Monday, December 14, 2015

ঈদে মীলাদুন্নবী পালন করার ঐতিহাসিক কিছু দলিল


ইদানীং সাইয়্যিদুল আইয়াদ ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা শুনলে কিছু লোক বিদয়াত বিদয়াত বলে চিৎকার করে, কিতাবে নেই, পূর্বের কোনো আউলিয়াগণ করেননি ইত্যাদি ইত্যাদি নানা মিথ্যা কথা বলে থাকে। অথচ শতশত, হাজার বছর ধরে হযরত সাহাবায়ে কিরাম. যুগশ্রেষ্ঠ ইমাম-মুজাতাহিদ, উলামায়ে কিরামগণ উনারা পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিলের আয়োজন করেছেন, এতে শরীক হয়েছেন এবং এসব বরকতময় আমলের পক্ষে কিতাবও রচনা করেছেন। এখানে ঐ সকল মহান উলামায়ে কিরামগণ উনাদের কয়েকটি বিখ্যাত কিতাবের নাম উল্লেখ করা হলো।

আর মাত্র ১২ দিন


মক্কা-মদীনা শরীফের ইমাম-খতিবগণ কতৃক ঈদে মীলাদুন্নবী পালন

আপনি কি জানেন ?
আজ থেকে ১০০ বছর আগেও পবিত্র মক্কা-মদীনা শরীফের ইমাম-খতিবগণ ঈদে মীলাদুন্নবী পালন করতেন এবং কেউ তার বিরুদ্ধে বললে তাকে কাফির বলে ফতওয়া দিতেন ??
আপনি কি জানেন ?
আজ থেকে ১০০ বছর আগেও দেওবন্দীদের কেন্দ্রীয় আলেমগণ ঈদে মীলাদুন্নবী পালন করতেন এবং এ অনুষ্ঠানকে জান্নাতে যাওয়ার উছিলা বলে বিশ্বাস করতেন ??
এ বিষয় জানতে হলে আপনাকে একটি বই পড়তে হবে। বইটির নাম “আল মুহান্নাদ আলাল মুফান্নাদ”। বইটির লেখক দেওবন্দের র্শীষস্থানীয় আলেম এবং আবু দাউদ শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘বাজলূল মাজহুদ কী হল্লি আবু দাউদ’র বিখ্যাত লেখক মাওলানা খলীল আহমাদ শাহরানপুরী। বইটিতে আপনি পবিত্র মক্কা শরীফ ও মদীনা শরীফের শীর্ষস্থানীয় ইমাম-খতিবগণের স্বহস্তে লিখিত স্বীকৃতি দেখতে পাবেন।
বইটির বাংলাভাষায় অনুবাদ গ্রন্থ’র পিডিএফ পড়তে: http://www.mediafire.com/…/Al+Muhannad+Alal+Mufannad-Mou.Kh…
এখন আপনি বলতে পারেন, ঈদে মীলাদুন্নবী পালনের বিষয়টি তাহলে পরিবর্তন হলো কিভাবে ??
উত্তর: ১৯২৫ সালে ইহুদী বংশোদ্ভূত সউদ পরিবার আরবের ক্ষমতায় বসে অনেক কিছুই পরিবর্তন করে। যেমন:
১) জাজিরাতুল আরবের নাম পরিবর্তন করে নিজ পরিবারের নাম অনুসারে ‘সউদী আরব’ নাম রাখে।
২) হাদিস শরীফ বিবৃত লানতপ্রাপ্ত ‘নজদ প্রদেশ’কে সউদী আরবের রাজধানী রিয়াদ বানায়।
৩) মক্কা ও মদীনা শরীফের ৯৫ ভাগ ঐতিহাসিক স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলে।
৪) নবীজি ও সাহাবীদের বংশধরকের হত্যা করে, হক্ব আলেম-ওলামাদের হত্যা করে।
৫) ঈদে মীলাদুন্নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বন্ধ করে দেয়।
সউদী ওহাবী শাসকদের পেট্রো ডলারের ফাদে পড়ে অনেক প্রতিষ্ঠানই পরবর্তীতে ঈদে মীলাদুন্নবী অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া। এ ইতিহাস সবারই জেনে রাখা জরুরী।

যারা কি শুধুই ২ ঈদ ?

১০০ বছর আগেও মক্কা-মদীনার ইমাম খতিবরা মীলাদুন্নবী পালন করতেন

আপনি কি জানেন ?
আজ থেকে ১০০ বছর আগেও পবিত্র মক্কা-মদীনা শরীফের ইমাম-খতিবগণ ঈদে মীলাদুন্নবী পালন করতেন এবং কেউ তার বিরুদ্ধে বললে তাকে কাফির বলে ফতওয়া দিতেন ??
আপনি কি জানেন ?
আজ থেকে ১০০ বছর আগেও দেওবন্দীদের কেন্দ্রীয় আলেমগণ ঈদে মীলাদুন্নবী পালন করতেন এবং এ অনুষ্ঠানকে জান্নাতে যাওয়ার উছিলা বলে বিশ্বাস করতেন ??
এ বিষয় জানতে হলে আপনাকে একটি বই পড়তে হবে। বইটির নাম “আল মুহান্নাদ আলাল মুফান্নাদ”। বইটির লেখক দেওবন্দের র্শীষস্থানীয় আলেম এবং আবু দাউদ শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘বাজলূল মাজহুদ কী হল্লি আবু দাউদ’র বিখ্যাত লেখক মাওলানা খলীল আহমাদ শাহরানপুরী। বইটিতে আপনি পবিত্র মক্কা শরীফ ও মদীনা শরীফের শীর্ষস্থানীয় ইমাম-খতিবগণের স্বহস্তে লিখিত স্বীকৃতি দেখতে পাবেন।
বইটির বাংলাভাষায় অনুবাদ গ্রন্থ’র পিডিএফ পড়তে: http://www.mediafire.com/…/Al+Muhannad+Alal+Mufannad-Mou.Kh…
এখন আপনি বলতে পারেন, ঈদে মীলাদুন্নবী পালনের বিষয়টি তাহলে পরিবর্তন হলো কিভাবে ??
উত্তর: ১৯২৫ সালে ইহুদী বংশোদ্ভূত সউদ পরিবার আরবের ক্ষমতায় বসে অনেক কিছুই পরিবর্তন করে। যেমন:
১) জাজিরাতুল আরবের নাম পরিবর্তন করে নিজ পরিবারের নাম অনুসারে ‘সউদী আরব’ নাম রাখে।
২) হাদিস শরীফ বিবৃত লানতপ্রাপ্ত ‘নজদ প্রদেশ’কে সউদী আরবের রাজধানী রিয়াদ বানায়।
৩) মক্কা ও মদীনা শরীফের ৯৫ ভাগ ঐতিহাসিক স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলে।
৪) নবীজি ও সাহাবীদের বংশধরকের হত্যা করে, হক্ব আলেম-ওলামাদের হত্যা করে।
৫) ঈদে মীলাদুন্নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বন্ধ করে দেয়।
সউদী ওহাবী শাসকদের পেট্রো ডলারের ফাদে পড়ে অনেক প্রতিষ্ঠানই পরবর্তীতে ঈদে মীলাদুন্নবী অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া। এ ইতিহাস সবারই জেনে রাখা জরুরী।

চোক্কা মৌলভী দ্বারা ইসলামী দিবস থেকে দূরে রাখার ষড়যন্ত্র

চোক্কা মৌলভীদের ভ্রান্ত ফতওয়াবাজি ও মুসলিম জাতিকে আটকে রাখার কৌশল
আজকাল একদল ফতওয়াবাজ বের হয়েছে, যারা কোন ইসলামী দিবস দেখলে বিদআত বলে ফতওয়া দেয়। বলা শুরু করে- “সাহাবীরা কি এগুলো করেছেন ?” খাইরুন কুরুনে কি হয়েছে ? হয়ত দলিল পাওয়া গেলো, তারপরও বলবে- আরো স্পষ্ট কোন দলিল আছে ? উনারা কি হুবুহু পালন করেছেন ? এভাবেই করেছেন ? ওভাইবেই করেছেন ? এভাবে নানান যুক্তিতর্ক দিয়ে ইসলামী দিবসগুলো আটকাতে চেষ্টা করে।
আমার মনে হয়, যারা এ ধরনের চেষ্টা করে তাদের উদ্দেশ্য মুসলমানদের নেক কাজে বাধা দেওয়া। কারণ ঐ দিন হয়ত নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্মৃতি বিজড়িত কোন দিন রয়েছে। মুসলমান মাত্রই তো নবীজির স্মৃতিকে আকড়ে পড়ে থাকতে চায়, সেটা যতটুকুই পারা যাক না কেন। কিন্তু এ কাজে বাধা দেয়া কেন ?
আমি দেখেছি, একটা ছেলেকে। সে তেমন ইবাদত-বন্দেগি করতো না। কিন্তু শবে বরাতের রাতে গিয়ে মসজিদে থাকতো। ঐ রাতে নফল নামাজ পড়তো। কিন্তু একবার এক চোকা মৌলভী তাকে দিয়ে ফতওয়া দিলো- শবে বরাতের নামাজ পরা বিদাত। একথা শুনে ছেলেটার মন ভেঙ্গে গেলো, সে জানতো নামাজ পরা সওয়াব, কিন্তু সেটা বিদাত সেটা তো শুনে নাই। একথা শুনে সে নামাজ পড়াই বাদ দিলো। যে ছেলেটি কখন নামাজ পরে না, এমনও তো হতে পারে ঐ একরাতের মনোযোগ দিয়ে নামাজ পরার কারণে সে আল্লাহ’র দরবারে কবুল হতে পারতো, কিন্তু তাকে নানান ফতওয়াবাজি করে সে সুযোগটা কেড়ে নেওয়া কতটুকু যু্ক্তি সঙ্গত বলুন ?
আজকাল এই মৌলভীগুলো ফতওয়া দিচ্ছে, ঈদে মীলাদুন নবী নাকি বিদআত। সাহাবীগণ নাকি এ দিবস পালন করে নাই। আমি এদের কথার আগামাথা কিছুই বুঝতে পারি না। আরে সাহাবীগণ তো রাতদিন ২৪ ঘণ্টাই নবীজির স্মরণে থাকতেন, উনারা আবার নতুন করে ১২ তারিখ পালনের সময় কোথায়। আবু বকর সিদ্দিক রদ্বিয়াল্লাহুকে বলা হয়েছে হিজরতের জন্য প্রস্তুত থাকতে, তিনি মাসের পর মাস দরজায় দাড়িয়ে রইলেন, নবীজির অপেক্ষায় থাকলেন। এটাই তো ১২ই রবিউল আউয়াল শরীফের শিক্ষা, নবীজিকে পাওয়ার জন্য সন্তুষ্ট থাকা, শুকরিয়া আদায় করত অনুসরণ করা, সম্মানপ্রদর্শন করা্ এবং খেদমত করা। আর সাহাবীগণ সে কাজটা করেছেন পুরো সময়টা জুড়ে, উনাদের আলাদা করে কিছু করার কোন প্রয়োজন নেই। আজকাল গাফেল মুসলমান ১২ রবিউল আউয়াল তারিখ আসলে কিছু হলেও তো নবীজিকে স্মরণ করে, শুকরিয়া স্বরুপ দুরুদ-মিলাদ পরে। আপনারা সে উপলক্ষটাও বন্ধ করে দিতে চান ! হায়রে দুনিয়া ! এমনও তো হতে পারে, এই দিন পালন করতে গিয়ে তার মধ্যে নবী প্রেমে জাগ্রত হতো এবং সেখান থেকে সে পুরোটা জীবনই নবীজির রঙ্গে রঙ্গিন করতো, কিন্তু সে সুযোগটা বন্ধ করে দিলে তো কিছুই হবে না।
আমি দেখেছি, চোকা মৌলভীরা মুসলমানদের এ দিবস থেকে ফিরিয়ে রাখার জন্য বিভিন্ন সময় অসত্যের আশ্রয় নেয়। তাদের এহেন আচরণে আমি চিন্তায় পরে যাই- ভাবি, আসলে এদের উদ্দেশ্যটা কি ? ভালো হলে তো এমন করার কথা নয়।
ব্যাপারাটা কেন বললাম, আমি কয়েক বছর আগে দেখছি- একটা চোকা মৌলভী এসে আমাকে বলবো- ঈদে মীলাদুন নবী পালন করা যাবে না, কারণ নবীজি ১২ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন নাই, তারিখ নিয়ে মতভেদ আছে। ৯ তারিখ হতে পারে।
আমি বললাম- আপিনি তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন কেন, ১২ তারিখের পক্ষে তো সহিহ দলিল আছে।
তখন সে বলবো- না না, আপনার দেওয়া হাদীসের থেকে আমার কাছে আরো শক্ত রেফারেন্স আছে।” তখন সে আমাকে ‘রাহীকুল মাখতুম’ ও ‘সীরাতুন্নবী’ নামক নবীজির দুটো জীবনীগ্রন্থের রেফারেন্স দিলো।
আমি এ ব্যাপারে আবার খুব শক্ত। একটি রেফারেন্স পেলে তা যাচাই বাছাই করে নেই। বইদুটো পড়ে দেখলাম সেখানে মাহমূদ পাশা নামক এক মিশরীয় জোতির্বিজ্ঞানীর গবেষণাকে রেফারেন্স হিসেবে দাড় করানো হয়েছে। এই মাহমুদ পাশা সম্পর্কে জানতে গিয়ে পেলাম- সে ‘মিশরীয় রেনেসা’ নামক একটি অান্দোলনের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব ছিলো। আর মিশরীয় রেনেসা নামক এই আন্দোলনটি ছিলো ‍মূলত নাস্তিক, খ্রিস্টান ও শিয়াদের। যাদের কাজ ছিলো মিশর থেকে ইসলামকে তুলে দেওয়া। সহজ ভাষায় বলতে- মিশরীয় রেনেসা ছিল ফেরাউনের যুগে ফিরে যাওয়ার এক কৌশল।
বিষয়টি জানার পর আমি অবাক হলাম, ১২ রবিউল আউয়াল যেন মানুষ পালন না করে, সেজন্য এই চোক্কা মৌলভীরা সহিহ হাদীস বাদ দিয়ে নাস্তিকের রেফারেন্স ব্যবহার করছে আবার সেই নাস্তিকের রেফারেন্স দলিল হিসেবে প্রচারও করছে !! অদ্ভূত !!
শুধু তাই নয়, এরা নিজের প্রয়োজনে অনেক স্পষ্ট হারামকে (যেমন: ছবি, টিভি) হালাল বলছে, কিন্তু ইসলামী দিবসগুলো বিরুদ্ধে অযথাই পেচাচ্ছে, নানান যুক্তি তর্ক দিয়ে বাধা দিতে চাইছে। আরে ভাই তোমার করার ইচ্ছা হয় না, তুমি করো না, তুমি নিজেও তো ১০০ ভাগ ইসলাম মানতে পারছো না, যে ছেলেটা একরাতে নামাজ পড়তে চায় তাকে তুমি বাধা দাও কেন ? যে ছেলেটা ১ দিন নবীজির প্রতি দুরুদ সালাম পড়ে উনাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে চায়, তাতে তুমি বাধা দেও কেন ??
সত্যিই বলতে এসকল চোক্কা ফতওয়াবাজদের কারনেই আজকে মুসলিম তরুণ সমাজ ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, ইসলাম রেখে তারা কাফিরদের অনুসরণ-অনুকরণে ব্যস্ত হয়েছে। আলটিমেলি ক্ষতি হচ্ছে পুরো মুসলিম জাতির। আল্লাহ তায়ালা এ সকল চোক্কা মৌলভীদের হেদায়েত দান করুন।

নবীজিকে শহীদ করার জন্য কাফিরদের ষড়যন্ত্র

১. একবার হযরত আব্দুল্লাহ্ দূরবর্তী এক জঙ্গলে শিকার করতে গেলেন। টের পেয়ে আহলে কিতাবরা ঘিরে ফেললো। তিনি তখন সম্পূর্ণ একা এবং অসহায়। ওরা ছিল সমস্ত্র। ঘটনাক্রমে এ সময় হযরত মা আমিনা -এর পিতা হযরত ওয়াহাব ইবনে আবদে মানাফ ঐ জঙ্গলে ছিলেন। তিনি দেখলেন, হঠাৎ অদৃশ্য থেকে একটি দল আবির্ভূত হলো এবং হযরত আব্দুল্লাহকে ঘিরে ফেলা ইহুদী ও খৃষ্টানদের দলটিকে তাড়িয়ে নিয়ে গেল। (মাদারেজুন্ নুবুওওয়াত)
২. “সীরাতে ইবনে হিশাম” গ্রন্থে বর্ণিত রয়েছে, “শিশু বয়সে সীনা চাকের ঘটনার পর লোকজনের পরামর্শে হযরত হালিমা এক গণকের কাছে নিয়ে যান। সে লোক হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললো, “(হে বালক!) বলতো, ব্যাপারটা কি?” হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে সমস্ত ঘটনা খুলে বলতেই গণক লাফিয়ে দাঁড়াল এবং চিৎকার করে ডাকতে লাগলো, “হে আরবরা! এক মহাদূর্যগ আসন্ন। এ বালক এবং আমাকে হত্যা কর। যদি তোমরা তা না কর এবং সে বড় হয়ে যায়, তবে তোমাদের বড়দের বুদ্ধি-বিবেক নষ্ট করে দিবে, তোমাদের ধর্মকে মিথ্যা সাব্যস্ত করবে, মানুষকে অচেনা এক প্রতিপালকের দিকে আহবান করবে, সম্পূর্ণ অচেনা এক নতুন ধর্মের দিকে তোমাদের ডাকবে।”
হযরত হালিমা বললেন, “এসব শুনে আমি তার হাত থেকে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ছিনিয়ে নিলাম। বললাম, ‘তুই এক বদ্ধপাগল ও উন্মাদ। এসব কথা বলবি যদি আগে জানতাম, কিছুতেই এ বরকতময় শিশুকে নিয়ে আসতাম না। তোর মরার সাধ জেগে থাকলে তুই নিজেই লোকজন ডেকে নে। আমি কিছুতেই মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হত্যা করতে দিবনা।” (ইবনে হিশাম)
৩. হযরত ঈসা ইবনে আব্দুল্লাহ্ ইবনে মালিক হতে রেওয়ায়েত আছে যে, এক বৃদ্ধ গণক তার ক্বওম বণু হুজায়েলকে ডেকে বললো, “এ শিশু আকাশ থেকে কোন হুকুমের অপেক্ষায় আছে। এসব বলে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ব্যাপারে মানুষকে উস্কে দিতে লাগলো। কিছুদিনের মাঝে লোকটি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে উন্মাদ হয়ে গেল এবং এ অবস্থায়ই সে মারা গেল।
৪. কিছুদিন পর হযরত হালিমা -এর বাড়িতে কয়েকজন ইহুদী এলো। পরীক্ষার জন্য হযরত হালিমা তাদের বললেন, “আমার এ ছেলের ভবিষ্যত সম্পর্কে তোমরা বল। তিনি এভাবে গর্ভে ছিলেন এবং এভাবে ভূমিষ্ট হয়েছেন। তাঁর ব্যাপারে আমি এই দেখেছি। হযরত মা আমিনা -এর কাছে হযরত হালিমা যা যা শুনেছিলেন সব তিনি এদের বললেন।
সব শুনে ইহুদীরা পরস্পর বলাবলি করতে লাগলো, এ শিশুকে হত্যা কর। তারপর হযরত হালিমাকে ওরা জিজ্ঞাসা করলো, “শিশুটি কি এতিম?” হযরত হালিমা (ভয় পেয়ে) বললেন, “না, উনি এতিম নন। ইনি হচ্ছেন তাঁর পিতা (তাঁর স্বামীকে দেখিয়ে) আর আমি তাঁর মা।” ইহুদীরা বললো, “উনি এতিম হলে অবশ্যই আমরা তাঁকে হত্যা করতাম।” (খাসায়েসুল কুবরা)

আখেরী চাহার শোম্বা পালনের ইতিহাস

আজকে বাদ মাগরীব থেকে শুরু হবে ইতিহাসের একটি বিশেষ দিন।
এ দিনকে বলা হয়- আখেরী চাহার শোম্বা।
আখের শব্দের অর্থ- শেষ
এবং চাহার শোম্বা ফারসী শব্দ। অর্থ- বুধবার।
অর্থাৎ আখেরী চাহার শোম্বা শব্দের অর্থ শেষ বুধবার।
এ পবিত্র দিন পালনের ইতিহাস:
আখিরী রসূল, সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১১ হিজরী সনের মুহররম মাসের তৃতীয় সপ্তাহে শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করেন। এরপরে আবার সুস্থতা বোধ করেন। অতঃপর ছফর মাসের তৃতীয় সপ্তাহে আবার শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করেন। অধিকাংশ ও প্রসিদ্ধ বর্ণনার দ্বারা প্রমাণিত, ছফর মাসের শেষ বুধবার বাদ আছর পুনরায় অসুস্থতা অনুভব করেন এবং তা ১২ দিন পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হয়।
শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করার কারণে সাহাবীগণ চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন যে, আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কি সত্যিই দুনিয়া থেকে বিদায় গ্রহণ করবেন ?
কিন্তু আখিরী রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দীর্ঘদিন শারীরিক অসুস্থতা অনুভব পর পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ (সফর মাসের শেষ বুধবার) সকালে আবার সুস্থতা অনুভত করেন। অতঃপর গোসল করতঃ হযরত উম্মুল মু’মিনীনগণ এবং হযরত আহলে বাইতগণকে সাথে নিয়ে খাদ্য খান। অতঃপর সাহাবীগণদের খোঁজ-খবর নেন এবং খুশি প্রকাশ করে মসজিদে নববী শরীফে অবস্থান নেন। সুবহানাল্লাহ।
রাসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‍সুস্থ হয়ে গেছেন, এ বিষয়টি দেখে সাহাবীগণ অত্যন্ত আনন্দিত হন এবং নবীজির সাথে দেখা সাক্ষাৎ করেন। হাদীয়া তোহফা দেন। গরীবদের দান-সদকা করেন।
(তথ্যসূত্র: সীরাতে ইবনে হিশাম: দ্বিতীয় ভাগ, পৃষ্ঠা ৬৫৩, আদ দ্বীন ওয়াত তারীখুল হারামাইনিশ শারীফাঈন, পৃষ্ঠা ২৮১, ২৮৩; মা ছাবাতা বি ছুন্নাহ্, মাদারেজুন্নুবুওওয়াত)
আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্মৃতি বিজড়িত এ দিনটি পালন করে আমরা ঐ পবিত্র সময়ের কথা স্মরণ করবো এবং আমাদের প্রিয় নবীজির ভালোবাসায় প্রত্যেকে উদ্বেলিত হবো। ইনশাল্লাহ।

মিথ্যাবাদীরা নবীজির হাদীসগুলো লুকাতে চায় !

সাবধান !! মিথ্যা দাবি করে নবীজির পবিত্র হাদীস শরীফগুলো লুকিয়ে ফেলা হচ্ছে
আজকাল কিছু লোক বলে থাকে- হাদীস গ্রন্থের মধ্যে শুধু বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ মানি। বাকি গ্রন্থগুলো মানি না। যারা্ এ ধরনের বলে করে থাকে, তারা আসলে আমাদের প্রিয় নবীজির হাদীসগুলো লুকিয়ে ফেলতে চায়। কারণ -
একটু ভেবে দেখুন- বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ হচ্ছে দুটি হাদীস সংকলন গ্রন্থ। মানে ইমাম বুখারী এবং ইমাম মুসলিম রহমতুল্লাহি নামক দুইজন উম্মত নবীজির কিছু হাদীস সংকলন করেছেন। কিন্তু এরমানে এই নয়, এই দুই উম্মত যে হাদীসগুলো সংকলন করেছেন শুধু সেগুলোই মানতে হবে এবং বাকিগুলো মানা যাবে না। কুরআন পাকে বলা আছে নবীজিকে মানতে হবে, কিন্তু বলা নাই শুধু বুখারী ও মুসলিম শরীফের হাদীসগুলো মানতে হবে। হাদীস শরীফে একথা বলা নাই- শুধু বুখারী ও মুসলিম রহমতুল্লাহি যে হাদীসগুলো সংকলন করেছেন, শুধু তাই মানতে হবে। এটা ঠিক কোন হাদীসখানা সহিহ সেটা যাচাই করা উচিত। কিন্তু শুধু বুখারী-মুসলিম মানবেন, বাকিগুলো মানবেন না, এটা মূর্খতা এবং যারা এ তত্ত্ব আপনাকে শিখিয়েছে,তাদের উদ্দেশ্যও ভালো নয়, তাদের উদ্দেশ্য নবীজির মহামূল্যবান হাদীসগুলো লুকিয়ে ফেলা।
একটু হিসেব করে দেখুন---
নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়াতে আগমন হতে শুরু করে বিদায় গ্রহণ পর্যন্ত অর্থাৎ ৬৩ বছর পর্যন্ত যত কথা, কাজ, সম্মতি প্রকাশ করেছেন সবই পবিত্র হাদীস শরীফের অন্তর্গত। কিন্তু উছুল অনুযায়ী যদি ৪০ বছর বয়স মুবারক থেকে ৬৩ বছর মুবারক পর্যন্ত ২৩ বছরও যদি ধরি, এই ২৩ বছরে যত কথা, কাজ, সম্মতি প্রদান করেছেন সবই হাদীস শরীফ।
অংক করে দেখুন,
২৩×৩৬৫= ৮৩৯৫ দিন।
আবার, ৮৩৯৫×২৪= ২০১৪৮০ ঘন্টা।
আবার, ২০১৪৮০×৬০= ১২০৮৮৮০০ মিনিট।
অর্থাৎ এই ১ কোটি ২০ লক্ষ মিনিটের মধ্যে নবীজি চলা-ফেলা-উঠা-বসা-কথা-বার্তায়
-যত কথা বলেছেন,
-যত কাজ করেছেন
- যত কাজে সম্মতি দিয়েছেন, সবগুলোই পবিত্র হাদীসের অন্তর্ভূক্ত। পাশাপাশি সাহাবীগণ, তাবেয়ী, তাবে-তাবেইনগণের কথা-কাজ ও সম্মতিও হাদীসের অন্তর্ভূক্ত। সে হিসেব করলে নবীজির হাদীস সংখ্যা কত হতে পারে ? অবশ্যই লক্ষ লক্ষ। কিন্তু বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফে সব মিলিয়ে হাদীস সংখ্যা মাত্র ১০-১১ হাজার। তারমানে আপনি যদি বলেন- “শুধু বুখারী-মুসলিম মানি, বাকিগুলো মানেন না”, এর অর্থ দাড়াচ্ছে- আপনি নবীজির অধিকাংশ কথা অস্বীকার করছেন, আর নবীজির একটি কথা অস্বীকার করার অর্থ হচ্ছে কাফির বা গোমরাহ হওয়া। না্উযুবিল্লাহ।
এ সম্পর্কে ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি নিজেই বলেছেন- “বুখারী শরীফের (হাদীস সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার) বাইরে আমার এক লক্ষ সহীহ হাদীস মুখস্ত রয়েছে।” (সূত্র: ইবনে হাজর আসকালানী (রহ) হাদয়ুস সারী পৃ: ৭, ইমাম যাহাবী সিয়ারু আলামিন নুবালা পৃ ১২/৪০২)
অর্থাৎ বুখারী-মুসলিম শরীফের বাইরে অসংখ্য সহিহ হাদীস রয়েছে। তাই বুখারী-মুসলিম ব্যতিত কিছু মানি না এটা গোমরাহমূলক কথা ছাড়া কিছু নয়।

১২ই রবিউল আউওয়াল খুশি করব নাকি দুঃখ !

‘নবীজীর ইন্তিকাল দিবস হচ্ছে দুঃখের দিন। আর দুঃখের দিনে খুশি প্রকাশ করাটা অন্যায়।’ এ কথাটা কতটুকু সত্য? সহিহ দলিল কি বলে ??
এ ধরনের কথা কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ-এর সম্পূর্ণ খিলাফ। কেননা কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে, নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণের বিলাদত (জন্ম) , বিছাল (ইন্তেকাল), পুনরুত্থান প্রত্যেকটিই রহমত, বরকত ও সাকীনার কারণ এবং ঈদ বা খুশি প্রকাশের কারণ।
যেমন,
১) হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের ব্যাপারে কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে
-وسلم عليه يوم ولد ويوم يموت ويوم يبعث حيا
অর্থ: ‘উনার প্রতি সালাম (শান্তি) যে দিন তিনি বিলাদত শরীফ লাভ করেছেন এবং যেদিন তিনি বিছাল শরীফ লাভ করবেন এবং যেদিন তিনি পুনরুত্থিত হবেন।’ (সূরা মারইয়াম, আয়াত শরীফ ১৫)
২) অনুরূপ হযরত ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম সম্পর্কে উনার নিজের বক্তব্য কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-
والسلم على يوم ولدت ومو اموت ويوم ابعث حيا
অর্থ: ‘আমার প্রতি সালাম যেদিন আমি বিলাদত শরীফ লাভ করি, যে দিন আমি বিছাল শরীফ লাভ করি এবং যেদিন পুনরুত্থিত হবো।’ (সূরা মারইয়াম, আয়াত শরীফ-৩৩)
৩) হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে- রাসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
حياتى خير لكم ومماتى خير لكم
অর্থ: ‘আমার হায়াত-মউত সব অবস্থাই তোমাদের জন্য কল্যাণ বা খায়ের-বরকতের কারণ।’ (কানযুল উম্মাল)
৪) হাদীছ শরীফ-এ আরো বর্ণিত রয়েছে- হুযূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
ان من افضل ايامكم يوم الجمعة فيه خلق ادم وفيه قبض
অর্থ: ‘তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে উত্তম দিন হচ্ছে জুমুআর দিন। এ দিনে হযরত আদম আলাইহিস সালাম পয়দা হয়েছেন এবং এ দিনেই তিনি বিছাল (ইন্তাকাল) লাভ করেছেন।’ (নাসায়ী শরীফ)
অতঃপর হুযূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
ان هذا يوم جعله الله عيدا
অর্থ: ‘এ জুমুআর দিন হচ্ছে এমন একটি দিন যে দিনকে আল্লাহ ঈদের দিন সাব্যস্ত করেছেন।’ (ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমদ)
প্রতিভাত হলো যে, জুমুআর দিনটি আল্লাহ তায়ালা উনার নবী ও রসূল হযরত আদম আলাইহিস সালাম- এর বিছাল (ইন্তেকাল) এর দিন হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ স্বয়ং নিজেই সে দিনটিকে খুশির দিন হিসেবে নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। তাহলে কি আল্লাহ পাক অন্যায় করেছেন? নাঊযুবিল্লাহ!
অতএব, শরীয়তের দলীল-আদিল্লাহ দ্বারা নবীজীর বিছাল শরীফ-এর দিন ১২ই রবীউল আউয়াল শরীফকে কারো পক্ষেই শোকের দিন হিসেবে সাব্যস্ত করা সম্ভব নয়। উপরন্তু মৃত্যুর তিন দিনের পর শোক করা সম্পূর্ণ হারাম।
রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : ‘ যে আল্লাহ এবং পরকালে বিশ্বাস করে, সে যেন তিন দিনের অতিরিক্ত শোক পালন না করে, তবে স্বামী মারা গেলে স্ত্রী চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে। (বুখারি, মুসলিম)।
তাই আখিরী হুযূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিলাদত (জন্ম) শরীফকে নিয়ামত মনে করে উক্ত দিনে ঈদ বা খুশি প্রকাশ করাই হচ্ছে প্রত্যেক উম্মতের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

নবীজির গায়েবের খবর জানতেন

অনেকেই দাবি করে, আখেরী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাকি গায়েবের খবর বা ভবিষ্যত সম্পর্কে জানতেন না। কিন্তু সহিহ বুখারী ও মুসলিম গ্রন্থে শেষ জামানায় হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কিত হাদীসগুলো লক্ষ্য করুন-
১) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
“সেদিন কেমন হবে তোমাদের অবস্থা যেদিন তোমাদের মধ্যে ঈসা ইবনে মারইয়াম নেমে আসবেন এবং তোমাদের মধ্যে হতেই একজন ইমাম হবেন’’।
অর্থাৎ তোমাদের সাথে জামা'তে শরীক হয়ে ঈসা আলাইহিস সালাম তোমাদের ইমামের পিছনে নামায আদায় করবেন। (সূত্র: বুখারী, অধ্যায়ঃ আহাদীছুল আম্বীয়া, মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ঈমান)
২) জাবের রদ্বিয়াল্লাহু বলেনঃ আমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে বলতে শুনেছি, “আমার উম্মাতের একটি দল হকের উপর বিজয়ী থেকে কিয়ামত পর্যন্ত লড়াই করতে থাকবে। অতঃপর ঈসা ইবনে মারইয়াম অবতরণ করবেন। তাকে দেখে মুসলমানদের আমীর বলবেনঃ আসুন! আমাদেরকে নিয়ে নামাযের ইমামতি করুন। ঈসা আলাইহিস সালাম বলবেনঃ না; বরং তোমাদের আমীর তোমাদের মধ্যে হতেই। এই উম্মাতের সম্মানের কারণেই তিনি এ মন্তব্য করবেন’’। (সূত্র: মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ঈমান)
আমার কথা হচ্ছে, আখেরী নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি গায়েব বা ভবিষ্যতের কথা নাই জানেন, কিংবা মহান আল্লাহ তায়ালা উনাকে নাই জানান তবে এ হাদীসগুলো তিনি বললেন কিভাবে ??? এ ব্যাপারে সবার মতামত আশা করছি।

হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কারণে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের হাত থেকে রক্ষা


তখন কা’বা গৃহের শুধু চারটি দেয়াল বিদ্যমান ছিল। তার ওপর কোনো ছাদ ছিল না। দেয়ালগুলোও বড়জোর মানুষের দৈর্ঘ্য সমান উঁচু ছিল। গৃহটি ছিল খূব নীচু জায়গায়। শহরের সমস্ত পানি গড়িয়ে সেদিকে যেতো। ফলে পানি প্রতিরোধ করার জন্যে বাঁধ দেয়া হতো। কিন্তু পানির চাপে বাঁধ বারবার ভেঙ্গে যেতো এবং গৃহ প্রাঙ্গনে পানি জমে উঠতো। এভাবে গৃহটি দিন দিন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছিল। তাই গৃহটি ভেঙ্গে ফেলে একটি নতুন মজবুত গৃহ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হল। সমগ্র কুরাইশ খান্দান মিলিতভাবে নির্মাণ কাজ শুরু করলো । কেউ যাতে এ সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য বিভিন্ন গোত্রের লোকেরা গৃহের বিভিন্ন অংশ ভাগ করে নিলো। কিন্তু কা’বা গৃহের দেয়ালে যখন ‘হাজরে আসওয়াদ’ স্থাপনের সময় এলো তখন বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে তুমুল ঝগড়া বেধে গেলো।
প্রত্যেক গোত্রই দাবি করছিল যে, এ খেদমতটি শুধু তারাই আঞ্জাম দেবার অধিকারী্। অবস্থা এতদূর গড়ালো যে, অনেকের তলোয়ার পর্যন্ত কোষমুক্ত হলো। চারদিন পর্যন্ত এই ঝগড়া চলতে থাকলো। পঞ্চম দিন আবু উম্মিয়া বিন মুগিরা নামক এক প্রবীণ ব্যক্তি প্রস্তাব করেন যে,আগামীকাল প্রত্যুষে যে ব্যক্তি এখানে সবার আগে হাজির হবে,এই মিমাংসার জন্যে তাকেই মধ্যস্থ নিয়োগ করা হবে। সে যা সিদ্ধান্ত করবে, তাই পালন করা হবে। সবাই এ প্রস্তাব মেনে নিলো।
পরদিন আল্লাহর কুদরতে সর্বপ্রথম যে ব্যক্তির ওপর সবার নজর পড়লো, তিনি আখেরী নবী হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম । ফয়সালা অনুযায়ী তিনি হাজরে আসওয়াদ স্থাপন করতে ইচ্ছুক প্রতিটি খান্দান কে একজন করে প্রতিনিধি পাঠাতে বললেন্ । অতঃপর একটি চাদর বিছিয়ে তিনি নিজ হাতে পাথরটিকে তার ওপর রাখলেন এবং বিভিন্ন গোত্রের প্রতিনিধিগণকে চাদরের প্রান্ত ধরে পাথরটিকে ওপরে তুলতে বললেন। চাদরটি তার নির্দিষ্ট স্থান বরাবর পৌছলে হাজরে আসওয়াদকে যথাস্থানে স্থাপন করলেন। এভাবে তিনি একটি সংঘর্ষের সম্ভাবনা বিনষ্ট করে দিলেন। (সুবহানাল্লাহ)

চারজন বিশিষ্ট সাহাবীর মীলাদুন্নবীর পক্ষে বাণী

আজকে আপনাদের একটা গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের লিঙ্ক দেবো, এ বইটিতে স্পষ্ট দলিল পাওয়া যায় প্রথম চারজন খলিফা সাহাবী’র বাণী, যেখানে উনারা নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র বিলাদত (জন্ম) ১২ই রবিউল আউয়াল শরীফ উপলক্ষে মাহফিল করাকে অতি ফজিলতপূর্ণ আমল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া বিশিষ্ট তবেয়ীন ও তাবে' তাবেয়ীনগণগণ এবং বড় বড় আলেমগণও এ পবিত্র দিবসটির গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন।
বইটির নাম ‘আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম’। বইটির লেখক বিশ্বখ্যাত ইমাম মুহাদ্দিছ, মুফাসসির হযরতুল আল্লামা আহমদ শিহাবুদ্দীন হাইতামী (হাইছামী) শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
যেমন বইটিতে আছে:
১) হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন -
“যে ব্যক্তি মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষ্যে এক দিরহাম ব্যয় করবে সে জান্নাতে আমার বন্ধু হয়ে থাকবে।” (সুবহানাল্লাহ্)।
২) হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন –
“যে ব্যক্তি মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে (বিলাদত দিবসকে) বিশেষ মর্যাদা দিল সে মূলতঃ ইসলামকেই পূনরুজ্জীবিত করল।“ (সুবহানাল্লাহ্)
৩) হযরত ওসমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন –
“যে ব্যক্তি মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষ্যে এক দিরহাম খরচ করল সে যেন বদর ও হুনায়েন যুদ্ধে শরীক থাকল।” (সুবহানাল্লাহ্)
৪) আহযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন –
“যে ব্যক্তি মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি বিশেষ মর্যাদা প্রদান করল সে ব্যক্তি অবশ্যই ঈমান নিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিবে এবং বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (সুবহানাল্লাহ্)
মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রত্যেককে সাহাবীগণের অনুসরণ অনুকরণে আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
বইটিতে পিডিএফ লিঙ্ক: http://goo.gl/naL5uN

নবীজি হলেন সমস্ত সৃষ্টি মূল

আপনি জানেন- সৃষ্টির মূল কে?
আল্লাহ সুবহানু তায়ালা হাদীছে কুদসীতে বলেন-
“হে আমার হাবীব! আমি যদি আপনাকে সৃষ্টি না করতাম তাহলে কোনো কিছুই সৃষ্টি করতাম না।”
অর্থাৎ সমস্ত কিছু সৃষ্টি হয়েছে আখেরী নবী হযরত মুহম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য।
বলুন সুবহানাল্লাহ!

আল্লাহ পাকের সর্বপ্রথম সৃষ্টি

পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে-
عن حضرت ميسرة الفجر رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم كنت نبيا وادم بين الروح والـجسد.
অর্থ : হযরত মাইসারাতুল ফজর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি তখনও নবী ছিলাম, যখন হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম রূহ ও শরীরে ছিলেন। (তারীখে বুখারী, মুসনাদে আহমদ, আলহাবী, ইত্তেহাফুচ্ছদাত, তাযকেরাতুল মাউজুয়াত, কানযুল উম্মাল/৩১৯১৭, দায়লামী/৪৮৫৫, ত্ববরানী, আবূ নঈম, মিশকাত)
অন্য হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে-
عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قالوا يا رسول الله صلى الله عليه وسلم متى وجبت لك النبوة قال وادم بين الروح والـجسد.
অর্থ : হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, (একদা) হযরত ছাহাবা-ই- কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি কখন থেকে নবী? উত্তরে আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “যখন হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম রূহ ও শরীর মুবারক-এ ছিলেন, তখন থেকেই আমি নবী। (তিরমিযী, মিশকাত/৫১১)

আমাদের নবীজি পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত প্রত্যক্ষ করেছেন

হযরত সাওবান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত
রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন- মহান আল্লাহ তালায়া সমস্ত পৃথিবীকে ভাঁজ করে আমার সামনে রেখে দিয়েছেন। অতঃপর আমি এর পূর্ব দিগন্ত হতে পশ্চিম দিগন্ত পর্যন্ত দেখে নিয়েছি। সুবহানাল্লাহ । - [সহীহ মুসলিম- ৬৯৯৪]
উপরের হাদীস খানা দেখে আমি হতবাক হই। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রাণপ্রিয় নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কত মান-মর্যাদা দিয়েছেন, তিনি একবারেই পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত প্রত্যক্ষ করেছেন।
আসুন সবাই বলি-
সুবহানাল্লাহ। আল্লাহু আকবর ।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অবশ্যই ‘নূরে মুজাসসাম’ বা ‘আপাদমস্তক নূর’


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ হতে এক মহান পবিত্র নূর মুবারক এসেছেন এবং একখানা সুস্পষ্ট পবিত্র কিতাব মুবারক এসেছেন।’
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম আমার নূর মুবারক সৃষ্টি করেন। আর সেই নূর মুবারক থেকেই সবকিছু সৃষ্টি করেন।’
সম্মানিত আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনার ছহীহ আক্বীদা হলো-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অবশ্যই ‘নূরে মুজাসসাম’ বা ‘আপাদমস্তক নূর’।
যারা ‘মাটির তৈরি’ বলে বিশ্বাস করে ও করবে এবং প্রচার করে ও করবে, তারা বাতিল ৭২ ফিরক্বার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে গুমরাহ ও জাহান্নামী।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ’ উনার ১৫ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ হতে এক মহান পবিত্র নূর মুবারক এসেছেন এবং একখানা সুস্পষ্ট পবিত্র কিতাব মুবারক এসেছেন।”
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম আমার পবিত্র নূর মুবারক সৃষ্টি করেন। আর সেই পবিত্র নূর মুবারক থেকেই সবকিছু সৃষ্টি করেন।”
উল্লিখিত পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে বর্ণিত ‘নূর’ শব্দ দ্বারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেই বুঝানো হয়েছে, যেহেতু তিনি ‘আপাদমস্তক নূর বা নূর মুবারক উনার দ্বারা তৈরি।’ সুবহানাল্লাহ!
‘তাফসীরে আবী সাউদ’ কিতাব উনার ৩য় খ- ১৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, “বর্ণিত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার প্রথম শব্দ অর্থাৎ ‘পবিত্র নূর মুবারক’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলেন- “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম তিনি; আর দ্বিতীয় শব্দ অর্থাৎ ‘কিতাবুম মুবীন’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলেন- পবিত্র কুরআন শরীফ।” সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে, “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হয়ে যাক। আপনি আমাকে জানিয়ে দিন যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম কোন্ জিনিস সৃষ্টি করেছেন? তিনি বলেন, হে হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি সবকিছুর পূর্বে আপনার নবী উনার নূর মুবারক সৃষ্টি করেছেন। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার প্রথম সৃষ্টিই হচ্ছেন ‘নূরে হাবীবী’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জিসিম (দেহ) মুবারক সৃষ্টির উপাদান হচ্ছে- “মূল নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” যে ‘নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ তিনি হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার থেকে হযরত খাজা আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যম হয়ে হযরত মা আমিনা আলাইহাস সালাম উনার মধ্যে সম্পূর্ণ কুদরতীভাবে স্থান মুবারক নিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
মূল কথা হলো- পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের অসংখ্য দলীল-আদিল্লাহ দ্বারাই প্রমাণিত যে, আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘নূরে মুজাসসাম’ তথা আপাদমস্তক নূর মুবারক। আর এটাই সম্মানিত আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের ছহীহ আক্বীদা। কিন্তু যারা ‘মাটির তৈরি’ বলে বিশ্বাস করে ও করবে এবং প্রচার করে ও করবে, তারা বাতিল ৭২ ফিরক্বার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে গুমরাহ ও নারি অর্থাৎ জাহান্নামী হবে।

ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন তথা খুশি প্রকাশ করা মুসলিম উম্মাহর কর্তব্য

প্রকৃতপক্ষে ২৪ ঘন্টাই ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন তথা খুশি প্রকাশ করা মুসলিম উম্মাহর কর্তব্য ।
হাদীছ শরীফে মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اُبَـىِّ بْنِ كَعْبٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنّـِىْ أُكْثِرُ الصَّلٰوةَ عَلَيْكَ فَكَمْ اَجْعَلُ لَكَ مِنْ صَلٰوتِىْ فَقَالَ مَا شِئْتَ قُلْتُ اَلرُّبُعَ قَالَ مَا شِئْتَ فَاِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَّكَ. قُلْتُ اَلنّـِصْفَ قَالَ مَا شِئْتَ فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَّكَ قُلْتُ فَالثُّلُثَيْنِ قَالَ مَا شِئْتَ فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَّكَ قُلْتُ اَجْعَلُ لَكَ صَلٰوتِىْ كُلَّهَا قَالَ اِذًا تُكْفٰى هَمُّكَ وَيُكَفَّرُ لَكَ ذَۢنبُكَ .
অর্থ: “হযরত উবাই ইবনে কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নিশ্চয়ই আমি আপনার উপর বেশি বেশি ছলাত পাঠ করতে চাই, তাহলে আমি কী পরিমাণ সময় আপনার উপর ছলাত মুবারক পাঠ করবো? (অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমি কত ঘণ্টা আপনার উপর ছলাত মুবারক পাঠ করবো?) আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনার যতক্ষণ ইচ্ছা। আমি বললাম, এক চতুর্থাংশ সময় (তথা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৬ ঘণ্টা) আপনার উপর ছলাত মুবারক পাঠ করবো? আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনার যতক্ষণ ইচ্ছা, আপনি করুন। তবে যদি এর চেয়ে বেশি সময় করেন, তাহলে তা আপনার জন্য উত্তম হবে। আমি বললাম, তাহলে আমি অর্ধেক সময় (তথা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘণ্টা) আপনার উপর ছলাত মুবারক পাঠ করবো? আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনার যতক্ষণ ইচ্ছা, আপনি করুন। তবে যদি এর চেয়ে বেশি সময় করেন, তাহলে তা আপনার জন্য উত্তম হবে। আমি বললাম, তাহলে আমি আমার তিন ভাগের দুই ভাগ সময় (তথা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৬ ঘণ্টা) আপনার উপর ছলাত মুবারক পাঠ করবো ? আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনার যতক্ষণ ইচ্ছা, আপনি করুন। তবে যদি এর চেয়ে বেশি সময় করেন, তাহলে তা আপনার জন্য উত্তম হবে। তখন আমি বললাম, তাহলে আমি আমার সম্পূর্ণ সময় (তথা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২৪ ঘণ্টাই) আপনার উপর ছলাত মুবারক পাঠ করবো? তখন আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, যদি আপনি এরূপ করতে পারেন, তাহলে আপনার সমস্ত নেক মাক্বছূদগুলো পূর্ণ করে দেয়া হবে এবং আপনার সমস্ত গুনাহখতাগুলো ক্ষমা করে দেয়া হবে।” সুবহানাল্লাহ!
দলীলঃ
√ তিরমিযী শরীফ,
√ মুস্তাদরকে হাকিম শরীফ ২/৪২১,
√ শুয়াবুল ঈমন শরীফ ৩/১৩৮,
√ মিশকাত শরীফ,
√ জামিউল আহাদীছ শরীফ ৩২/৩৭৩,
√ জামিউল উছূল শরীফ ১১/৮৪৬৭,
√ রিয়াদুছ ছালিহীন ১/৩৪৭ ইত্যাদি

মক্কা এবং মদীনা শরীফে ঈদে মিলাদুননবী পালন


মক্কাবাসীদের মিলাদ পালন -
ইমাম শামসুদ্দীন সাখাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি সূত্রে মোল্লা আলী ক্বা্রী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, মক্কা বাসীরা অধিকতর মঙ্গল ও বরকতের অধিকারী।এই পবিত্র নগরীর দিকে মুসলিম মিল্লাত অতি আগ্রহের মাধ্যমে অগ্রসর হও্য়ার চেষ্টা করে।এটার কারন এই যে,এখানে হুজুর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মৌলুদ শরীফ(পবিত্র জন্মস্থান) বিদ্যমান।এ পবিত্র জন্মস্থানটি তৎকালীন ‘সুকুল লাইল’নামে খ্যাত ছিল।যা বর্তমানে সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের পূর্ব পাশে ‘মাকতবা আল মক্কা আল মুকাররমা’ নামে দালান হিসেবে অবস্থিত।
উক্ত পবিত্র স্থানে লোকেরা দলে দলে অতি আগ্রহের সাথে মনোবাসনা নিয়ে যিয়ারতের উদ্দেশ্যে গমন করতেন।বিশেষ করে ১২ ই রবিউল আউয়াল শরীফে ঈদে মিলাদুন্নাবী’র দিনে অনেক গুরুত্বসহকারে লোকজন মাহফিলের আয়োজন করতেন।ধনী-গরীব,আমীর-প্রজা সকলেই এতে অংশগ্রহন করতেন। তৎকালীন মক্কা নগরীর কাযী এবং প্রখ্যাত আলেম আল বুরহানী আশ-শাফেয়ী যিয়ারতকারী ও ঈদে মিলাদুন্নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাহফিলে অংশগ্রহনকারীদেরকে তাবাররুক বা খানা খাওয়ানোর ব্যাবস্থা করতেন।আর ঈদে মিলাদুন্নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে হেযাযের আমীর তাঁর বাসভবনে হেযাযের নাগরীকদের জন্য ঈদে মিলাদুন্নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে বিশাল খাবারের আয়োজন করতেন এবং এই নিয়ত করতেন যে,এই মিলাদে পাকের দ্বা্রা তাঁর অনেক মুসিবত দূরীভূত হবে।তাঁর পরবর্তীতে তাঁর উত্তরসূরী পূত্র “আল-জমালী” এই মাহফিলের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছিলেন।"
দুই.‘মাহনামা তরিক্বত’ লাহোর পত্রিকায় মক্কা শরীফে জশনে ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের বর্ণনাঃ-
১৯৭১ সালের জানুয়ারী মাসে ‘মাহনামা তরিক্বত’ লাহোর পত্রিকার রিপোর্টের মধ্যে মক্কা শরীফের জশনে ঈদে মিলাদুন্নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের বর্ণনা এভাবে দেন যে, “হুজুর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শুভাগমন দিবসে মক্কা শরীফের মধ্যে বড় ধরনের আনন্দ উৎসব পালন করা হয়।ঐ দিবসকে ‘ঈদে ইয়াওমে বেলাদতে রাসূল’ বলা হয়।ঐ দিন চারিদিকে পতাকা উড়তে থাকে।হেরেম শরীফের গভর্ণর এবং হেযাযের কমান্ডারসহ আরো অন্যান্য কর্মকর্তাগণ আভিজাত্য পোশাক পরিধান করে মাহফিলে উপস্থিত হতেন এবং হুজুর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ‘পবিত্র জন্মস্থানে’-এ গিয়ে কিছুক্ষন নাত-গজল পরিবেশন শেষে ফিরে যেতেন।হেরেম শরীফ থেকে ‘মৌলিদুন্নবী’(পবিত্র জন্মস্থান) পর্যন্ত দুই সাড়িতে আলোকসজ্জা করা হত।ঐ মৌলিদ শরীফের স্থান নূরের আলোর ভূমিতে পরিণত হত এবং মৌলিদ শরীফের স্থানে সু-কন্ঠে প্রিয় নবীর মিলাদ পালন করত।এ অবস্থায় রাত দুইটা পর্যন্ত মিলাদখানী,নাত এবং বিভিন্ন খত্‌ম পড়ত।দলে দলে লোকজন এসে নাত পরিবেশন করত।১১ রবিউল আউয়াল শরীফের মাগরীব হতে ১২ ই রবিউল আউয়াল শরীফের আসর পর্যন্ত ২১ টি তোপধ্বনি করা হত।মক্কা শরীফের ঘরে ঘরে মিলাদুন্নাবী উপলক্ষে খুশি আনন্দ এমনকি স্থানে স্থানে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হত।”
মদিনাবাসীর মিলাদ পালনঃ-
মক্কাবাসীদের ন্যায় মদীনা পাকের অধিবাসীরাও ঈদে মিলাদুন্নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাহফিলের আয়োজন করতেন।
হাজী এমদাদুল্লাহ মুহাজের মক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি কর্তৃক মিলাদ পালন-
দেওবন্দীদের পীর-মুর্শিদ হাজী এমদাদুল্লাহ মুহাজের মক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “আমাদের ওলামা মৌলুদ শরীফ সম্পর্কে অনেক বিতর্ক শুরু করে দিয়েছেন।এর পরেও ওলামায়ে কেরামের এ কাজ(মিলাদুন্নাবী পালন)বৈধ হবার পক্ষে মত দিয়েছেন।যখন বৈধ হওয়ার কথা আছে,কেন এ (দেওবন্দী,তাবলীগী) আলেমরা এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।আমাদের হেরেমাইন (মক্কা ও মদিনা শরীফ)এর অনুসরন যথেষ্ট।
তিনি আরো বলেন,দুই হেরেমের অধিবাসীরা যে মিলাদ শরীফ পালন করেন তা আমাদের জন্য দলীল হবার ব্যাপারে যথেষ্ট।
তিনি আরো বলেন, “ফকীরের(নিজের দিকে সম্বোধন করে বলেন) মাযহাব হল মিলাদুন্নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মাহফিলে অংশগ্রহন করা।শুধু তাই নয় বরকত হাসিলের উদ্দেশ্যে আমি প্রতি বছর তা অত্যন্ত জাঁকজমকের সাথে পালন করি এবং সালাত-সালামের সময় কিয়ামের মধ্যে অনেক রুহানী স্বাদ পেতে থাকি।”
হযরত আব্দুল হক দেহলভীর রহমাতুল্লাহি আলাইহি কর্তৃক মিলাদ পালন
পাক ভারতে হাদীস চর্চার অন্যতম মুহাদ্দীস হযরত আব্দুল হক মুহাদ্দেস দেহলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর প্রসিদ্ধ কিতাব ‘মাসাবাতা বিস্‌ সুন্নাহ’ এর ৮২ পৃষ্ঠার মধ্যে জশনে ঈদে মিলাদুন্নাবী এর পালন বৈধতা ও উপকারীতার অনেক দলীল ও প্রমাণ প্রদান করেছে।শেখ দেহলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি যিনি পাক ভারত উপমহাদেশে সুন্নী নয় শুধু ,দেওবন্দীদের নিকট গ্রহনযোগ্য ব্যক্তিত্ব।তাঁর সম্পর্কে দেওবন্দীদের বুযূর্গ আশ্রাফ আলী থানভী বর্ণনা করেন, “শাহ আব্দুল হক দেহলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি প্রত্যেক দিন নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা এর দিদার লাভে ধন্য হতেন।”
সূত্র সমূহঃ
*আল মওরেদুর রবী ১৫ পৃষ্ঠা কৃত মোল্লা আলী ক্বারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি।
*শামায়েলে এমদাদিয়া ৮৭,৮৮,৯৪ পৃষ্ঠা কৃত হাজী এমদাদুল্লাহ মুহাজেরে মক্কী।
*ফয়সালা-এ হাফত মাসায়েল ৯ পৃষ্ঠা কৃত হাজী এমদাদুল্লাহ মুহাজেরে মক্কী।
*শেফাউল সায়েল কৃত শাহ আব্দুল গনি দেহলভী।
*হাওলুল ইহতেফাল বেযিকরা আল মৌলেদিন নববী আল-শরীফ কৃ শেখ মুহাম্মদ আলভী মালেকী মক্কী রহমাতুল্লাহি আলাইহি(ইন্তেকাল ১৪২৫হিজরী২০০৪ইংরেজী)

ক্যালিওগ্রাফীর লিখা

কাছীদা শরীফ “বালাগাল উলা বিকামালিহী”

বালাগাল উলা বিকামালিহী...................
এ কাছীদা শরীফ খানা সবারই জানা আছে।
লিখক হযরত শেখ সা’দী রহমতুল্লাহি আলাইহি.

আরশে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাম

পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن ابن عباس رضى الله تعالى عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اوحى الله تعالى الى عيسى عليه السلام يا عيسى عليه السلام امن بمحمد صلى الله عليه وسلم وامر بن ادركه من امتك ان يؤمنوا به فلولا محمد صلى الله عليه وسلم ماخلقت ادم عليه السلام ولولا محمد صلى الله عليه وسلم ماخلقت الجنة والنار. ولقد خلقت العرش على الماء فاضطرب فكتبت عليه "لااله الا الله محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم فسكن . (مستدرك)
অর্থ : “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা হতে বর্ণিত তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি ওহী মুবারক করলেন, হে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম! আপনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ঈমান আনুন এবং আপনার উম্মতের মধ্যে ওই সকল সন্তানদের প্রতি নির্দেশ করুন উনাকে যারা পাবে তারাও যেন উনার প্রতি ঈমান আনে। কেননা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যদি (সৃষ্টি) না হতেন তাহলে আমি হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকেও সৃষ্টি করতাম না এমনকি বেহেশত ও দোযখও সৃষ্টি করতাম না। আর আমি যখন সম্মানিত আরশ মুবারক সৃষ্টি করলাম পানির উপর তখন তা দুলতেছিল অতঃপর আমি তার উপর লিখে দিলাম, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” তখন তা স্থির হয়ে যায়।” (মুস্তাদরেকে হাকিম শরীফ)

হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সৃষ্টি করা না হলে কিছু সৃষ্টি হতনা----


১. এ সম্পর্কে হাদীছে কুদসী শরীফ-এ উল্লেখ করা হয়েছে,
كنت كنزا مخفيا فاحببت ان اعرف فخلقت الخلق لاعرف.
অর্থ: “আমি গুপ্ত ছিলাম। আমার মুহব্বত হলো যে, আমি জাহির হই। তখন আমি আমার (রুবুবিয়্যত) জাহির করার জন্যই সৃষ্টি করলাম মাখলূকাত (আমার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে)।”
দলীল -
আল মাকাসিদুল হাসানা/ ৮৩৮,
কাশফূল খিফা/২০১৩,
আসনাল মুত্বালিব/১১১০,
তমীযুত তীব/১০৪৫,
আসরারুল মারফুআ/৩৩৫,
তানযিয়াতুশ শরীয়াহ ১/১৪৮,
আদ্দুরারুল মুন্তাছিরা/৩৩০,
আত তাযকিরা ফি আহাদীসিল মুশতাহিরা/১৩৬,
সিররুল আসরার, কানযুল উম্মাল)
২. হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্নিত,
عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لما أذنب آدم صلى الله عليه وسلم الذنب الذي أذنه رفع رأسه إلى العرش فقال أسألك حق محمد ألا غفرت لي فأوحى الله إليه وما محمد ومن محمد فقال تبارك اسمك لما لما خلقتني رفعت رأسي إلى عرشك فإذا هو مكتوب لا إله إلا الله محمد رسول الله فعلمت أنه ليس أحد أعظم عندك قدرا ممن جعلت اسمه مع اسمك فأوحى الله عز وجل إليه يا آدم إنه آخر النبيين من ذريتك وإن أمته آخر الأمم من ذريتك ولولاه يا آدم ما خلقتك
অনুবাদ-
“ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, হযরত আদম আলাইহিস সালাম যখন দুনিয়াতে তাশরীফ আনেন তখন তিনি সবসময় কান্নাকাটি করতেন। একদিন তিনি আল্লাহর দরবারে আরজ করলেন, হে আল্লাহ! মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ওসীলায় আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। তখন ওহী নাজীল হয়- মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আপনি কিভাবে চিনলেন, আপনি তো উনাকে কখনো দেখেননি? তখন তিনি বললেন-যখন আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আমার অভ্যন্তরে রুহ প্রবেশের পর মাথা তুলে আমি আরশে লেখা দেখলাম- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।
তখনই আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, মুহাম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চেয়ে সর্বাধিক প্রিয় ব্যক্তিত্ব আর কেউ নেই যার নাম আপনি স্বীয় নামের সাথে রেখেছেন। তখন অহী নাজীল হল-তিনি সর্বশেষ নবী। আপনার সন্তানদের অন্তর্ভূক্ত হবে। যদি তিনি না হতেন, তাহলে আপনাকেও সৃষ্টি করা হতো না।“
Reference :-
★ ইমাম বায়হাকী : দালায়েলুন নাবায়িয়্যাহ : ৫/৪৮৯ পৃ
★ ইমাম হাকেম নিশাপুরীঃ মুসতাদরাকে হাকেম - ২/৪৮৬ পৃ : হাদিস : ৪২২৮
★ ইমাম হাকেম নিশাপুরীঃ আল মাদখাল : ১/১৫৪
★ তাবরানী : আল মুজামুল আওসাত : ৬/৩১৩ : হাদীস নং-৬৫০২
★ তাবরানী : আল মুজামুস সগীর : ২/১৮২ : হাদীস নং-৯৯২,
★ তাবরানী : মুজমায়ে কবীর’
★ ইমাম দায়লামী : আল মুসনাদিল ফেরদাউস : ৫/২২৭
★ ইমাম আজলুনী : কাশফুল কাফা : ১/৪৬ ও ২/২১৪
★ আবূ নুয়াইম : ‘হিলইয়াতুল আউলিয়া,
★ আল্লামা সুবকী -শেফাউস সিকাম
★ ইবনে আসাকির : নিজ ‘তারিখে দিমাশক’: ৭/৪৩৭ পৃ
★ ইবনুল জাওজী : আল ওয়াফা বি আহওয়ালিল মোস্তফা : ৩৩
★ ইবনুল জাওজী : বয়ানুল মীলাদুন্নবী : ১৫৮
★ ইবনে কাসীর : আল বিদায়া ওয়ান নেহায়া : ১/১৮ পৃ
★ ইবনে হাজর হায়সামী : মাযমাউজ যাওয়ায়েদ : ৮/২৫৩
★ শিহাবউদ্দীন খাফাজী : ‘নাসীম আর-রিয়াদ’
★ ইমাম সুয়ুতী : কাসায়েসুল কুবরা : ১/১২ : হাদিস ১২
★ ইমাম সুয়ুতী : আদ দুররে মানসুর : ১/১৪২
★ আল্লামা কাসতাল্লানী -আল মাওয়াহেবুল লাদুনিয়্যাহ : ১/ ৮২ ও ২/৫২৫
★ ইমাম যুরকানী : শরহে মাওয়াহিব : ১/১৭২
★ ইমাম হালাবী : সীরাতে হালাবিয়্যাহ : ১/৩৫৫
★ মুহাদ্দিসে শাহ আব্দুল আজিজ দেহলভী : তফসীরে আজিযী : ১/১৮৩
★ ইমাম নাবহানী : শাওয়াহিদুল হক : ১৩৭
★ ইমাম নাবহানী : আনোয়ার-ই-মোহাম্মাদীয়া : ৯-১০
★ ইমাম নাবহানী : জাওয়াহিরুল বিহার : ২/১১৪
★ ইমাম নাবহানী : হুজ্জাতুল্লাহি আলাল আলামিন : ৩১ পৃ ও ৭৯৫ পৃ
(মাকতুবাত এ তাওফিক হিয়্যাহ, কাহেরা,মিশর)
★ আল্লামা শফী উকারবী : যিকরে হাসীন : ৩৭
★ আশরাফ আলী থানবী : নুশরাত্বীব : ২৮
★ ফাযায়েলে আমাল, ৪৯৭, উর্দু এডিশন
৩. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা থেকে বর্ণনা করেন, যিনি বলেন: “আল্লাহ পাক হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম-কে বলেছেন, ওহে ঈসা! হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর প্রতি ঈমান আনুন এবং আপনার উম্মতকেও তা করতে বলুন । রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম না হলে আমি আদমকে সৃষ্টি করতাম না, বেহেশত বা দোযখও সৃষ্টি করতাম না।”
Reference :
★ ইমাম হাকিম নিশাপুরী : আল মোসতাদরেক’ : ২/৬৭১ : হাদিস ৪২২৭
★ ইমাম দায়লামী : আল মুসনাদিল ফেরদাউস : ৫/২৪২
★ ইমাম ইবনে সাদ : তানাকাতুল কোবরা
★ ইমাম তাকিউদ্দীন সুবকী : ‘শিফাউস্ সিকাম ৪৫
★ শায়খুল ইসলাম আল-বুলকিনী : ফতোওয়ায়ে সিরাজিয়া ১/১৪০
★ ইবনে হাজর রচিত ‘আফদালুল কোরা
★ আবূ নুয়াইম : ‘হিলইয়াতুল আউলিয়া,
★ ইমাম নাবহানী : জাওয়াহিরুল বিহার : ২/১১৪ ও ৪/১৬০
★ ইবনে কাসীর : কাসাসুল আম্বিয়া : ১/২৯ পৃ
★ ইবনে কাসীর : সিরাতে নববিয়্যাহ : ১/৩২০
★ ইবনে কাসীর : মুজিজাতুন্নবী (সা) : ১/৪৪১
★ ইবনে হাজর আসকালানি : লিসানুল মিযান : ৪/৩৫৪
★ ইমাম যাহাবী : মিজানুল ইতিদাল : ৫/২৯৯, রাবী নং ৬৩৩৬
★ ইবনে হাজর হায়সামী : শরহে শামায়েল : ১/৪২
★ ইমাম যুরকানী : শরহে মাওয়াহিব : ১/১২/২২০
★ আবু সাদ ইব্রাহীম নিশাপুরী : শরহে মোস্তফা : ১/১৬৫
★ ইমাম সুয়ুতী : কাসায়েসুল কুবরা : ১/১৪ : হাদিস ২১
★ ইমাম ইবনে হাইয়্যান : ‘তাবকাত আল-ইসফাহানী : ৩/২৮৭
★ কানযুল উম্মাল- হাদীস ৩২০২২
★ মোল্লা আলী কারী : মাওজুয়াতুল কবীর : ১০১
★ মোল্লা আলী কারী : মাওজুয়াতুল কবীর : ১/২৯৫, হাদিস : ৩৮৫
★ ইবনে শামী সালেহ : সুবলুল হুদা ওয়ার রাশাদ : ১২/৪০৩
হাদিসের মান পর্যালোচনা :
★ ইমাম দায়লামী : হাদিসটির মান সনদের দিক থেকে হাসান।
আল মুসনাদিল ফেরদাউস : ৫/২৪২
৪. হযরত সালমান ফারিসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন: “হযূর পূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাছে জিবরীল আমীন আলাইহিস সালাম এসে পৌঁছে দেন আল্লাহর বাণী, ‘(হে রাসূল) আপনার চেয়ে অধিক সম্মানিত আর কাউকেই আমি সৃষ্টি করি নি। আমি বিশ্বজগত ও এর মধ্যে যা কিছু আছে তার সবই সৃষ্টি করেছি যাতে তারা জানতে পারে আপনার মহান মর্যাদা সম্পর্কে। আমি এই বিশ্বজগত সৃষ্টি করতাম না, যদি আপনাকে সৃষ্টি না করতাম’।”
Reference :
★ ইবনে আসাকির : তারিখে দামেস্ক : ৩/৫১৭
★ মোল্লা আলী কারী : মাওজুয়াতুল কবীর : ১০১
★ ইমাম যুরকানী : শরহে মাওয়াহিব : ১/১৮২
★ ইমাম নাবহানী : জাওয়াহিরুল বিহার : ২/২৮৯
★ কাজী আয়াজ : শিফা শরীফ : ২/১০৫

Friday, December 11, 2015

মীলাদ শরীফ কি? মীলাদ শরীফ ও ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মধ্যে কি সম্পর্ক?


জবাবঃ স্মরণীয় যে, মীলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম শরীফ-এর মূল উদ্দেশ্য হলো সংক্ষেপে  হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছানা-ছিফত ও বিলাদত শরীফ সম্পর্কে আলোচনা করা এবং হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি ছলাত-সালাম পাঠ করা।

এক কথায় মীলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম শরীফ বলতে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত ও  হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  ছানা-ছিফত, তা’রীফ, প্রশংসা, উনার মু’জিযা বর্ণনা, বিলাদত শরীফ-এর আলোচনা, না’ত, শে’র, কাছীদা শরীফ পাঠ ও উনার প্রতি ছলাত ও সালাম প্রেরণ করা ইত্যাদি পাঠ করা হয়।যেমন-

১) মীলাদ শরীফ-এর প্রথমেই কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করা হয়।

২) অতঃপর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  উপর ছলাত পাঠ করা হয়। কারণ ছলাত পাঠ করা আল্লাহ পাক এবং উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনাদেরই নির্দেশ।

৩) অতঃপর  হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  উপর দাঁড়িয়েসালাম পেশকরা হয়।

মূলত মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্মানার্থে ঈদ বা খুশি প্রকাশ করার জন্যই মীলাদ শরীফ পাঠ করা হয়।

সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতে কি বুঝায়?

জবাবঃ মূলত ‘ঈদ’ অর্থ হচ্ছে খুশি বা আনন্দ প্রকাশ করা। আর ‘মীলাদ’ ও ‘নবী’ দুটি শব্দ একত্রে মিলে ‘মীলাদুন নবী’ বলা হয়। ‘মীলাদ’-এর তিনটি শব্দ রয়েছে- ميلادমীলাদ, مولدমাওলিদ ও مولودমাওলূদ। ميلاد‘মীলাদ’ অর্থ জন্মের সময়, مولد ‘মাওলিদ’ অর্থ জন্মের স্থান, مولود ‘মাওলূদ’ অর্থ সদ্যপ্রসূত সন্তান। আর النبى ‘নবী’ শব্দ দ্বারা নূরে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

অর্থাৎ আভিধানিক বা শাব্দিক অর্থে ميلاد النبى ‘মীলাদুন নবী’ বলতে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- বিলাদত শরীফকে বুঝানো হয়ে থাকে। আর পারিভাষিক বা ব্যবহারিক অর্থে ميلاد النبى ‘মীলাদুন নবী’ বলতে  হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষে উনার ছানা-ছিফত বর্ণনা করা, উনার প্রতি ছলাত-সালাম পাঠ করা, উনার পুতঃপবিত্র জীবনী মুবারকের সামগ্রীক বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করাকে বুঝানো হয়।

আর সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ,  ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতে প্রাণপ্রিয় নবীজি, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিলাদত শরীফ উনার জন্য খুশি প্রকাশ করা, শুকরিয়া আদায় করাকে বোঝায়। এখন এ খুশি প্রকাশ করা বিভিন্ন রকম হতে পারে। যে কোন নেক আমলের মাধ্যমেই এ খুশি প্রকাশ করা যেতে পারে। তবে সবচেয়ে উত্তম হল- হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পবিত্র শান মুবারকে ছলাত শরীফ, সালাম শরীফ পেশ করা, মীলাদ শরীফ পাঠ করা।

Sunday, December 6, 2015

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দায়িমীভাবেই পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করেছেন


পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে- 
عن حضرت عفان رحمة الله عليه عن حضرت سعيد بن مينا رحمة الله عليه عن حضرت جابر و حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنه قال ولد رسول الله صلى الله عليه وسلم عام الفيل يوم الاثنين الثانى عشر من شهر ربيع الاول .
অর্থ: “হযরত আফফান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি হযরত সাঈদ ইবনে মীনা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ ‘হস্তি বাহিনী বর্ষের পবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ হয়েছিল।” (বুলুগুল আমানী শরহিল ফাতহির রব্বানী, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া)
উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ মুতাবিক পবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফই হচ্ছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস।

আতশ বাজি-পটকা, জশনে-জুলুস, রং বেরংয়ের আলোকসজ্জা, আনন্দ মিছিল প্রভৃতির মাধ্যমে ঈদ পালন করেন কিরূপে?


খারিজী, ওয়াবী, জামাতী, ইলিয়াসী তাবলীগ জামাত, দেওবন্দী গংদের যা চিরন্তন খাছলত। মাথায় ব্যাথার উপসর্গ দেখা দিলে তাতে ঔষধ প্রয়োগ না করে পুরো মাথাটিই কেটে ফেলা ওদের খাছলতগত প্রবৃত্তি। সব ফরয নামাযের পর মুনাজাত করলে মানুষ একে ফরয মনে করতে পারে এই অমূলক অশঙ্কায় পরিশেষে তারা ফরয নামাযের পর মুনাজাতই বন্ধ করে দিল, মুনাজাত করাকে বিদয়াত বলে প্রচার শুরু করল। (নাউযুবিল্লাহ্ মিন যালিক)

অথচ ঘাড় মসেহ্ করার মত মুস্তাহাব আমলকে অদ্যাবধি মানুষ মুস্তাহাব জেনেই করে আসছে। কেউ তাকে ফরয বলে গণ্য করছেনা, সে দৃষ্টান্তেও ওদের চেতনা নেই।
সূক্ষ্ম চিন্তানুভূতি আর ছহীহ্ সমঝের পরিবর্তে ওরা মোটা বুদ্ধি আর বক্র চিন্তায়ই অভ্যস্ত। 

দু’ঈদ ব্যতীত আর কোন ঈদ নেই এ কথা যারা বলে তারা জাহিল


অজপাড়া গায়ের বৃদ্ধ হাবীবুজ্জামান ক্ষেপে উঠেছে। সারাজীবন নিজ গ্রামের গন্ডীর বাইরে তার যাওয়া হয়নি। ছেলের পুনঃপুনঃ আমন্ত্রণে অবশেষে তাকে শহরে যেতে হয়েছিল। সেখানে জনৈক আলিমের ওয়াজে শোনা ‘ক্ষমা করা মহান আল্লাহ্ পাক-এর সুন্নত, মহান আল্লাহ্ পাক-এর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নত, হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের সুন্নত, হযরত আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের সুন্নত’ এই বক্তব্য বৃদ্ধ হাবীবুজ্জামানকে রীতিমত ক্ষুদ্ধ করে তুলেছে। শহরে এটে উঠতে না পেরে স্বগ্রামে গিয়ে সে রীতিমত হট্টগোল পাকিয়ে তুলেছে। “হেই মিঞারা বুঝলেননি, শহরের আলিমরা আলিম না। হেরা গোমরাহ্, হেরা বেদাতী, কুফুরী আরম্ভ করিচ্ছে। সারাজীবন আমরা হুনলাম সুন্নত, সুন্নত আল্লাহ্ পাক-এর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নত। আর হেরা এখন নতুন বেদাতী শুরু করিচ্ছে। বলিচ্ছে, আল্লাহ্ পাক-এর সুন্নত, ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের সুন্নত, আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের সুন্নত।

যারা ঈদ-ই-মীলাদুন্ নবী উদযাপনকে লাহাবী উৎসব বলে তারা লাহাবী সন্তান।

 ঈদ-ই-মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের মত খোদায়ী ঈদ, মুত্তালিবী ঈদ, রসূল প্রেমিকদের ঈদ, সকল ঈদের ঈদ সে বিষয়টিকে মূল্যায়ণ না দিয়ে বাতিল ফিরকারা উল্লেখ করছে যে, " জন্মদিন পালন করা খৃষ্টানদের রীতি। অথচ এর পিছনে যে কোন ভিত্তি নেই যা তারাও জানে তাদের গুরু শয়তানও জানে।" 

“Encyclopedia Americana”- তে উল্লেখ আছে, BIRTHDAYS, anniversaries of the day of birth. The practice of markaing an individual’s exact reckoning of time by a fix Calendar.
The custom of observing birthday’s, althangh an ancient one and at present very popular in many countries is, far from being universal.
অর্থাৎ- “কারো জন্মের সঠিক তারিখটি সুনির্দিষ্ট করার রীতি চালু হয়েছে একটি নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সময় গণনা করার ধারা প্রবর্তিত হওয়ার প্রেক্ষিতে। জন্মবার্ষিকী পালনের প্রথাটি খুবই প্রাচীন এবং বর্তমানে অনেক দেশেই অত্যন্ত জনপ্রিয়। তারপরেও তা সার্বজনীনতা লাভ করেনি।”

হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্মকালীন সময়ের ঘটনাসমুহ

রহমতুল্লিল আলামীন, মুখতাছারুস্ সীরাত, ইবনে হিশাম, বায়হাক্বী, তিবরানী, খাসায়েসুল কুবরা, ইবনে ইসহাক, আন নিয়ামাতুল কুবরা প্রভৃতি গ্রন্থ থেকে বর্ণনা পাওয়া যায় যে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যমীনে আগমণ মূহুর্তে স্বয়ং আল্লাহ্ পাক স্বীয় খুশীর নিদর্শন স্বরূপ অভূতপূর্ব কুদরতী ঘটনার সমাহার ঘটিয়েছেন।

হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম বলেন, “আর আমি দেখতে লাগলাম, দীর্ঘ বাহুবিশিষ্ট জনেরা আমার নিকট দলে দলে আসছেন। আমি আমার গৃহের দিকে তাকালাম, এখানে নানান ভাষায় বৈচিত্রপূর্ণ দূর্বোধ্য কথা আমি শুনতে পেলাম। এসব কথা বর্তায় সুরিয়ানী ভাষার কথাগুলো বেশী মনে হচ্ছিল। হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম বলেন, আমি সেসময় লক্ষ্য করলাম, দলে দলে ফেরেশতাগণ আমার ডানে-বামে উড়ছেন। তখন মহান আল্লাহ্ পাক হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালামকে আদেশ করলেন, হে জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম! রুহ সমূহকে পবিত্র শরাবের পাত্রের নিকট শ্রেণীবদ্ধ কর। হে রিদওয়ান! জান্নাতের নবোদভিন্না যুবতীগণকে নতুন সাজে সজ্জিত কর, আর পবিত্র মেশকের সুগন্ধি ছড়িয়ে দাও। সারা মাখলুকাতের যিনি মহান ব্যক্তিত্ব সেই মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আবির্ভাব উপলক্ষ্যে।

কাফিরেরা ছোট বয়স থেকে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে শহীদ করতে চেয়েছে

উল্লেখ্য, আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আবির্ভাবে আবূ লাহাব খুশী হয়েছিল বলে যারা একে লাহাবী উৎসববলে আখ্যা দিতে চায় তাদের দৃষ্টিভঙ্গিটা তাহলে এই সাব্যস্ত হয় যে, আবূ লাহাব বা তার সমগোত্রীয়রা যদি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্ম মুবারক ঠেকাতে পারত অথবা জন্ম মূহুর্তে উনাকে শহীদ করতে পারত (নাউযুবিল্লাহ্) তাহলেই আজকের ওহাবী, খারিজী, জামাতী, ইলিয়াসী তাবলীগ, দেওবন্দী বিদয়াতীদের কাছে অধিকতর আনন্দদায়ক ও গ্রহণযোগ্য হতো।
বলাবাহুল্য, এরও নজীর রয়েছে সীরাতগ্রন্থে। মক্কার ইহুদী ও খৃষ্টানরা ছিল আসমানী কিতাবধারী। ওরা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, হাবীবুল্লাহ্, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আগমণ সম্পর্কে অনেক তথ্যাদি জানতো। ওরা হযরত আব্দুল্লাহ্ আলাইহিস সালাম-এর মাঝে এমন অনেক লক্ষণ পরিস্কার দেখতে পায় যাতে ওদের মাঝে এ ধারণা বদ্ধমূল হয়ে গেল যে, আখিরী নবী, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আগমণের সাথে হযরত আব্দুল্লাহ্ আলাইহিস সালাম কোন না কোনভাবে অবশ্যই সম্পৃক্ত আছেন। ওরা উনাকে হত্যার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলো এবং সেই চেষ্টায় আত্মনিয়োগ করলো।