Friday, January 5, 2018

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক সাত আসমানের সমস্ত জায়গায় লিপিবদ্ধ করে দিয়েছেন।

স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই আশিক্ব হয়ে উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক উনার সাথে উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক সম্মানিত জান্নাত মুবারক, সম্মানিত আরশ মুবারক এবং সাত আসমানের সমস্ত জায়গায় লিপিবদ্ধ করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!:

এই বিষয়ে অনেক সম্মানিত ও পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ রয়েছে। নিম্নে কতিপয় সম্মানিত ও পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ উল্লেখ করা হলো,
১নং সম্মানিত ও পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ:
عَنْ حَضرت جابر رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم رأيت على باب الجنة مكتوبا لا اله الا الله محمد رسول الله 
অর্থ: “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি দেখেছি সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার দরজা মুবারক-এ লিখা রয়েছে-
لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” সুবহানাল্লাহ! (ফাদ্বায়িলুছ ছাহাবাহ লিআহমদ ইবনে হাম্বল ২/৬৬৫, দায়লামী শরীফ ২/২৫৭)
২নং সম্মানিত ও পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ:
عن ابن عباس رضي الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ليس في الجنة شجرة إلا وعلى كل ورقة منها مكتوب لا إله إلا الله محمد رسول الله.
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুমা উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মধ্যে এমন কোনো গাছ নেই, যেই গাছের প্রতিটি পাতায় পাতায় লিখা নেই-لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” (আদ দীবাজ ১/২২, তারীখে বাগদাদ ৭/৩৩৭, মুখতাছারু তারীখে দিমাশক্ব ৫/১৭৮ ইত্যাদি)
৩নং সম্মানিত ও পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ:
হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, 
الدَّلِيلُ الثَّامِنُ: مَا وَرَدَ مِنْ حَدِيثِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ وأنس، وجابر، وَابْنِ عَبَّاسٍ، وَابْنِ عُمَرَ، وَأَبِي الدَّرْدَاءِ، وَأَبِي هُرَيْرَةَ، وَغَيْرِهِمْ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخْبَرَ أَنَّهُ ্রمَكْتُوبٌ عَلَى الْعَرْشِ وَعَلَى كُلِّ سَمَاءٍ وَعَلَى بَابِ الْجَنَّةِ وَعَلَى أَوْرَاقِ شَجَرِ الْجَنَّةِ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. 
অর্থ: “আষ্টম দলীল: যা (১) হযরত উমর ইবনে খত্তব আলাইহিস সালাম উনার, (২) হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার, (৩) হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার, (৪) হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার, (৫) হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার, (৬) হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার, (৭) হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার অর্থাৎ উনাদেরসহ আরো অনেক বিশিষ্ট হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের থেকে বর্ণিত সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে উল্লেখ রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক-এ, সমস্ত আসমানসমূহে, সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার দরজায় এবং সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার প্রত্যেক গাছের পাতায় পাতায় লিপিবদ্ধ রয়েছে-لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” সুবহানাল্লাহ! (হাওই শরীফ ২/১৩৬)
হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ও ইবনে হাজার হাইতামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অর্থাৎ উনারা সম্মানিত ও পবিত্র কালিমা শরীফ উনার সম্পর্কে বর্ণিত সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফসমূহ উনাদেরকে ছহীহ বলেছেন, যার কারণে উনারা এই সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা দলীল পেশ করেছেন। আর এই সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফসমূহ ৭ জন বিশিষ্ট হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরসহ আরো অধিক সংখ্যক বিশিষ্ট হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের থেকে বর্ণিত হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! (হাওই শরীফ ২/১৭৪, ফতওয়ায়ে হাদীছিয়্যাহ ১/১৫২) 
৪নং সম্মানিত ও পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ:
وَرَوَى ابْنُ عَسَاكِرُ عَنْ كَعْب الْاَحْبَارِ قَالَ: ্রاِنَّ اللهَ اَنْزَلَ عَلٰى اٰدَم عَلَيْهِ السَّلَامُ عصيًّا بِعَدَدِ الْاَنْبِيَاءِ الْـمُرْسَلِيْنَ، ثُـمَّ اَقْبَلَ عَلَى ابْنِهٖ شِيْثٍ فَقَالَ: اَىْ بُنَـىَّ اَنْتَ خَلِيْفَتِـىْ مِنْ بَعْدِىْ فَخُذْهَا بِعِمَارَةِ التَّقْوٰى وَالْعُرْوَة الْوُثْقٰى وَكُلَّمَا ذَكَرْتَ اللهَ فَاذْكُرْ اِلـٰى جَنْبِهِ اسْمَ مُـحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَاِنَّـىْ رَأَيْتُ اسْـمَهٗ مَكْتُوْبًا عَلـٰى سَاقِ الْعَرْشِ وَاَنَا بَيْنَ الرُّوْحِ وَالطِّيْنِ، كَمَا اَنِّـىْ طفت السَّمَاوَاتِ فَلَمْ اَرَ فِـى السَّمَاوَاتِ مَوْضِعًا اِلَّا رَأَيْتُ اسْمَ مـُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَكْتُوْبًا عَلَيْهِ، وَاِنَّ رَبِّـىْ اَسْكَنَنِـىَ الْـجَنَّةَ فَلَمْ اَرَ فِـى الْـجَنَّةِ قَصْرًا وَّلَا غُرْفَةَ اِلَّا اسْمَ مُـحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَكْتُوْبًا، وَلَقَدْ رَأَيْتُ اسْمَ مُـحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَكْتُوْبًا عَلـٰى نُـحُوْرِ الْـحُوْرِ الْعِيْنِ، وَعَلـٰى وَرَقِ قصب آجام الجنة، وَعَلـٰى وَرَقِ شَجَرَة طُوْبـٰى، وَعَلـٰى وَرَقِ سِدْرَةِ الْـمُنْتَهٰى، وَعَلـٰى اَطْرَافِ الْـحِجَبِ، وَبَيْنَ اَعْيُنِ الْـمَلَائِكَةِ، فَاَكْثِرْ ذِكْرَهٗ فَاِنَّ الْـمَلَائِكَةَ تَذْكُرُهٗ فِـىْ كُلِّ سَاعَاتِـهَاগ্ধ.
অর্থ: “হযরত কা’ব ইবনে আহবার রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল বাশার আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার উপর হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সমসংখ্যক (অর্থাৎ উনারা যতজন ততখানা) সম্মানিত ‘আছা মুবারক নাযিল করেন। সুবহানাল্লাহ! তারপর তিনি উনার সম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত শীছ আলাইহিস সালাম উনার নিকট অগ্রসর হয়ে বলেন, হে আমার প্রিয় আওলাদ! আপনি আমার পর আমার খলীফা তথা নায়িব হবেন। তাই আপনি উক্ত সম্মানিত দায়িত্ব মুবারক সম্মানিত তাক্বওয়া মুবারক উনার ভিত্তি দ্বারা এবং সুদৃঢ় হাতল মুবারক দ্বারা শক্তভাবে আঁকড়িয়ে ধরুন। আর আপনি যখনই মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত যিকির মুবারক করবেন, আলোচনা মুবারক করবেন, তখনই মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত যিকির মুবারক করবেন, সম্মানিত আলোচনা মুবারক করবেন। সুবহানাল্লাহ! কেননা নিশ্চয়ই আমি সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক উনার স্তম্ভ মুবারক-এ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক লিখা দেখিছি। সুবহানাল্লাহ! আর তা মহান আল্লাহ পাক তিনি লিপিবব্ধ করেছেন, যখন আমি রূহ ও মাটির মাঝে ছিলাম। সুবহানাল্লাহ! আর আমি আসমানসমূহ (সপ্ত আসমান)  ঘুরে দেখেছি; কিন্তু আসমানসমূহে এমন কোনো জায়গা আমি দেখিনি, যেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক লিপিবদ্ধ নেই। অর্থাৎ সপ্ত আসমানের সমস্ত জায়গায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক লিপিবদ্ধ রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ বসবাস করিয়েছেন; কিন্তু আমি সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার এমন কোনো সম্মানিত বালাখানা মুবারক এবং সম্মানিত কামরা বা রুম মুবারক পাইনি, যেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ইসম বা নাম মুবারক লিপিবদ্ধ নেই। সুবহানাল্লাহ! আর আমি অবশ্যই সমস্ত সম্মানিত জান্নাতী হুর উনাদের সম্মানিত গলা মুবারক-এ, উনাদের বুক মুবারক উনার উপরিভাগে (এবং উনাদের চোখের ভিতরে) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক লিপিবদ্ধ দেখেছি। সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার প্রতিটি গাছের ডালে ডালে, পাতায় পাতায়, সম্মানিত তূবা বৃক্ষের পাতায় পাতায়, সিদ্রতুল মুন্তাহার পাতায় পাতায়, সম্মানিত হিজাব মুবারক উনার কিনারে কিনারে এবং সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের চোখসমূহে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ইসম বা নাম মুবারক লিপিবদ্ধ দেখেছি। সুবহানাল্লাহ! কাজেই আপনি অধিক পরিমাণে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত যিকির মুবারক করুন, উনার সম্মানিত আলোচনা মুবারক করুন। কেননা সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা সবসময় দায়িমীভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত যিকির মুবারক করেন, সম্মানিত আলোচনা মুবারক করেন।” সুবহানাল্লাহ! (খছায়িছুল কুবরা, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ, মাওয়াহিবুল লাদুননিয়্যাহ, শরহুয যারক্বানী, ইবনে আসাকির, শরহুল বুখারী, আল হাওই শরীফ ইত্যাদি)

সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ তামাম কায়িনাতবাসীর কালিমা শরীফ

হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত সম্মানিত ও পবিত্র বিশুদ্ধ হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, 
وَمن الثَّالِث نور أنسهم وَهُوَ التَّوْحِيد لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللَّهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ 
অর্থ: “সম্মানিত ৩য় অংশ নূর মুবারক থেকে মু’মিন উনাদের উন্ছের নূর মুবারক সৃষ্টি মুবারক করেন। আর তা হচ্ছেন সম্মানিত তাওহীদ  মুবারক-لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللَّهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ (এই সম্মানিত ও পবিত্র কালিমা শরীফ) উনার সম্মানিত নূর মুবারক।” সুবহানাল্লাহ! (মাওয়াহিবুল লাদুননিয়্যাহ, আল বারাহীনুল ক্বিত্বইয়্যাহ, মাদারেজুন নুবুওয়াত, ফতওয়ায়ে হাদীছিয়্যাহ)
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত উনার সমস্ত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা এই সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফখানা উনাকে ছহীহ বলেছেন। সুবহানাল্লাহ!

একমাত্র যিনি খালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ তামাম কায়িনাতবাসীর কালিমা শরীফ :
عن جابر بن عبد الله قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم كَانَ نَقْشُ خَاتَمِ سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوُدَ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللَّهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ."
অর্থ: “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হযরত সুলাইমান ইবনে দাঊদ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত আংটি মুবারক-এ নকশা করে লিখা ছিলেন-لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” সুবহানাল্লাহ! (ফাওয়াইদ, আস সীরাতুল হালাবিয়্যাহ শরীফ ১/৩২০, তাফসীরে কুরতুবী শরীফ ১৫/২০০, খছায়িছুল কুবরা ১/১২, ‘উয়ূনুল আছার ১/৯৫)
হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মতে এই সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফখানা ছহীহ। কেননা তিনি বলেন,
قُلْتُ: وَيَدُلُّ لِكَوْنِهِ مُرْسَلًا إِلَى الْأَنْبِيَاءِ مَا وَرَدَ مِنْ حَدِيثِ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، وَجَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ مَرْفُوعًا ্রكَانَ نَقْشُ خَاتَمِ سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوُدَ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ গ্ধ.
 অর্থ: “আমি বলি, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম তিনি সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরও নবী ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন, এর দলীল হচ্ছেন ‘উবাদাহ ইবনে ছামিত রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার এবং জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার অর্থাৎ উনাদের উভয়ের থেকে বর্ণিত সম্মানিত ও পবিত্র মারফূ’ হাদীছ শরীফ- ‘হযরত সুলাইমান ইবনে দাঊদ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত আংটি মুবারক-এ নকশা করে লিখা ছিলেন-لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’।” সুবহানাল্লাহ! (হাওই শরীফ ২/১৩৮, ফতওয়ায়ে রমলী ৬/১৪৬)
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
ووجد على حجر بالخط العبراني: ্রباسمك اللهم جاء الحق من ربك بلسان عربي مبين لا إله إلا الله محمد رسول الله كتبه موسي بن عمران .
অর্থ: “একটি পাথরের উপর ইবরানী ভাষায় হস্তাক্ষরে এরূপ লেখা পাওয়া গেছে- আয় মহান আল্লাহ পাক! আপনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক-এ শুরু করছি। সত্য এসেছেন আপনার রব মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট আরবী ভাষাসহ-لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।’ সুবহানাল্লাহ! (তারপর হস্তাক্ষরে আরো লিখা রয়েছে,) এটা লিখেছেন হযরত মূসা ইবনে ইমরান আলাইহিস সালাম তিনি।” সুবহানাল্লাহ! (শরহুল বুখারী শরীফ ২/১১৮, আত তারীখুল কাবীর লিলবুখারী ১/৪৪৫, দালাইলুন নুবুওওয়াহ ২/৬২, খছায়িছুল কুবরা ১/৬২-৬৩, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১/১০৩, ফাইদুল ক্বদীর শরহুল জামি‘িয়ছ ছগীর ১/২৩১, আস সীরতুল হালাবিয়্যাহ শরীফ ১/৩২০, আল মাওয়াহিবুল লাদুননিয়্যাহ ১/৪৫৩ ইত্যাদী )
কাজেই একমাত্র মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ সমস্ত কায়িনাতবাসীর কালিমা শরীফ হচ্ছেন- لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ। এ বিষয়ে সমস্ত উম্মতের ইজমা’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, ক্বিয়ামত পর্যন্ত কেউ কস্মিনকালেও শুধু لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ বললে ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত مُحَمَّدٌ رَسُول اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ না বলবে। সুবহানাল্লাহ!
যেমন, কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
كلمة الإيمان وهي لا إله إلا الله محمد رسول الله للإجماع على أنه لا يعتد في الإسلام بتلك وحدها
অর্থ: “কালিমাতুল ঈমান বা সম্মানিত ঈমান মুবারক উনার কালিমা হচ্ছেন-لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। এই বিষয়ে সমস্ত উম্মতের ইজমা’ হয়েছে যে, কেউ যদি শুধু  لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ বলে, তাহলে সে কস্মিনকালেও ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত مُحَمَّدٌ رَسُولٌ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ না বলবে।” সুবহানাল্লাহ! (মির‘আতুল মাফাতীহ ৬/৫৮)
হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন,
وَلَوْ أَنَّ عَبْدًا عَبَدَ اللَّهَ وَصَدَّقَهُ فِي كُلِّ شَيْءٍ وَلَمْ يَشْهَدْ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ لَمْ يَنْتَفِعْ بِشَيْءٍ وَكَانَ كَافِرًا.
অর্থ: “যদি কোনো ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত-বন্দেগী করে এবং উনার যাবতীয় বিষয় বিশ্বাস করে, তারপরেও সে এক যাররা পরিমাণ ফায়দা লাভ করতে পারবে না এবং নিঃসন্দেহে সে কাফির;  যদি সে সাক্ষ্য না দেয়,
أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ
নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে বাগভী শরীফ ৮/৪৬৩)

সহি হাদীসে বর্নিত হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সৃষ্টির মুল

হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, 
اخْرج الْحَاكِم وَالْبَيْهَقِيّ وَالطَّبَرَانِيّ فِي الصَّغِير وَأَبُو نعيم وَابْن عَسَاكِر عَن عمر بن الْخطاب رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لما اقْتَرَف آدم الْخَطِيئَة قَالَ يَا رب بِحَق مُحَمَّد لما غفرت لي قَالَ وَكَيف عرفت مُحَمَّدًا قَالَ لِأَنَّك لما خلقتني بِيَدِك ونفخت فِي من روحك رفعت رَأْسِي فَرَأَيْت على قَوَائِم الْعَرْش مَكْتُوبًا لَا إِلَه إِلَّا الله مُحَمَّد رَسُول الله فَعلمت انك لم تضف إِلَى اسْمك إِلَّا احب الْخلق إِلَيْك قَالَ صدقت يَا آدم وَلَوْلَا مُحَمَّد مَا خلقتك

Monday, January 1, 2018

মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সর্বপ্রকার ইলমে গইব হাদিয়া করেছেন।


নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আমাকে সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকল বিষয়ের ইলম হাদিয়া করা হয়েছে। অর্থাৎ তিনি সর্বপ্রকার ইলমের অধিকারী। যা উনার সীমাহীন ফযীলতের মধ্যে একটি ফযীলত। 
‘খালিক মালিক মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন হচ্ছেন আলিমুল গইব’ অর্থাৎ সর্বপ্রকার গইব বা অদৃশ্য বস্থ বা বিষয়ের ইলম আল্লাহ পাক, উনার রয়েছে। আল্লাহ পাক বিনা মধ্যস্থতায় বা কারো মাধ্যম ছাড়াই সকল ইলমের বা ইলমে গইবের অধিকারী। আর এরূপ ইলমে গইব সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম পাকে ইরশাদ করেন, “আসমান-যমীনে আল্লাহ পাক ব্যতীত কারো ইলমে গইব নেই।” (সূরা নমল-৫৫) অর্থাৎ বিনা মধ্যস্থতায় বা কারো মাধ্যম ব্যতীত যে ইলমে গইব তা শুধুমাত্র আল্লাহ পাক, উনারই রয়েছে। 
মহান আল্লাহ পাক ‘সূরা বণী ঈসরাইল’-এর ৮৫ নম্বর আয়াত শরীফ-এ ইরশাদ করেন, “আমি তোমাদেরকে সামান্যতম ইলম দান করেছি।” এ আয়াত শরীফ-এ বর্ণিত ইলমের স্বল্পতা মহান আল্লাহ পাক, উনার সাধারণ বান্দাদের জন্য প্রযোজ্য। আল্লাহ পাক, উনার বিশেষ বিশেষ বা খাছ বান্দা তথা হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম এবং হাক্বীক্বী নায়িবে নবী ওয়ারাছাতুল আম্বিয়া তথা খাছ খাছ ওলী আল্লাহগণ উনারা এ হুকুমের বাইরে। অর্থাৎ দুনিয়াতে মানুষ বৈজ্ঞানিক, দার্শনিক ইত্যাদি যাই হোক না কেন তার জ্ঞান সামান্য থেকে সামান্যতম। পক্ষান্তরে যাঁরা মহান আল্লাহ পাক, উনার গুণে হাক্বীক্বীভাবে গুণান্বিত তথা নবী রসূল আলাইহিমুস সালামগণ, বিশেষ করে সকল নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি মহান আল্লাহ পাক, উনার খাছ হাবীব বা বন্ধু হওয়ার কারণে স্বয়ং আল্লাহ পাকই উনাকে সমস্ত প্রকার ইলম হাদিয়া করেছেন। আল্লাহ পাক, উনার কায়িনাতে এমন কোন বিষয় ছিল না যা তিনি জানতেন না বা জানেন না। অর্থাৎ আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হচ্ছেন “মুত্তালা আলাল গইব” অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীবকে সর্বপ্রকার ইলমে গইব হাদিয়া করেছেন। 
মহান আল্লাহ পাক ‘সূরা আর রহমান’-এ ইরশাদ করেন, “দয়াময় আল্লাহ পাক উনার হাবীব উনাকে কুরআন শরীফ শিক্ষা দিয়েছেন, তিনি ইনসান সৃষ্টি করেছেন এবং উনাকে বয়ান শিক্ষা দিয়েছেন।” এ আয়াত শরীফ-এর ব্যাখ্যায় বিখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ' ‘তাফসীরে খাযিনে’ উল্লেখ আছে, বলা হয়েছে যে, “ইনসান দ্বারা উদ্দেশ্য হলেন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আর বয়ান দ্বারা বুঝানো হয়েছে যে, যা ঘটেছে এবং যা ঘটবে, পূর্বাপর সমস্ত কিছুর ইলম আল্লাহ পাক উনাকে হাদিয়া করেছেন। কেননা উনাকে পূর্ববর্তী পরবর্তী এবং পরকাল সম্পর্কে সকল গইবী বিষয়ের ইলম হাদিয়া করেছেন।” অনুরূপ তাফসীরে মায়ালিমুত তানযীল, হুসাইনী, ছাবীতেও উল্লেখ আছে।” 
হাদীছ শরীফ-এর বিখ্যাত ও মশহুর কিতাব ‘মিশকাত শরীফ’-এ উল্লেখ আছে, “হযরত আব্দুর রহমান বিন আইশ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমি আমার রবকে উত্তম ছূরত মুবারকে দেখেছি। আমার রব বলেন, (হে আমার হাবীব!) মুকাররব ফেরেশতাগণ কোন বিষয়ে আলোচনা করছেন? আমি বললাম, আপনিই অধিক জানেন। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, অতঃপর মহান আল্লাহ পাক উনার রহমতের কুদরতি হাত মুবারক আমার দু’কাঁধের মধ্যখানে রাখলেন। আমি উনার ফয়েজের শীতলতা আমার মধ্যে অনুভব করলাম। অতঃপর আসমান-যমীনের সকল বিষয় ও বস্থর ইলম আমার অর্জিত হয়ে গেল।” 
এ হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় বিখ্যাত মুহাদ্দিছ আল্লামা হযরত মুল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি হাদীছ শরীফ-এর বিখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থ' ‘মিরকাত শরীফ’-এ লিখেন, “আল্লামা ইবনে হাজার রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “সামাওয়াত” দ্বারা আসমানসমূহ এমনকি তারও উপরের সমস্ত সৃষ্টির ইলমকে বুঝানো হয়েছে। যেমন মি’রাজ শরীফ-এর ঘটনা দ্বারা বুঝা যায়। আর ‘আল আরদ’ জিনস (জাতি) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, ঐ সমুদয় বস্থ যা সমস্ত যমীনের মধ্যে বরং তারও নিচে রয়েছে তার সব বিষয়েরই ইলম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার অর্জিত হয়ে যায়। শুধু তাই নয় হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমার জন্যে মহান আল্লাহ পাক গইব-এর সকল দরজাসমূহ খুলে দিয়েছেন।” 
মূলত এই প্রকারের হাদীছ শরীফ আয়াত শরীফ-এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা এর বিষয়টা বুঝানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাবীবুল্লাহ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হিসেবে সৃষ্টি হয়েছেন। যার কারণে তিনি সমস্ত ইলম ও নিয়ামতসহই সৃষ্টি হয়েছেন। কাজেই নতুন করে দেয়ার জন্য নয়। বরং যা দেয়া হয়েছে সে বিষয়টা সমস্ত কায়িনাতকে বুঝানোর জন্য অনুষ্ঠান করা হয়েছে। 
হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে, “হযরত উমর ইবনুল খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, একদা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তিনি আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে সৃষ্টির শুরু থেকে জান্নাতবাসীদের জান্নাতে প্রবেশ এবং দোযখবাসীদের দোযখে প্রবেশ করা পর্যন্ত সকল বিষয়ের সংবাদ প্রদান করেন। এগুলো যাঁরা স্মরণ রাখতে পেরেছেন উনারা স্মরণ রেখেছেন আর যাঁরা স্মরণ রাখতে পারেননি উনারা ভুলে গেছেন।” (বুখারী শরীফ, মিশকাত শরীফ) 
‘ছহীহ মুসলিম শরীফ’-এ আরো উল্লেখ আছে যে, “হযরত হুযাইফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে ক্বিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হবে তার সব কিছুই বর্ণনা করে দিলেন, কোন কিছুই বাদ দিলেন না।” 
‘বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ’-রয়েছে, “আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো ইরশাদ করেন “আমি সমস্ত ইলমসহ প্রেরিত হয়েছি।” 
বিখ্যাত মুহাদ্দিছ ও মুহাক্কিক হযরত শায়খ আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিখ্যাত গ্রন্থ “মাদারিজুন নুবুওওয়াতে” উল্লেখ করেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সকল বিষয় বা বস্থ সম্পর্কেই অবহিত ছিলেন। তিনি আল্লাহ পাক, উনার শান ও আহকাম বা বিধি-বিধান, উনার ছিফাত বা গুণাবলী উনার আসমা বা নামসমূহ উনার আফয়াল বা কর্মসমূহের এবং আদি-অন্ত, যাহির-বাতিন ইত্যাদি সর্বপ্রকার ইলমের অধিকারী ছিলেন। যা উনার সীমাহীন ফযীলতের বহিঃপ্রকাশ।