনা করেছেন স্বয়ং রাব্বুল আলামীন নিজে। এর পাশাপাশি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা ও আনন্দ করার নির্দিশও তিনি নিজে দিয়েছেন।
 যেমনঃ 
  • ১. নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট তোমাদের থেকে এমন একজন রাসূল এসেছেন যাঁর নিকট তোমাদের দুঃখ-কষ্ট দুঃসহ। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী এবং মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল ও দয়াময়। [সূরা তাওবা ১১৮] 
  • ২. হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম  মহান আল্লাহ তা’আলা এর দরবারে ফারিয়াদ জানান, “ওহে আল্লাহ পাক তাঁদের মধ্যে তাঁদের হতে এমন একজন রাসূল প্রেরণ করুন, যিনি আপনার বাণীসমূহ তাঁদেরকে পাঠ করে শুনাবেন এবং কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দিয়ে পবিত্র করবেন। নিশ্চয়ই আপনিও অতিশয় পরাক্রমশালী ও মহাজ্ঞানী” [সূরা বাকারা ১২৯] 

Saturday, November 28, 2015

ঈদে মিলাদুননবীতে শয়তান কেদেছিল

ইবন কাসির এর আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ২য় খন্ড, ১৬৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছেঃ
ইবলিশ শয়তান জীবনে ৪ বার খুব বেশি কেঁদেছে-
 أن إبليس رن أربع رنات حين لعن وحين أهبط وحين ولد رسول الله صلى الله عليه وسلم وحين أنزلت الفاتحة
১. আল্লাহ যখন তাকে অভিশপ্ত হিসেবে ঘোষণা দিলেন,
২. যখন তাকে বেহেস্ত থেকে বিতাড়িত করা হল,
৩. নূর নবীজীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়াতে আগমনের সময় এবং
৪. সূরা ফাতিহা নাযিল হবার সময়

অর্থাৎ ইবলিশ ব্যতিত সকলে এ দিবস পালন করেছিল ।
যারা এ দিবসকে বিদয়াত বলে থাকে তারা ইবলিশের কায়িম মাকাম 

ঈদের সংজ্ঞা কি ?

এখন আমরা ঈদের সংজ্ঞা নিয়ে আলোচনা করব
 ১. ঈদের সংজ্ঞা বর্ণনা করতে গিয়ে আরবী অভিধানের অন্যতম কিতাব ‘আল মুজামুল ওয়াসীত’ এর ৬৩৫ পৃষ্ঠায় আছে-

  • “ঈদ বলা হয় কোন দুশ্চিন্তা বা কোন রোগ অথবা কোন আকাংখ্যা বা এ ধরণের অন্যান্য বিষয় যা বারবার ফিরে আসে এবং এমন প্রত্যেক দিনকে ঈদের দিন বলা হয় যে দিন কোন সম্মানীত বা প্রিয়তম ব্যক্তির স্মরণে মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়”।

ঈদ কি শুধু দুটিই?


পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরোধী সম্প্রদায়ের নেতারা বলে থাকে ইদুল ফিতর ও ইদুল আযহা ছাড়া আর কোনো ঈদ নেই। তারা নিজেদের এই মনগড়া মন্তব্য প্রমাণের জন্য এই হাদীসটি উল্লেখ করে- "সাহাবী আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু  থেকে বর্ণিত তিনি বলেনরাসূলে কারীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদীনায় আসলেন তখন দেখলেন বছরের দুটি দিনে মদীনাবাসীরা আনন্দ-ফুর্তি করছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন এ দিন দুটো কিতারা বলল যে আমরা ইসলামপূর্ব মুর্খতার যুগে এ দুদিন আনন্দ-ফুর্তি করতাম। রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ 'আল্লাহ তাআলা এ দুদিনের পরিবর্তে এর চেয়ে উত্তম দুটো দিন তোমাদের দিয়েছেন। তা হল ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতর'" ( আবু দাউদ)

 সুপ্রিয় পাঠকবৃন্দভালমত লক্ষ করুন এখানে ইদুল ফিতর ও ইদুল আযহা কে দুটি ঈদের দিন হিসেবে বলা হয়েছে কিন্তু কোথাও কি বলা হয়েছে এই দুটি দিন ছাড়া আর কোনো ঈদ নেইউত্তর হল না। যার কারণেই পবিত্র কুরআন ও আরও অসংখ্য হাদীসে আরও অনেক দিনকে ঈদ এর দিন হিসেবে উল্লেখ হয়েছে। পবিত্র কুরআনেঃ- সূরা মায়িদাহ এর ১১৪ নং আয়াতটির যারা আরবী পড়তে পারেন তারা আরবী পাঠের দিকে নজর দিন ভালমত।

দেখবেন আরবীতেই ঈদ বলা হয়েছে আল্লাহ এর নিয়ামত লাভের দিনকে।
قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا أَنزِلْ عَلَيْنَا مَآئِدَةً مِّنَ
 السَّمَاء تَكُونُ لَنَا عِيداً لِّأَوَّلِنَا وَآخِرِنَا وَآيَةً مِّنكَ وَارْزُقْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ
  • ঈসা ইবন মারিয়ম আলাইহিস সালাম বললেন- হে আল্লাহ! আমাদের জন্য আসমান থেকে খাদ্য ভর্তি খাঞ্চা নাযিল করুন। এ দিন আমাদের জন্য আনন্দোৎসব (ঈদ) হবে। আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সবার জন্যও তা হবে ঈদের দিন। আপনার পক্ষ থেকে এটি হবে একটি কুদরতি নিদর্শন। [সূরা মায়িদাহ ১১৪]

হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের ঈদে মিলাদুননবি পালন



মক্কা শরীফের অন্যতম প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা শিহাব উদ্দিন আহমদ ইবনে হাজার আল হায়তামী আশশাফী রহমতুল্লাহে আলাইহি (জন্ম- ৮৯৯ হিজরী, ওফাত- ৯৭৪ হিজরী) তাঁর সুবিখ্যাত “আন নেয়মাতুল কুবরা আলাল আলাম” কিতাবের মধ্যে নিম্নোক্ত হাদীস গুলো তিনি বর্ণনা করেন-
১। সর্বশ্রেষ্ট সাহবী ও ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন-
مَنْ اَنْفَقَ دِرْهَمًا عَلَى قِرا ةَ مَوْ لِدِ النَّبىُ مَلَى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَنَرَفِيْقِى فىِ الجَنّةِ
অর্থাৎ- “যে ব্যক্তি মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষ্যে এক দিরহাম খরচ করবে সে জান্নাতে আমার সঙ্গী হবে”।
  • আন নেয়মাতুল কুবরা আলাল আলাম, পৃষ্ঠা নং-৭

হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ মোহাদ্দিসে দেহলভী রহমতুল্লাহে আলাইহি ঈদে মিলাদুননবী পালন

১২. হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ মোহাদ্দিসে দেহলভী রহমতুল্লাহে আলাইহি তার রচিত “আদ দুররুস সামীন ফী মুবাশশারাতিন নবীয়্যিল আমীন” কিতাবের ৯ম পৃষ্ঠায় লিখেছেনঃ 

“আমার শ্রদ্ধেয় আব্বাজান আমাকে অবহিত করে বলেন, আমি প্রতি বছরই নবীকুল সর্দার ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মীলাদ উপলক্ষ্যে বিরাট খাবার আয়োজন করে আসছিলাম। অতঃপর এক বছর খাবারের আয়োজন করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি। সুতরাং অল্প ভাজ্যকৃত চনা ব্যতীত আর কিছুই আমি জোগাড় করতে পারিনি। কাজেই সেগুলো উপস্থিত লোকদের মাঝে বন্টন করে দিলাম। অতঃপর আমি স্বপ্নে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাক্ষাত লাভ করে ধন্য হলাম। দেখলাম, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সামনে ঐ চনাগুলো মওজুদ আছে। তখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন অত্যন্ত আনন্দিত ও হাস্যোজ্জল”।

ঈদে মিলাদুননবি পালনে মুনাফিকদের অন্তরে অসহনীয় জ্বালা সৃষ্টি হয়

আল্লামা কুস্তোলানী রহমাতুল্লাহে আলাইহি স্বীয় মাওয়াহিব গ্রন্থে বলেন-
“প্রতিটি যুগে মুসলমানগণ নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বেলাদত শরীফের মাসে মাহফিলের আয়োজন করে আসছেন। উন্নত মানের খাবারের আয়োজন করেন, এর রাতগুলোতে বিভিন্ন ধরণের সাদক্বাহ- খায়রাত করেন, আনন্দ প্রকাশ করতে থাকেন, পুন্যময় কাজ বেশি পরিমাণে করেন এবং নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বেলাদত শরীফের আলোচনার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে আসেন। ফলে আল্লাহর অসংখ্য বরকত ও ব্যাপক অনুগ্রহ প্রকাশ পায়। এর বিশেষত্বের এটাও পরীক্ষিত যে, নিঃসন্দেহে গোটা বছরই তারা নিরাপদে থাকে এবং তাদের উদ্দেশ্য দ্রুত সফল হয়ে থাকে”।
ইমাম কুস্তোলানী রহমতুল্লাহে আলাইহি দো’আ করে বলেন-  অতএব, “ঐ ব্যক্তিকে আল্লাহ দয়া করুন, যে মীলাদুন্নবী মোবারক মাসের রাতগুলোকে ঈদ হিসেবে উদযাপন করে- এ লক্ষ্যে যেন মুনাফিকদের অন্তরে অসহনীয় জ্বালা সৃষ্টি হয়”।
শরহে জুলকানী, ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা নং- ২৬১-২৬৩

Tuesday, November 24, 2015

হে রাসুল আপনাকে সৃষ্টি না করলে কিছুই সৃষ্টি করতাম না


১. এ সম্পর্কে হাদীছে কুদসী শরীফ-এ উল্লেখ করা হয়েছে,
كنت كنزا مخفيا فاحببت ان اعرف فخلقت الخلق لاعرف.
অর্থ: “আমি গুপ্ত ছিলাম। আমার মুহব্বত হলো যে, আমি জাহির হই। তখন আমি আমার (রুবুবিয়্যত) জাহির করার জন্যই সৃষ্টি করলাম মাখলূকাত (আমার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে)।”

দলীল -
আল মাকাসিদুল হাসানা/ ৮৩৮,
কাশফূল খিফা/২০১৩,
আসনাল মুত্বালিব/১১১০,
তমীযুত তীব/১০৪৫,
আসরারুল মারফুআ/৩৩৫,
তানযিয়াতুশ শরীয়াহ ১/১৪৮,
আদ্দুরারুল মুন্তাছিরা/৩৩০,
আত তাযকিরা ফি আহাদীসিল মুশতাহিরা/১৩৬,
সিররুল আসরার, কানযুল উম্মাল)