Sunday, January 31, 2016

পুরুষদের জন্য সাদা রুমাল পরা খাছ সুন্নত ॥ লাল রুমাল পরা হারাম


পুরুষের জন্যে মাথার রুমাল ব্যবহার করা সুন্নতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তা সাদা রংয়ের হওয়াই সুন্নত ও আফজল। কারণ হাদীছ শরীফে উল্লেখ আছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট সাদা রং অধিক পছন্দনীয়।
পুরুষের জন্য লাল রংয়ের রুমাল পরা অবস্থা বিশেষে হারাম, মাকরূহ তাহরীমী ও মাকরূহ্‌ তানযীহী। অর্থাৎ যদি পূর্ণ লাল হয়, তবে হারাম। আর যদি অধিকাংশ লাল হয়, তবে মাকরূহ তাহরীমী। আর যদি কম অংশ লাল হয় তবে মাকরূহ তানযীহী হবে।
পুরুষের জন্য যে লাল রং নিষিদ্ধ তা হাদীছ শরীফ দ্বারাই প্রমাণিত। পাশাপাশি এ বিষয়ে অসংখ্য ফিক্বাহ্‌ ও ফতওয়ার কিতাবেও উল্লেখ আছে। তিরমিযী, আবু দাউদ শরীফের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি এক জোড়া লাল রংয়ের কাপড় পরিধান করে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অতিক্রম করার সময় সালাম দেয়। কিন্তু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সালামের জবাব দেননি।
হাদীছ শরীফে আরো উল্লেখ আছে যে, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উটের হাওদার উপর লাল রংয়ের কাপড় বিছিয়ে দেয়া হয়েছিল বসার জন্য, কিন্তু তিনি সে লাল কাপড়ের উপর বসেননি, বরং সেটা তুলে তারপর বসেছিলেন।”

আর হানাফী মায্‌হবের বিখ্যাত ফিক্বাহর কিতাব “তানবীরুল আবছারে” উল্লেখ আছে যে, পুরুষের জন্য কুসুম রং, জাফরানী লাল ও হলুদ রংয়ের পোশাক পরা মাকরূহ তাহ্‌রীমী।”

গুটলীযুক্ত, গোল, কোণাবন্ধ, নিছফুসাক্ব জামা পরা খাছ সুন্নত



পোশাক সম্পর্কে আয়াত শরীফ আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “হে রসূল (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আপনি বলে দিন, আল্লাহর সৃষ্ট সুন্দর পোশাক হারাম করলো কে? যা তিনি আপন বান্দার জন্য সৃষ্টি করেছেন।” (সূরা আ’রাফ/৩২)

মহান আল্লাহ পাক পোশাককে জিনাত বা অলঙ্কার বলেছেন। পোশাক মানব জাতির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে থাকে, ভদ্র করে তোলে, শালীনতা বজায় রাখে, বর্বরতা ও বেহায়াপনা দুর করে দেয়।

সেলাইবিহীন লুঙ্গি পরা খাছ সুন্নত


সেলাইবিহীন (ফাড়া) লুঙ্গি সম্পর্কে শামায়েলে তিরমিযী ও মাদারেজুন নুবুওয়াত, কিতাবের উদ্ধৃতি উল্লেখ , হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বদা সেলাইবিহীন (ফাঁড়া) লুঙ্গি মুবারক পরতেন। এমনকি তা পরে তিনি বাহনে সওয়ার হতেন এবং যুদ্ধের ময়দানেও যেতেন।

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আদর্শ তথা সুন্নতের গুরুত্ব সম্পর্কে কুরআন শরীফের সূরা আহযাব-এর আয়াত শরীফ  মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,“নিশ্চয়ই রসূল (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মধ্যে তোমাদের জন্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।”

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার খাছ সুন্নত ‘আজওয়া খেজুর এর ফযীলত’


হে আমার হাবীব! আপনি উম্মতদেরকে বলুন, তোমরা যদি আল্লাহ্‌ পাক-এর মুহব্বত প্রত্যাশী হও; তবে আমার ইত্বায়াত বা অনুসরণ-অনুকরণ কর। তাহলে আল্লাহ্‌ পাক তোমাদেরকে ভালবাসবেন। তোমাদের গুনাহ্‌খাতা সমূহ ক্ষমা করে দিবেন এবং আল্লাহ্‌ পাক তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল ও দয়ালু হয়ে যাবেন।” (সূরা আলে ইমরান-৩১)

আর হাদীছ শরীফে সাইয়িদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ ফরমান, “যে ব্যক্তি আখিরী যামানায় আমার একটি সুন্নতকে পালন করবে, সে ব্যক্তি একশত শহীদের সমান ছওয়াব পাবে।” (বাইহাক্বী, মিশকাত)

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার খাছ সুন্নত ইছমিদ সুরমা মুবারক-এর ফযীলত’


"হে আমার হাবীব! আপনি উম্মতদেরকে বলুন, তোমরা যদি আল্লাহ্‌ পাক-এর মুহব্বত প্রত্যাশী হও; তবে আমার ইত্বায়াত বা অনুসরণ-অনুকরণ কর। তাহলে আল্লাহ্‌ পাক তোমাদেরকে ভালবাসবেন। তোমাদের গুনাহ্‌খাতা সমূহ ক্ষমা করে দিবেন এবং আল্লাহ্‌ পাক তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল ও দয়ালু হয়ে যাবেন।” (সূরা আলে ইমরান-৩১)

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ ফরমান, “যে ব্যক্তি আখিরী যামানায় আমার একটি সুন্নতকে পালন করবে, সে ব্যক্তি একশত শহীদের সমান ছওয়াব পাবে।” (বাইহাক্বী, মিশকাত)

হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পান পাত্র মুবারক ও মুবারক পান পদ্ধতি


হযরত ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আমাদেরকে একটি লৌহপাত যুক্ত মোটা কাঠের নির্মিত পেয়ালা বের করে দেখালেন এবং বললেন, “ছাবিত! এটা নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পেয়ালা।” (শামায়েলে তিরমিযী শরীফ)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সাইব ইবনে খাব্বাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি (খাব্বাব) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রোদে শুকনো গোশত একটি পাত্রে নিয়ে আহার করতে দেখেছি। অতঃপর তিনি পানি ভর্তি একটি মাটির পাত্রের দিকে এগিয়ে গেলেন এবং পানি পান করলেন। (আখলাকুন্‌ নবী)

সব সময় পাগড়ী পরা সুন্নত



অনেকেই অজ্ঞতা হেতু বলে থাকে যে, পাগড়ী পরা দায়িমী সুন্নত নয় বরং শুধুমাত্র নামাযের মধ্যে পরলেই চলে। আবার কেউ কেউ সুন্নত স্বীকার করলেও নামাযের মধ্যে পাগড়ী পরার সুন্নত ও ফযীলতকে অস্বীকার করে থাকে। অথচ তাদের এসব বক্তব্য শুধু শরীয়ত বিরোধীই নয় বরং মনগড়া, অজ্ঞতামূলক ও বিভ্রান্তিকরও বটে। কারণ পাগড়ী পরা নামাযের বাইরে ও ভিতরে উভয় অবস্থায়ই সুন্নত ও ফযীলতের কারণ। নামাযের বাইরে পাগড়ী পরা সুন্নত হওয়ার ব্যাপারে হাদীছ শরীফের সহীহ্‌‌ কিতাব “হাশিয়ায়ে তিরমিযী শরীফের” উদ্ধৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,“নিঃসন্দেহে পাগড়ী পরা (দায়িমী) সুন্নত।” নামাযের মধ্যে পাগড়ী পরার ফযীলত সম্পর্কে কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে যে, “নিশ্চয়ই পাগড়ী পরে দু’রাকাত নামায আদায় করা, পাগড়ী ছাড়া ৭০ রাকায়াত নামায আদায় করার চেয়ে অধিক ফযীলতপূর্ণ।”

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বদদোয়া কাফিরদের প্রতি


تبت يدا ابى لهب وتب
আবু লাহাব এবং তার দুইহাত ধ্বংস হোক।”(সূরা লাহাব)

একদা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কুরাইশ গোত্রের দলপতিদের ছাফা পাহাড়ে আহবান করলেন। তখন নেতৃস্থানীয় কিছু কুরাইশ সেখানে উপস্থিত হলো। অতঃপর যথাসময়ে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তথায় উপস্থিত হয়ে বললেন: “আমি যদি বলি এই পাহাড়ের পাদদেশে একদল শত্রু অবস্থান করছে, আপনারা কি আমার কথা মেনে নিবেন?” তারা বললো: অবশ্যই মেনে নিবো। কারণ আপনি হচ্ছেন ‘আল আমীন।’ অর্থাৎ চরম সত্যবাদী। আপনি যা বলবেন, আমরা তা বিনা সন্দেহে মেনে নিবো।

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত তাবিজ ও ঝাড়-ফুঁক



عن ام المؤمنين حضرت عائشة عليها السلام ان النبى صلى الله عليه وسلم كان ينفث على نفسه فى المرض الذى مات فيه بالمعوذات فلما ثقل كنت انفث عليه بهن وامسح بيده نفسه لبركتها فسالت الزهرى كيف ينفث قال كان ينفث على يديه ثم يمسح بهما وجهه.
অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে অসুখে বিছাল শরীফ লাভ করেছিলেন, সে অসুখে সূরা ফালাক্ব ও সূরা নাস পড়ে দম করতেন। যখন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কষ্ট অতিরিক্ত বেড়ে যেতো, তখন আমি তা পড়ে উনার উপর দম করতাম এবং বরকতের জন্য উনার হাত মুবারক আমার শরীর মুবারক-এ বুলিয়ে নিতাম। এ হাদীছ শরীফ-এর এক বর্ণনাকারী মা’মার বলেন, আমি হযরত ইমাম যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কিভাবে দম করতেন? তিনি জবাবে বললেন: তিনি উনার হাত দুটির উপর দম করতেন। তারপর সেই দু’হাত মুখমন্ডলের উপর মাসেহ করে নিতেন।” (বুখারী শরীফ)

মহিলাদের কতিপয় সুন্নতী পোশাক ও ব্যবহৃত সামগ্রীর বর্ণনা



لقد كان لكم فى رسول الله اسوة حسنة
অর্থ: “আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যেই রয়েছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ।” (সূরা আহযাব : আয়াত শরীফ ২১)

আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ করেন-
من تمسك بسنتى عند فساد امتى فله اجر مأة شهيد
অর্থ: “যে ব্যক্তি আমার উম্মতের ফিতনা-ফাসাদের যুগে একটিমাত্র সুন্নতকে আঁকড়ে ধরবে সে একশত শহীদের ছওয়াব পাবে।” (মিশকাত)

আলোচ্য প্রবন্ধে মহিলাদের ব্যবহৃত কতিপয় সুন্নতী পোশাক ও ব্যবহৃত সামগ্রীর বর্ণনা দেয়া হলো-

জুমুয়া ও ঈদের খুৎবায় লাঠি ব্যবহার করা খাছ সুন্নত

জুমুয়া ও ঈদের নামাযের খুৎবাতে লাঠি ব্যবহার করা সুন্নত। তিনি বলেন, অনেকে খুৎবার সময় লাঠি ব্যবহার করা বিদ্‌য়াত বা মাকরূহ বলে থাকে। তাদের এ বক্তব্য সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। কেননা, ছহীহ হাদীছ শরীফ-এ উল্লেখ আছে,  হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (খুৎবার সময়) লাঠি মুবারক অথবা ধনুকের উপর ভর করে দাঁড়াতেন।

" বাল্যবিবাহ খাছ সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত।

উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি একদিকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, হাবীবুল্লাহ, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছাহাবী। আরেকদিকে তিনি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহাল তথা হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সর্বোপরি তিনি হচ্ছেন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রা আহলিয়া। এ প্রসঙ্গে খালিক্ব, মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মু’মিনদের নিকট তাঁদের জানের চেয়ে প্রিয়। আর উনার পবিত্রা আযওয়াজ বা আহলিয়া আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হলেন তাঁদের (মু’মিনগণ উনাদের) মাতা।”

Saturday, January 30, 2016

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি মুহব্বতের অনুপম দৃষ্টান্ত


لا يؤمن احدكم حتى يكون الله ورسوله احب اليه من نفسه وماله وولده ووالده والناس اجمعين
অর্থ: “তোমরা ততোক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবেনা যতোক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের নিকট আল্লাহ পাক ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা তোমাদের জান-মাল, পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি ও সমস্ত মানুষ হতে বেশি প্রিয় না হবেন।”

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উক্ত বাণীর সত্যতা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম নিজেদের আমল দিয়ে এমনভাবে প্রমাণ করেছিলেন; যা বিশ্বের ইতিহাসে শুধু বিস্ময়কর নয় বরং কল্পনাতীত। নিচে কয়েকটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হলো-
(১) উহুদ যুদ্ধের ঘটনা: কাফিররা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে লক্ষ্য করে তীর নিক্ষেপ করেছিলো। তখন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধু এতোটুকু বললেন যে, কে আছো যে আমার ঠিক সম্মুখে দাঁড়াতে পারো? একথা শ্রবণ করা মাত্র একজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সম্মুখে এসে দাঁড়ালেন আর দুশমনের নিক্ষিপ্ত তীরগুলো আপন বুকে পেতে নিলেন। যুদ্ধ শেষে দেখা গেলো উনার দেহে ৮০টি তীর নিক্ষিপ্ত হয়েছে। কিন্তু একটিও পৃষ্ঠদেশে বা পাঁজরে নিক্ষিপ্ত হয়নি বরং সবই উনার দেহের সম্মুখভাগেই নিক্ষিপ্ত হয়েছে।

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ‘শিআবে আবু তালিব’-এ অবস্থান এবং তা থেকে গ্রহণীয় নছীহত


لكل نبى عدوا شياطين الانس و الجن
অর্থ: “প্রত্যেক নবী-রসূল আলাইহিমুসসালাম উনাদের শত্রু তারাই যারা জিন-ইনসানের মধ্যে শয়তান প্রকৃতির।” (সূরা আনয়াম : আয়াত শরীফ ১১২)

কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ মারফত জানা যায়, আল্লাহ পাক উনার প্রথম নবী ও রসূল হযরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে আখিরী রসূল হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত প্রত্যেক নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের শত্রু ছিলো। এমন একজন নবী কিংবা রসূল অতীত হননি যাঁর কোনো বিরোধিতা করা হয়নি বা শত্রু ছিলো না।

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের মুহব্বত ঈমানের অঙ্গ এবং উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা কুফরী


  • এ প্রসঙ্গে কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ পাক ও উনার রসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট দেয়, দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের প্রতি আল্লাহ পাক-উনার অভিসমপাত এবং তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।” (সূরা আহ্‌যাব-৫৭)

এ আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ সমপর্কে আল্লাহ পাককে ভয় কর, আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ সমপর্কে আল্লাহ পাককে ভয় কর। আমার বিছাল (ওফাত) শরীফের পরে তাঁদেরকে তোমরা তিরষ্কারের লক্ষ্যস্থল করো না। যে ব্যক্তি তাঁদেরকে মুহব্বত করলো, সে আমাকে মুহব্বত করার কারণেই মুহব্বত করলো, আর যে ব্যক্তি তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করলো, সে আমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করার কারণেই তা করলো। যে ব্যক্তি তাঁদেরকে কষ্ট দিল, সে মূলত: আমাকেই কষ্ট দিল, আর যে ব্যক্তি আমাকে কষ্ট দিল, সে মূলত: আল্লাহ পাককেই কষ্ট দিল, আর যে আল্লাহ পাককে কষ্ট দিল, আল্লাহ পাক তাকে শীঘ্রই পাকড়াও করবেন।” (তিরিমিযী শরীফ)
  • আল্লাহ পাক আরো ইরশাদ করেন, “একমাত্র কাফিররাই তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে।” (সূরা ফাতহ্‌-২৯) 

এই আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “যে ব্যক্তি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে, সে কাফির। (মিশকাত শরীফ) হাদীছ শরীফে আরো ইরশাদ হয়েছে, “হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের প্রতি মুহব্বত ঈমান, আর তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা কুফরী।” (কানযুল উম্মাল)
  • হাদীছ শরীফে আরো ইরশাদ হয়েছে, “হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত উমর ফারুক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর মুহব্বত ঈমানের অন্তর্ভুক্ত, আর তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ কুফরী। (বুখারী শরীফ)

  • হাদীছ শরীফে আরো ইরশাদ হয়েছে, “তোমরা আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণকে গালি দিও না। কেননা যদি তোমাদের কেউ উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ আল্লাহ পাক-উনার রাস্তায় দান করে, তবুও ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের এক মূদ (১৪ ছটাক) বা অর্ধ মূদ (৭ ছটাক) গম দান করার ফযীলতের সমপরিমাণ ফযীলতও অর্জন করতে পারবে না। (বুখারী শরীফ)

অতএব, সকল হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ সমপর্কেই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম মাত্রই সম্মান ও তা‘যীম-তাকরীম এবং মুহব্বতের পাত্র।

অথচ আজকাল অনেকেই হযরত উসমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সহ সকল ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের এবং বিশেষ করে হযরত মু‘য়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু -এর ব্যাপক সমালোচনা করে থাকে। তাঁদের সমালোচনা করতে গিয়ে যুক্তি পেশ করে থাকে যে, যদি তাঁরা হক্বের উপর থাকতেন, তবে হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর সাথে হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু -এর জিহাদ হলো কেন ? দু’দলের মধ্যে একদল নিশ্চয়ই হক্ব ও অপর দল নাহক্ব।

মূলত: হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীদের উক্ত যুক্তি মোটেও শুদ্ধ নয়। তার প্রমাণ আল্লাহ পাক কুরআন শরীফেই উল্লেখ করেছেন। যেমন আল্লাহ পাক বলেন, “হে হাবীব! (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনি বলুন, প্রত্যেকেই তার অভ্যাস বা আদত অনুযায়ী আমল করে থাকে। তবে তোমাদের রব ভালো জানেন কে অধিক সুপথে রয়েছে । (সূরা বণী ইসরাঈল-৮৪)

এ আয়াত শরীফ থেকে মুফাস্‌সিরীনে কিরাম দু’টি পথ নির্ধারণ করেছেন। একটি হলো সুপথ, অপরটি হলো অধিক সুপথ। কাজেই হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের মধ্যে যে জিহাদ হয়েছে, ইখতিলাফ বা মতবিরোধ হয়েছে, তাতে কেউ সুপথে ছিলেন, আর কেউ অধিক সুপথে ছিলেন। অর্থাৎ প্রত্যেকেই হক্বের মধ্যে ছিলেন, কেউই নাহক্বের মধ্যে ছিলেন না।

পূর্বোক্ত আলোচনা দ্বারা প্রমানিত হয়েছে যে, হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সহ প্রত্যেক ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুই হক্বের উপর কায়িম ছিলেন । এ সমপর্কে হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে, হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত- হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন : আমার বেছাল (ওফাত) শরীফের পরে আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের ইখতিলাফ (মতবিরোধ) সমপর্কে আমি আল্লাহ পাককে জিজ্ঞাসা করেছি । আল্লাহ পাক আমাকে বললেন : হে হাবীব, নিশ্চই আপনার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ আমার নিকট তারকা সমতূল্য। কারো আলোর চেয়ে কারো আলো বেশী, তবে প্রত্যেকেরই আলো আছে । সুতরাং, তাঁদের যে কোন ইখতিলাফকে যারা আঁকড়িয়ে ধরবে, তারা হিদায়েত পেয়ে যাবে । কারণ তাঁদের ইখতিলাফগুলো আমার নিকট হিদায়েত হিসাবে গণ্য। অত:পর রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন: আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ (প্রত্যেকেই) তারকা স্বদৃশ, তাঁদের যে কেউকে তোমরা অনুসরণ করবে, হিদায়াত প্রাপ্ত হবে।

বুঝা গেল যে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের ইখতিলাফও হিদায়াতের কারণ এবং আল্লাহ পাকের নিকট গ্রহণযোগ্য । অর্থাৎ তাঁদের যে কাউকে, যে কোন ব্যক্তি, যে কোন বিষয়ে অনুসরণ করবে, সে ব্যক্তি সে বিষয়েই হিদায়াত লাভ করবে বা হিদায়াতের উপর থাকবে ।

হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর ফযীলত সমপর্কে যিনি ইমামে আ‘যম হযরত আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি -এর বিশিষ্ট ছাত্র ও খলীফা আমিরুল মু’মিনীন ফিল হাদীছ, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক রহমতুল্লাহি আলাইহিকে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু শ্রেষ্ঠ, না হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি শ্রেষ্ঠ ? তিনি বলেন, আল্লাহ পাক-উনার কসম ! হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সাথে ঘোড়ায় চড়ে জিহাদে যেতেন, তখন ঘোড়ার নাকে যে ধূলাবালিগুলো প্রবেশ করতো, সে ধুলাবালিগুলোও হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর ন্যায় শত শত ব্যক্তি হতেও শ্রেষ্ঠ, সুবহানাল্লাহ। (ফতওয়ায়ে হাদীছিয়াহ)

সুতরাং, উপরোক্ত কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফের আলোচনা দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করা, তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা এবং তাঁদেরকে (নাকিছ) অপূর্ণ বলা সমপূর্ণ হারাম ও কুফরী । মূলত: ইসলাম বিদ্বেষীদের আন্তর্জাতিক একটি চক্রান্ত যে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণকে দোষারোপ করা। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণকে অপূর্ণ বাতিল সাব্যস্ত করতে পারলে কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ তথা দ্বীন ইসলাম বাদ হয়ে যাবে । কাজেই ইসলাম বিদ্বেষীদের চক্রান্ত সমপর্কে আমাদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে । আর সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার বেছাল (ওফাত) শরীফের পরে যে ছাহাবা বিদ্বেষী নামে ইসলাম ধ্বংসকারী একটি দল আত্মপ্রকাশ করবে, সে সমপর্কে তিনি উম্মতের প্রতি সতর্ক করে ভবিষ্যদ্বাণীতে ইরশাদ করেন, “অতি শীঘ্রই একটি দল বের হবে, যারা আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণকে গালি দিবে, তাঁদেরকে নাকিছ বা অপূর্ণ বলবে । সাবধান ! তোমরা তাদের মজলিসে বসবে না, তাদের সাথে পানাহার করবে না, তাদের সাথে বিয়ে শাদির ব্যবস্থা করবে না। অন্য রেওয়ায়াতে উল্লেখ রয়েছে, তাদের পিছনে নামায পড়বে না এবং তাদের জন্য দোয়া করবে না ।” তিনি আরো ইরশাদ করেন, যখন তোমরা কাউকে আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণকে গালি দিতে দেখবে, তখন তোমরা বলো, এ নিকৃষ্ট কাজের জন্য তোমাদের প্রতি আল্লাহ পাক-উনার লা‘নত বর্ষিত হোক । (তিরমিযী শরীফ)

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার জন্য হযরত খায়ছামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মুহব্বত ও আত্ম-ত্যাগ

হযরত ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেন : সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ, নূরে মুজাস্‌সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাবুকের জিহাদের জন্য রওয়ানা হওয়ার কিছুদিন পর বনু সালিম গোত্রের হযরত আবূ খায়ছামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু প্রচন্ড গরমের মধ্যে একদিন উনার পরিবারের নিকট ফিরে আসেন । ফিরে এসে তিনি দেখলেন যে, উনার দুই স্ত্রী (গৃহ সংলগ্ন) একটি বাগানে দুইটি ছায়াপূর্ণ স্থান (নিকুঞ্জ) তৈরী করেছেন । উভয়ই তাঁদের নিজ নিজ স্থানটিকে পানি ছিঁটিয়ে শীতল করে রেখেছেন, উনার জন্য ঠান্ডা পানির ব্যবস্থা করে রেখেছেন এবং উনার জন্য খাদ্যও প্রস্তুত করে রেখেছেন । তিনি বাগানে প্রবেশ করে ছায়া-পূর্ণ স্থান দু’টির দরজায় এসে দাঁড়ালেন এবং উনার দুই স্ত্রী কি কি করেছেন তার প্রতি লক্ষ্য করলেন । অত:পর তিনি বললেন : হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রয়েছেন প্রখর রৌদ্রে ও গরম বাতাসের মধ্যে, আর আবূ খায়ছামা থাকবে শীতল ছায়ায়, ঠান্ডা পানি পান করবে, সুস্বাদু খাদ্য খাবে এবং সুপরী রমণীর সাথে স্থায়ী সমপদের মধ্যে আরামে থাকবে ! এটা কি ন্যায়সঙ্গত হবে ? আল্লাহ পাক-উনার কসম ! আমি তোমাদের একজনেরও ছায়াপূর্ণ নিকুঞ্জে প্রবেশ করব না । আমি ফিরে গিয়ে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সাথে মিলিত হব । সুতরাং আমার জন্য পূণরায় সফরের সামগ্রী প্রস্তুত কর । সেই মতে উনার দুই স্ত্রী উনার জন্য সফরের সামগ্রৗী প্রস্তুত করে দিলেন। অত:পর তিনি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার অন্বেষণে বের হলেন এবং তাবুকে তিনি যেখানে অবস্থান করছিলেন সে স্থানের নিকটবর্তী হলেন । প্রথমে দূর থেকে লোকেরা তাঁকে দেখে বলতে লাগলেন : এই যে রাস্তায় এক আরোহী আমাদের দিকে আসছে ! হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন : আবূ খায়ছামা হও ! (একটু পরেই) ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ বললেন : ইয়া রসুলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ! আল্লাহ পাক-উনার কসম ! তিনি আবূ খায়ছামাই। অত:পর তিনি সম্মুখে এসে বাহন থেকে অবতরণ করে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সালাম দিলেন । হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বললেন : হে আবূ খায়ছামা ! তোমার জন্য ইহা উত্তম হয়েছে । অত:পর তিনি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে সব বিষয় খুলে বললেন । হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বললেন : কল্যাণকর কাজ করেছ । অত:পর তিনি উনার জন্য কল্যাণের দোয়া করলেন । (মুসলিম শরীফ, উসুদুল গাবা)

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার জন্য হযরত উছমান যুন্‌ নুরাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মুহব্বত ও আত্ম-ত্যাগ

একদিন আল্লাহ পাক-উনার হাবীব, আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার দরবার শরীফে এক ব্যক্তি এসে হাযির হলেন এবং বললেন : ইয়া রসূলাল্লাহ্‌, ইয়া হাবীবাল্লাহ্‌, ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ! কিছু দিন পর আমার মেয়ের বিয়ে কিন' আমি অনেক গরীব, আমার মেয়েকে বিয়ে দেয়ার মত আমার কোন সামর্থ নেই । দয়া করে আপনি আমাকে কিছু সাহায্য করুন । যখন সে লোকটি আল্লাহ পাক-উনার রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে এ কথা বললেন, তখন তিনি বললেন : হে ব্যক্তি, তুমি এক কাজ কর, এই যামানার যিনি ধনী ব্যক্তি এবং আমার জলীলুল ক্বদর ছাহাবী হযরত উছমান যুন্‌ নুরাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার কাছে গিয়ে আমার কথা বলবে, আমি তোমাকে পাঠিয়েছি। তিনি যেন তোমাকে সাহায্য করেন। তখন সেই ব্যক্তি হযরত উছমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর দরবারে এসে হাযির হলেন এবং তিনি সেখানে পৌঁছে দেখতে পেলেন হযরত উছমান যুন্‌ নুরাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার এক ব্যবসার শরীকদের কাছ থেকে এক পয়সার হিসাব বুঝে নিচ্ছেন । 

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার জন্য হযরত আবুবকর ছিদ্দিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর মুহব্বত ও আত্ম-ত্যাগ

 হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত আছে : উহুদের জিহাদে যখন মুসলমানগণ ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সন্নিকটে মাত্র বার জন লোক ছিলেন । হযরত তায়ালা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তন্মধ্যে একজন । অত:পর তাঁদেরকে মুশরিকগণ আক্রমণ করল । হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন : এদের বিরুদ্ধে কে অগ্রসর হবে ? হযরত তালহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন : আমি । হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন : তুমি নও । অত:পর এক ব্যক্তি বলল : আমি অগ্রসর হব । হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন : হ্যাঁ ।

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার জন্য হযরত আবুবকর ছিদ্দিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর মুহব্বত ও আত্ম-ত্যাগ

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন : “তোমাদের কেউ প্রকৃত মু’মিন হতে পারবে না যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার মা-বাবা, ছেলে-মেয়ে এমন কি সমস্ত মানুষের চাইতে বেশী প্রিয় হব । (বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ)

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে নিজের জীবন থেকে বেশী মুহব্বত করার প্রকৃত নজীর দেখিয়েছেন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ । নিম্নে দৃষ্টান্ত উল্লেখ করা হলো-

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার প্রতি হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণের তা’যীম-তাকরীমের উজ্জ্বল নিদর্শনসমূহ



“যাঁরা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর ঈমান আনবে, তাঁকে তা’যীম করবে, তাঁর খিদমত করবে এবং তাঁর উপর অবতীর্ণ কুরআন শরীফকে অনুসরণ করবে তারাই হবে সফলকাম।” (সূরা আ’রাফ- ১৫৭)
হযরত আবূ মাহজুরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর মস্তক মুবারকের সম্মুখভাগে দীর্ঘ এক গুচ্ছ কেশ ছিল। তিনি যখন কোথাও উপবেশন করতেন তখন তা মাটিতে গিয়ে পড়ত। উনাকে সেই কেশ গুচ্ছ কেটে ফেলতে বলা হলে তিনি বলেন, তা সম্ভব নয়। কেননা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্নেহ ভরে আমার মাথার এই অংশ স্পর্শ করেছিলেন।

Wednesday, January 20, 2016

নি’মাতুল্লাহ, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বংশগত পবিত্রতা

وتقلبك فى السجدين
অর্থ: “(হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনার স্থানান্তরিত হওয়ার বিষয়টিও ছিলো সিজদাকারীগণের মাধ্যমে।” (সুরা শুয়ারা : আয়াত শরীফ ২১৯)

আলোচ্য আয়াত শরীফ-এর তাফসীরে আল্লামা হযরত ইমাম ইবনে হিববান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
لازال نوره صلى الله عليه وسلم ينقل من ساجد الى ساجد.
অর্থ: “আখিরী রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নূর মুবারক সিজদাকারীগণের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়েছিলো।” (সীরাতুল হালাবিয়া- ১/৪৫)

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই হচ্ছেন সকল মর্যাদা, মর্তবা এবং সম্মানের উৎস।


وما ارسلنك الا رحمة للعلمين
অর্থ: “আমি আপনাকে সারা আলমের জন্য রহমত স্বরূপ পাঠিয়েছি।” (সূরা আম্বিয়া : আয়াত শরীফ ১০৭)
আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে যে যতো সংশ্লিষ্ট সে ততো মর্যাদাবান হতে পেরেছে। নিম্নে সংক্ষিপ্ত কিছু দৃষ্টান্ত দেয়া হলো-

উম্মতে হাবীবী:
উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মর্যাদা বৃদ্ধি হয়েছে একমাত্র হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার কারণে। এজন্য অন্যান্য নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা উম্মতে হাবীবী হওয়ার জন্য আল্লাহ পাক উনার নিকট প্রার্থনাও করেছিলেন। যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সকলের দোয়ায় কবুল হয়েছে। (মাযহারী, খাযিন, বাগবী)

‘না’রায়ে রিসালাত-ইয়া রসূলাল্লাহ’ বলে ধ্বনি দেয়া জায়িজ

‘না’রায়ে’ অর্থ ঘোষণা দেয়া, উচ্চ কণ্ঠে বলা, উচ্চ আওয়াজে বলা, বুলন্দ আওয়াজে বলা, ধ্বনি দেয়া ইত্যাদি। আর ‘রিসালাত’ অর্থ পয়গাম, বাণী, রসূল হওয়ার শুভ সংবাদ, রসূল হওয়ার মর্যাদাপ্রাপ্ত ইত্যাদি। অর্থাৎ কুল-কায়িনাতের নবী ও রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত হওয়ার কারণে যারপর নেই উম্মত খুশি, আনন্দিত ও সন্তুষ্ট। তাদের অতীব খুশি, আনন্দ ও সন্তুষ্টি প্রকাশার্থে সংক্ষেপে ‘ইয়া রসূলাল্লাহ’ বলে তারা উচ্চকণ্ঠে আওয়াজ দিচ্ছে, ধ্বনি দিচ্ছে এবং এ ব্যাপারে সকলকে আহ্বানও করছে।
‘না’রায়ে রিসালাত-ইয়া রসূলাল্লাহ’ বলা আদৌ কুফরী নয়। বরং উক্ত বক্তব্য বলা বা উচ্চারণ করাটাকে যে কুফরী বলবে সেই কুফরী করে মুরতাদ ও কাফিরে পরিণত হবে।

হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার ছায়া মুবারক ছিল না


হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হচ্ছেন, ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ তাঁর মুবারক দেহ নূরের দ্বারা সৃষ্ট। মহান আল্লাহ্‌ পাক পবিত্র কালামুল্লাহ্‌ শরীফে সূরা মায়িদার ১৫ নম্বর আয়াত শরীফে ইরশাদ করেন- “অবশ্যই মহান আল্লাহ্‌ পাক-এর পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট নূর ও প্রকাশ্য কিতাব এসেছে।”

তাফসীরে কবীর, মাযহারী, ইবনে কাছীর, জালালাইন ইত্যাদি কিতাবে সূর মায়িদার ১৫ নম্বর আয়াত শরীফে ‘নূর’ দ্বারা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বুঝানো হয়েছে। আর কিতাব দ্বারা কুরআন শরীফকে বুঝানো হয়েছে।

সূরা মায়িদার ১৫ নম্বর আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় হাদীছ শরীফে বর্ণিত হয়েছে- “হযরত জাবের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “হে জাবের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু; নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক সব কিছুর পূর্বে আপনার নবীর নূর মুবারককে সৃষ্টি করেছেন।” অর্থাৎ আল্লাহ্‌ পাক-এর প্রথম সৃষ্টিই হচ্ছে নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

হুযূর পুর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার বরকতপূর্ণ হুলিয়া মুবারকের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা



  • হযরত জাবের বিন ছামুরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, একদা আমি চন্দ্র রাত্রিতে হুযূর পাক হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি তাকালাম। তখন তিনি চাদর ও লুঙ্গি পরিহিত ছিলেন। এমতাবস্থায় আমি কখনো চাঁদের দিকে তাকাতাম আবার হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি তাকাতাম। অতঃপর এ সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম যে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চাঁদের তুলনায় বহুগুণে সুন্দর ও উজ্জ্বল। (সুবহানাল্লাহ) (শামায়েলে তিরমিযী)


আল্লাহ পাক-এর রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার ছিরত মুবারক, ছূরত মুবারক, আকার মুবারক, আকৃতি মুবারক ও সৌন্দর্য সম্পর্কে অসংখ্য
হাদীছ শরীফ বর্ণিত হয়েছে। মূলতঃ সাইয়্যিদুনা নবী, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুবারক সৌন্দর্যে সমস্ত কিছু সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়েছে। সেই পবিত্রতম সৌন্দর্য মুবারকের উৎস হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রকৃত সৌন্দর্য পেশ করার কোন ক্ষমতাই কোন মাখলুক তথা মানুষ রাখে না। তবু মানসপটে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর একটা দৃষ্টান্তমূলক অবয়ব পরিস্ফুটিত করার লক্ষ্যে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ কিছু উপমা পেশ করেছেন।

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অপরিসীম ইল্‌ম্‌ সর্বপ্রকার সীমার উর্ধ্বে


“আমি তোমাদেরকে সামান্যতম ইলম দান করেছি। (সূরা বণী ঈসরাইল- ৮৫)

খালিক মালিক মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন হচ্ছেন ‘আলিমুল গইব’ অর্থাৎ সর্ব প্রকার গইব বা অদৃশ্য বস্তু বা বিষয়ের ইল্‌ম আল্লাহ পাক-এর রয়েছে। আল্লাহ পাক বিনা মধ্যস্থতায় বা কারো মাধ্যম ছাড়াই সকল ইলমের বা ইলমে গইবের অধিকারী।

আর এরূপ ইল্‌মে গইব সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তাঁর কালামে পাকে ইরশাদ করেন, “আসমান-যমীনে আল্লাহ পাক ব্যতীত কারো ইল্‌মে গইব নেই।” (সূরা নমল-৫৫) অর্থাৎ বিনা মধ্যস্থতায় বা কারো মাধ্যম ব্যতীত যে ইল্‌মে গইব তা শুধুমাত্র আল্লাহ পাক-এরই রয়েছে।

প্রথমোক্ত আয়াত শরীফে ইলমের স্বল্পতা মহান আল্লাহ পাক-এর সাধারণ বান্দাদের জন্য প্রযোজ্য। আল্লাহ পাক-এর বিশেষ বিশেষ বা খাছ বান্দাগণ তথা হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস্‌ সালামগণ এবং হাক্বীক্বী নায়িবে নবী ওয়ারাছাতুল আম্বিয়া তথা খাছ খাছ ওলী আল্লাহগণ এ হুকুমের বাইরে। অর্থাৎ দুনিয়াতে মানুষ বৈজ্ঞানিক, দার্শনিক ইত্যাদি যাই হোক না কেন তার জ্ঞান সামান্য থেকে সামান্যতম।

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নাম মুবারকের ফযীলত


আল্লাহ পাক-এর অনেক সুন্দরতম নাম মুবারক রয়েছে। সে সমস্ত নাম মুবারকের মাধ্যমে আল্লাহ পাককে ডাক।” (সূরা আরাফ-১৮০)
এ আয়াত শরীফের তাফসীরে উল্লেখ করা হয়েছে, আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এরও অনেক সুন্দর সুন্দর নাম মুবারক রয়েছে; সে সমস্ত নাম মুবারকের মাধ্যমে তোমরা উনাকে স্মরণ কর।”

মূলতঃ সমস্ত প্রশংসার মালিক মহান আল্লাহ পাক, যিনি তাঁর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সবকিছুই বিশেষভাবে তাৎপর্যমন্ডিত করেছেন। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নাম মুবারককেও তিনি করেছেন অনুপম বৈশিষ্ট্য-মন্ডিত। যার হাক্বীক্বত উপলদ্ধি করা কেবল তাঁর আখাছছুল খাছ আশিকদের পক্ষেই সম্ভব।
স্মর্তব্য যে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বরকতময় ও রহমতপূর্ণ নামসমূহ দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ পাক এবং তা কেবল একটি দু’টি নয় বরং অগণিত ও অসংখ্য।

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হচ্ছেন ‘নূরে মুজাস্‌সাম অর্থাৎ তিনি আপাদমস্তক নূর’



  • “নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট মহান আল্লাহ্‌ পাক-এর পক্ষ হতে এক মহান নূর এবং একখানা সুস্পষ্ট কিতাব এসেছে।” (সূরা মায়িদা-১৫)

উল্লেখ্য, এ আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ্‌ পাক “নূর” শব্দ দ্বারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকেই বুঝিয়েছেন, যেহেতু তিনি আপাদমস্তক “নূর বা নূরের তৈরি।”
এ প্রসঙ্গে “তাফসীরে আবী সাউদ”-এর ৩য় জিঃ ১৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, “বর্ণিত আয়াত শরীফের প্রথম শব্দ অর্থাৎ ‘নূর’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো- “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম; আর দ্বিতীয় শব্দ অর্থাৎ ‘কিতাবুম মুবীন’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো- কুরআন শরীফ।”

  • হাদীছ শরীফে উল্লেখ আছে, “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহ পাক্‌-এর রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ্‌ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হয়ে যাক। আপনি আমাকে জানিয়ে দিন যে, আল্লাহ্‌ পাক সর্ব প্রথম কোন জিনিস সৃষ্টি করেছেন? তিনি বললেন, হে জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ পাক সবকিছুর পূর্বে আপনার নবীর নূর মুবারককে সৃষ্টি করেছেন। অর্থাৎ আল্লাহ পাক-এর প্রথম সৃষ্টিই হচ্ছে “নূরে হাবীবী” ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” (মসনদে আব্দুর রায্‌যাক)

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মত মানুষ নন



  • হযরত আব্দুল্লাহ্‌ ইবনে আমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আমি তোমাদের কারো মত নই। (বুখারী ১/২৬৩ আবূ দাউদ/১৩৭)
  • হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের অনুরূপ নই। (বুখারী ১/২৬৩, ফতহুল বারী ৪/১৬৪)


  • হযরত আবূ সাঈদ খুদুরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই আমি আকৃতিগতভাবে তোমাদের মত নই।” (বুখারী ১/২৬৩, ফতহুল বারী ৪/১৬৫)
  • হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত- তিনি বলেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমাদের মধ্যে আমার অনুরূপ কে রয়েছে? (বুখারী ১/২৬৩, ফতহুল বারী ৪/১৬৭) অর্থাৎ তোমাদের মধ্যে কেউই আমার মত নয়। বা আমি তোমাদের কারো মত নই। 
  • তাই জনৈক কবি বলেছেন, “হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাশার, তবে তিনি অন্যান্য বাশারের মত নন। যেরূপ ইয়াকুত পাথর অন্যান্য পাথরের মত নয়।”

ছাহিবুল মদীনাহ, ছাহিবুল মক্কাহ, ছাহিবুল হাত্বীম, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমস্ত ইল্‌মের অধিকারী ॥ সুন্দর হস্তাক্ষরে লিখন উনার মু’জিযা


“যিনি (আল্লাহ পাক) কলম দ্বারা শিক্ষা দিয়েছেন।” (সূরা আলাক্ব/৪) অর্থাৎ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে স্বয়ং আল্লাহ পাক লিখার যাবতীয় ইল্‌ম দিয়েই সৃষ্টি করেছেন। 
আল্লাহ পাক অন্যত্র ইরশাদ করেন, তিনি (আল্লাহ পাক) ইনসানকে সৃষ্টি করেছেন এবং বয়ান শিক্ষা দিয়েছেন।” (সূরা আর রহ্‌মান/২, ৩)

এখানে ‘বয়ান’ এর তাফসীরে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সৃষ্টি হয়েছে এবং হবে। অর্থাৎ পূর্ব ও পরবর্তী সব ঘটনার জ্ঞান। (তাফসীরে মা’আলিমুত তানযীল)
অর্থাৎ আয়াত শরীফ-এর অর্থ হচ্ছে- আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ পাক সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁকে সমস্ত কিছুর জ্ঞান দান করেছেন।
যেমন, আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমাকে সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত জ্ঞান দান করা হয়েছে।

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘শা’রে’ বা ‘শরীয়ত প্রণেতা’


হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শরীয়তের ধারক ও বাহক বা শরীয়ত প্রণেতা। তিনি যদি কোন জিনিসকে হারাম বলতেন, তবে তা চিরকালের জন্য হারাম হয়ে যেতো এবং কোন জিনিসকে হালাল বলতেন, তা চিরকালের জন্য হালাল হয়ে যেতো। নিম্নে তার কয়েকটি উদাহরণ বর্ণিত হলো-
১. একবার হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করলেন, “হে মানুষ! তোমরা হজ্জ করবে, হজ্জ করা তোমাদের উপর ফরয। জনৈক ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ পাক-এর রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! প্রত্যেক বছরই কি হজ্জ করা ফরয? তার উত্তরে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “যদি আমি হ্যাঁ বলে, তবে প্রত্যেকের উপর প্রতি বছর হজ্জ করা ফরয হয়ে যাবে।” (মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ, লুময়াত, শরহুত ত্বীবী, তা’লীকুছ ছবীহ)

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দুনিয়াবী হায়াত মুবারকের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা - ২

পবিত্র মদীনা শরীফে:

প্রথম হিজরীঃ হিজরতের সময় পথিমধ্যে বরিদা বিন হাসিব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হত্যা করতে এসে নিজেই ৭০জন বাহিনীসহ ইসলাম গ্রহণ করে। অতঃপর কুবায় ১৪দিন অবস'ান করেন এবং সেখানে মসজিদ নির্মাণ করেন। মদীনা শরীফ গমনকালে বতনে ওয়াদি নামক স'ানে ১০০ জন ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমকে নিয়ে জুময়ার নামাজ আদায় করেন এবং সেখানে মসজিদ নির্মাণ করেন। মদীনা শরীফে প্রবেশ করে ৭/৮ মাস হযরত আবু আইউব আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর গৃহে অবস্থান করেন। এ সময় মসজিদে নববী ও উম্মুল মু’মিনীনগণের কক্ষসমূহ নির্মাণ করা হয়। এরপর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখান হতে নিজ অবস্থানে যান। এ সকল কক্ষের প্রত্যেকটি দৈর্ঘ্য ১০ হাত, প্রস্থ ৬ হাত এবং উঁচু একজন মানুষ দাঁড়িয়ে হাত উঁচু করে স্পর্শ করতে পারতো। এরপর আযানের প্রবর্তন হয়।

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দুনিয়াবী হায়াত মুবারকের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা - ১


পবিত্র মক্কা শরীফে:

১। ৫৭০ খ্রিস্টাব্দ রজব মাসের প্রথম জুমুয়ার রাতে (লাইলাতুর রাগাইব) হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিতা আম্মা হযরত আমিনা আলাইহাস্‌ সালাম-এর রেহেম শরীফে তাশরীফ আনেন।

২। হযরত খাজা আব্দুল্লাহ্‌ আলাইহিস্‌ সালাম-এর বিছাল শরীফের ৬ মাস পরে, ৫৭০ খ্রীঃ ২৯শে আগস্ট পারস্যের সুবিখ্যাত সম্রাট নওশেরওয়াঁর রাজত্বের চতুর্বিংশ বৎসরে আছ্‌হাবে ফীল্‌-এর ঘটনার ৫৫ দিন পরে, পবিত্র রবিউল আউয়াল শরীফের ১২ই শরীফ তারিখে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীমি বা সোমবার শরীফে (সর্বাধিক মশহুর মত) সূর্যোদয়ের কিছুক্ষণ পূর্বে, হাবীবুল্লাহ্‌ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দুনিয়াতে তাশ্‌রীফ আনেন।

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নাম মুবারক শেষে সংক্ষেপে দুরূদ শরীফ লিখা প্রসঙ্গে


খাতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নাম মুবারক শুনে জীবনে একবার দুরূদ শরীফ পাঠ করা ফরয। আম ফতওয়া হলো একই মজলিসে একাধিকবার নাম মুবারক উচ্চারিত হলে একবার দুরূদ শরীফ পাঠ করা ওয়াজিব, আর প্রতিবারই দরূদ শরীফ পাঠ করা মোস্তাহাব। আর খাছ ফতওয়া হলো প্রতিবারই দুরূদ শরীফ পাঠ করা ওয়াজিব। তদ্রুপ শরীয়তের হুকুম হচ্ছে- আল্লাহ পাক-এর রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নাম মুবারক লিখার সময় সম্পূর্ণ দুরূদ শরীফ লিখা ওয়াজিব।

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্পর্শ ধন্য কিছু জিনিস মুবারক-এর বেমেছাল মর্যাদা ও ফযীলত প্রসঙ্গে



لئن شكرتم لازيدنكم
অর্থ: “যদি তোমরা আল্লাহ পাক উনার নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করো তবে অবশ্যই আল্লাহ পাক তোমাদের নিয়ামত বৃদ্ধি করে দিবেন।” (সুরা ইবরাহীম : আয়াত শরীফ ৭)

আল্লাহ পাক প্রদত্ত যাবতীয় নিয়ামতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত হলেন সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শান-মান, মর্যাদা-মর্তবার প্রতি যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করত সেই সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে সদা সচেষ্ট থাকতেন। উনারা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্পর্শ ধন্য যে কোনো জিনিস মুবারককে অতীব বরকতময় মনে করে সেগুলোর প্রতি বেমেছাল তা’যীম-তাকরীম প্রদর্শন করতেন এবং তা থেকে বরকত হাছিল করতেন।

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার হযরত আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার বাম পার্শ্বের পাঁজর মুবারক-এর নিচ থেকে কুদরতীভাবে আগমন করেছেন।

মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বেমেছাল ফাযায়িল-ফযীলত, মর্যাদা-মর্তবা, শান-মান দান করেছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনাকে এবং আপনার যিকির (মর্যাদা-মর্তবা)কে সমুন্নত করেছি।”

মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বতেই সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। এ প্রসঙ্গে হাদীছে কুদসী শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি ছাড়া যত কিছু রয়েছে সব আপনার জন্যই সৃষ্টি করেছি।” সুবহানাল্লাহ!

হাদীছে কুদসী শরীফ-এ এসেছে, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “আমি আপনাকে খলীল ও হাবীব হিসেবে গ্রহণ করেছি।”
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার দিকে বা উনার জন্য মনোনীত করেন যাঁকে ইচ্ছা উনাকেই।” (সূরা শূরা : আয়াত শরীফ ১৩)

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সর্বপ্রকার ইলমসহই সৃষ্টি হয়েছেন

‘গইব’ হচ্ছে এরূপ এক অদৃশ্য বস্তু বা বিষয়; যা মানুষ চোখ, নাক, কান ইত্যাদি ইন্দ্রিয়সমূহের সাহায্যে উপলব্ধি করতে পারে না এবং যা কোনো দলীল-প্রমাণ ব্যতীত সুস্পষ্টভাবে ইলমের আওতায়ও আসে না। যেমন- জিন, ফেরেশতা, বেহেশত, দোযখ ইত্যাদি আমাদের জন্য গইব বা অদৃশ্য। কেননা এগুলোকে ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে অথবা বিনা দলীলে শুধুমাত্র বিবেক বুদ্ধির দ্বারা অনুভব করা যায় না।

‘গইব’ দুই প্রকার। যথা- ১. যা যুক্তি প্রমাণভিত্তিক অর্থাৎ প্রমাণাদি দ্বারা অনুভব করা যায়। যেমন- বেহেশত, দোযখ মাখলুকাত, মহান আল্লাহ পাক উনার জাত, গুণাবলী এবং কুরআন শরীফ-এর আয়াতসমূহ দেখে এ সম্পর্কে অনুভব করা যায়। ২. যা দলীলের দ্বারাও অনুভব করা যায় না। যেমন- ক্বিয়ামত কখন হবে, মানুষ কখন মারা যাবে ইত্যাদি। আর এ দ্বিতীয় প্রকার গইবকেই ‘মাফাতীহুল গইব’ বলা হয়।

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামসহ কোন নবী-রসূল আলাইহিমুস্‌ সালামগণেরই ব্যক্তিগত যিন্দিগী বলতে কিছুই ছিল না।

আল্লাহ পাক-এর হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ পাক-এর রসূল ব্যতীত নন।” (সূরা আলে ইমরান/১৪৪)

আর আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “সাবধান হয়ে যাও, আমি হলাম আল্লাহ পাক-এর হাবীব।” (তিরমিযী, দারিমী, মিশকাত) অর্থাৎ আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ পাক-এর নবী, রসূল ও হাবীব হিসেবেই সৃষ্টি হয়েছেন। যেমন, হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “হযরত মাইসারাতুল ফজর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আমি তখনও নবী ছিলাম যখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম রূহ ও শরীরে ছিলেন।” (তারীখে বুখারী, আহমদ, আলহাবী, ইত্তেহাফুচ্ছাদাত, তাযকেরাতুল মাউজুয়াত, কানযুল উম্মাল, দাইলামী, ত্ববরানী, আবু নঈম, মিশকাত, মিরকাত)।

যারা বলে, ‘সিনা মুবারক চাক করে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার ভিতর থেকে খারাপ জিনিস ফেলে দেয়া হয়েছে’ তাদের এ বক্তব্য কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।


ছহীহ ও বিশুদ্ধ মতে, আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সিনা মুবারক চাক করা হয়েছিলো চার বার। প্রথমবার তিনি স্বীয় দুধ মা হযরত হালিমা সা’দিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা-এর লালন-পালনে, তখন তাঁর বয়স মুবারক তিন থেকে পাঁচ বছর ছিলো। দ্বিতীয়বার দশ থেকে চৌদ্দ বছর বয়স মুবারকে, তৃতীয়বার আনুষ্ঠানিকভাবে নুবুওওয়াত ঘোষণার সময় হেরা গুহায় এবং চতুর্থবার মি’রাজ শরীফ-এর রাতে কাবা শরীফ-এ।
আল্লাহ পাক কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ করেছেন, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি কি আপনার বক্ষ মুবারক প্রশস্ত (চাক) করিনি? অর্থাৎ আপনার বক্ষ (সিনা) মুবারক চাক করেছি। (সূরা আলাম নাশরাহ- ১)
বদ আক্বীদা ও বাতিল ফিরক্বার লোকেরা বলে থাকে যে, “হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রথমবার সিনা মুবারক চাকের সময়, উনার ভিতর থেকে ক্বলব মুবারক বের করে তা ফেড়ে শয়তানের অংশ বের করে ফেলে দিয়ে ক্বলবকে পবিত্র করা হয়েছিলো।” (নাঊযুবিল্লাহ)
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনারা জান্নাতী তো অবশ্যই বরং জান্নাত উদগ্রীব হয়ে আছে উনারা কখন জান্নাতে প্রবেশ করবেন।

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনারা ফিতরাত যুগের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং উনারা দ্বীনে হানীফের উপর কায়িম ছিলেন। উনারা জান্নাতী তো অবশ্যই বরং জান্নাত উদগ্রীব হয়ে আছে উনারা কখন জান্নাতে প্রবেশ করবেন। উনারা জান্নাতে প্রবেশ করলেই জান্নাত কামিয়াব এবং জান্নাত-এর জান্নাত নামের সার্থকতা হাছিল হবে। এর বিপরীত আক্বীদা পোষণ করা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।”

আখেরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্‌ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই জান্নাতের মালিক।


বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ, ইত্যাদি হাদীছ শরীফে বর্নিত রয়েছে, “হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, আল্লাহ্‌ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ ফরমান, আল্লাহ পাক যার ভালাই (কল্যাণ) চান তাকেই দ্বীনের ছহীহ্‌ সমঝ দান করেন। আর অবশ্যই আমি (সমস্ত নিয়ামতের) বণ্টনকারী, আর মহান আল্লাহ্‌ পাক দান করেন।”

মহান আল্লাহ পাক স্বীয় মাখলুকাতকে দুনিয়া ও আখিরাতে যত নিয়ামত দান করেছেন, করছেন ও করবেন তার সমস্তই আল্লাহ পাক-এর হাবীব,হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উছীলায় বা উনার মাধ্যমে। অর্থাৎ তিনিই হচ্ছেন আল্লাহ পাক-এর সমস্ত নিয়ামতের বণ্টনকারী।

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র আবাসস্থল মদীনা শরীফ-এর প্রতি আদব ও ফযীলত


আল্লাহ পাক যে সকল বস্তুকে সম্মানীত করেছেন, তাকে যে ব্যক্তি সম্মান করলো, এটা তার জন্য কল্যাণ বা ভালাইয়ের কারণ।” (সূরা হজ্ব-৩০)

পবিত্র মদীনা শরীফ-এর ফাযায়িল-ফযীলত বর্ণনা করা প্রকৃতপক্ষে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ফাযায়িল-ফযীলত আলোচনার একটা অংশ"। 
এ জন্য আল্লাহ পাক নিজেই সূরা কাওছার-এ বলেন, “আমি আপনাকে কাওছার হাদিয়া করেছি।” আর “কাওছার”-এর লক্ষ কোটি অর্থ রয়েছে। একটা অর্থ হচ্ছে, ‘খাইরে কাছীর’ তথা সমস্ত কল্যাণ দেয়া হয়েছে। আরেকটা অর্থ হচ্ছে, আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ছোহবতের কারণে সব কিছুই উত্তম থেকে উত্তমতর হয়ে গেছে।

হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নাম মুবারক ছাড়া ঈমানের কালিমা অপূর্ণ


মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি ইরশাদ করেন,
انما المؤمنون الذين امنوا بالله ورسوله
অর্থ: “নিশ্চয়ই প্রকৃত মু’মিন-মুসলমান উনারাই যাঁরা আল্লাহ তায়ালা ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের উপর ঈমান এনেছেন।” (সূরাতুন নূর : আয়াত শরীফ ৬২)

আল্লাহ রব্বুল আলামীন তিনি সূরা আলে ইমরান-এর ১৭৯ নম্বর আয়াত শরীফ-এ ইরশাদ করেন-
فامنوا بالله ورسله وان تؤمنوا وتتقوا فلكم اجر عظيم.
অর্থ: “তোমরা আল্লাহ তায়ালা ও উনার নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের উপর ঈমান আনো। যদি তোমরা ঈমান আনো এবং ভয় করো, তাহলে তোমাদের জন্য মহা পুরস্কার রয়েছে।”

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুখ মুবারক-এর পবিত্র লালা মুবারক-এ অভাবনীয় বরকত!



ছহীহ বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ-এ বর্ণিত হয়েছে। হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, খন্দকের জিহাদের সময় আমরা পরিখা খননের কাজে লিপ্ত ছিলাম। হঠাৎ একটি বড় পাথর দেখা দিলো। আমরা কেহই উহাকে স্থানান্তর করিতে পারিতেছিলাম না। ফলে খনন কাজ ব্যাহত হতে ছিলো। সংবাদ পেয়ে  হাবীব্ল্লুাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তথায় তাশরীফ নিলেন এবং কুড়ালের এক আঘাতেই ওই বিরাট পাথরটিকে গুঁড়িয়ে দিলেন। অথচ যাহিরীভাবে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তিন দিনের অভুক্ত অবস্থায় ছিলেন। উনার পেট মুবারক-এ তখন পাথর বাঁধা ছিলো।

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক ‘শবে-মীলাদ-এর মু’জিযাসমূহ’



ورفعنا لك ذكرك
অর্থ: “হে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনার যিকিরকে বুলন্দ করেছি।” (সূরা আলাম নাশরাহ : আয়াত শরীফ ৪)

শাফিউল উমাম, রউফুর রহীম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অস্তিত্ব মুবারক-এর প্রতিটি মুহূর্ত অসংখ্য মু’জিযা দ্বারা সমৃদ্ধ। শুধু তাই নয়, উনার মুবারক বিলাদতের রাত্রেই লক্ষ-কোটি মু’জিযা সংঘটিত হয়েছে। নিম্নে তার যৎকিঞ্চিত আলোকপাত করা হলো-

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের মত মানুষ নন

বুখারী শরীফ ও ফতহুল বারী কিতাবে আরো বর্ণিত আছে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই আমি তোমাদের অনুরূপ নই।”
বুখারী শরীফ ও ফতহুল বারী কিতাবে এ প্রসঙ্গে আরো বর্ণিত আছে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “তোমাদের মধ্যে আমার অনুরূপ কে রয়েছে?” অর্থাৎ অন্য কেউই হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মত নয় বা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য কারো মত নন। জনৈক কবি বলেছেন, “হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাশার, তবে তিনি অন্যান্য বাশারের মত নন। যেরূপ ইয়াকুত পাথর, অন্যান্য পাথরের মত নয়।”
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তো অনেক দুরের কথা উনার পুত-পবিত্রা আহলিয়াগণ অর্থাৎ হযরত উম্মুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাগণ উনাদের পবিত্র শানেই আল্লাহ পাক সূরা আহযাবে ইরশাদ করেন, “হে রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্ত্রীগণ! আপনারা অন্যান্য মহিলাদের মত নন।” সুতরাং যেই রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম-এর আহলিয়া হওয়ার কারণে উনারা দুনিয়ার সকল মহিলাদের থেকে তুলনাহীন হলেন, সেই মহান ব্যক্তিত্ব যিনি একমাত্র আল্লাহ পাক উনার পরেই সমস্ত প্রকার শ্রেষ্ঠত্ব, ভালাই ও কল্যাণের একচ্ছত্র অধিকারী, তিনি আমাদের মত মানুষ হন কি করে?

Saturday, January 16, 2016

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার নিজ কান মুবারক দ্বারা উম্মতের ছলাত শরীফ, সালাম শরীফ বা পবিত্র দুরূদ শরীফ শুনেন। "


হাদীছ শরীফ  মধ্যে ইরশাদ  হয়েছে, হযরত আবু হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণিত। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার ছলাত শরীফ বা পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তার প্রতি দশটি রহমত নাযিল করবেন।’ (মুসলিম শরীফ)
হাদীছ শরীফ  মধ্যে আরো ইরশাদ হয়েছে, হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন,  হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আমার উপর একবার ছলাত শরীফ বা পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তার উপর দশবার রহমত নাযিল করবেন এবং তার দশটি গুনাহ ক্ষমা করা হবে ও তার দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে।” (নাসাঈ শরীফ)

পোশাক-পরিচ্ছদের সুন্নাতসমূহ

ক) টুপির সুন্নাতঃ চার টুকরা বিশিষ্ট গোল, সাদা, সুতি কাপড়ের তৈরী টুপি ব্যবহার করা সুন্নাত। 

খ) কোর্তা বা জামার সুন্নাতঃ হাঁটু ও গিরার মাঝামাঝি পর্যন্ত লম্বা এবং আস্তিন কব্জি পর্যন্ত বিলম্বিত হবে এবং তা গুটলি যুক্ত, কোনা বন্ধ (গোল) -এরূপ কোর্তা ব্যবহার করা সুন্নাত।

গ) ইজার বা লুঙ্গির সুন্নাতঃ সেলাইবিহীন (ফাঁড়া) লুঙ্গি পরিধান করা সুন্নাত। দৈর্ঘ্যে সাড়ে চার হাত ও প্রস্থে আড়াই হাত লম্বা হওয়া সুন্নাত।

সুন্নাত এর শ্রেণিবিভাগ


মুহাদ্দিছীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ সুন্নাহ শরীফকে প্রধানতঃ তিন ভাগে ভাগ করেছেন। যথাঃ
১) মারফূঃ হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কথা, কাজ ও মৌন সম্মতিকে মারফূ হাদিছ শরীফ বলে। মারফূ হাদিছ শরীফকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা হয়ঃ
ক) ক্বওলীঃ হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুখ মুবারক নিঃসৃত বাণী মুবারককে মারফূ ক্বওলী হাদিছ শরীফ বলে।

সমস্ত জিন-ইনসান, বান্দা-বান্দী, উম্মতের জন্য একমাত্র অনুসরণীয়, অনুকরণীয় হলেন =হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিঃ

কুল-কায়িনাতের যিনি  আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা তিনি উনার কালাম পাক-এর বহু আয়াত শরীফ-এ হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইত্তিবা, ইতায়াত তথা অনুসরণ, অনুকরণ করার জন্য বলেছেন, আদেশ-নির্দেশ করেছেন।
যেমন, 
  • এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তোমাদের কাছে যা নিয়ে এসেছেন তা গ্রহণ করো বা পালন করো এবং যা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন তা থেকে বিরত থাক। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তিদাতা।”(সূরা হাশরঃ  আয়াত শরীফ-৭)
  • হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন যে, একদিন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব রদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এসে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা ইহুদীদের থেকে তাদের কিছু ধর্মীয় কথা শুনে থাকি, যাতে আমরা আশ্চর্যবোধ করি, এর কিছু আমরা লিখে রাখবো কি? হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, তোমরাও কি দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছ; যেরকম ইহুদী-নাছারারা দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে? অবশ্যই আমি তোমাদের নিকট পরিপূর্ণ, উজ্জ্বল ও সুস্পষ্ট দ্বীন নিয়ে এসেছি। হযরত মূসা আলাইহিস সালাম (ইহুদীদের যিনি নবী ও রসূল) তিনিও যদি হায়াত মুবারক-এ থাকতেন তাহলে উনাকেও আমার অনুসরণ করতে হতো।” (মুসনাদে আহমদ, বাইহাক্বী, মিশকাত, মিরকাত, আশয়াতুল লুময়াত, লুময়াত, শরহুত ত্বীবী, তা’লীকুছ ছবীহ ইত্যাদি)

Wednesday, January 13, 2016

নবিজির মর্যাদা



  • হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা বর্ননা করেছেন যে ,আমি হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কদম মুবারকে আরজি পেশ করলাম , ইয়া রসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার মাতা পিতা আপনার জন্য কোরবান হোক। যখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম বেহেশতে ছিলেন তখন আপনি কোথায় অবস্থান করতে ছিলেন ? হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুচকি হাসি মুবারক দিলেন যাতে উনার দন্ত মুবারক দেখা গেল । তারপর তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন “ আমি হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার পৃষ্ঠদেশ মুবারকে ছিলাম। তারপর পিতা হযরত নুহ আলাইহিস সালাম উনার উনার পৃষ্ঠ মুবারকে আমাকে জাহাজে তোলা হল। তারপর হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পৃষ্ঠ মুবারকে (আমার নুর) স্থাপন করা হল। আমার পিতা মাতা (পিতৃ মাতৃ বংশ মুবারক) আলাইহিমাস সালাম কখনো বিয়ে শাদী বিহীন নিকটবর্তি হননি। মহান আল্লাহ পাক সদাই আমাকে পবিত্র জন্মসুত্রে পবিত্র রেহেমে স্তানান্তরিত করে গেছেন। তাওরাত শরীফ ও ইনজীল শরীফ উনাতে উল্লেখ সহকারে আমার আগমনী খোশখবর জানানো হয়। প্রত্যেক নবী আলাইহিস সালাম আমার প্রশংসা করে গেছেন। আমার নুর মুবারকের কারনে ভোরের আলো উদ্ভাসিত হয়। আর আকাশের মেঘমালা আমার সোজন্যেই ছায়া নামায় । আর মহান আল্লাহ পাক নিজের সুন্দর নাম মুবারক সমুহ থেকে আমার নাম দেন। কাজেই তিনি পবিত্র আরশ পাক উনার মালেক মাহমুদ আর আমি মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম । আর মহান আল্লাহ পাক আমাকে হাউজে কাওসার প্রদানের ওয়াদা করেছেন। তিনি সবার আগে আমাকেই সুপারিশকারী বানিয়েছেন। আর আমি প্রথম ব্যক্তি যার সুপারিশ কবুল করা হবে। তারপর মহান আল্লাহ পাক আমাকে নিজের উম্মতদের জন্য সময়ে আবির্ভুত করেছেন । আমার উম্মত উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার প্রশংসাকারী । তারা নেক কাজের আদেশকারী ও বদকাজের নিষেধকারী । “

হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সৃষ্টি করা না হলে কিছুই সৃষ্টি হতনা

৩. হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্নিত আছে যে ,হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেছেন “ হযরত আদম আলাইহিস সালাম যখন জান্নাত হতে জমীনে তাশরীফ গ্রহন করলেন ,তখন তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে এই বলে আরজি পেশ করলেন যে ,” আয় বারে ইলাহী! আমি আপনার কাছে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উছিলা নিয়ে আপনার কাছে আরজি করছি আমাকে ক্ষমা করুন । এতে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন “ হে আদম আলাইহিস সালাম! আপনি হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কিভাবে চিনলেন যখন আমি এখনো উনার শান প্রকাশ করিনি ? “ হযরত আদম আলাইহিস সালাম নিবেদন করলেন “ আয় বারে ইলাহী! যখন আপনি আপনার কুদরতি হাত মুবারকে আমাকে সৃষ্টি করে আমার মাঝে রুহ মুবারক সঞ্চালন করলেন ,তখন আমি নিজ মাথা মুবারক তুলে পবিত্র আরশ উনার প্রতিটি খুটি মুবারকে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মাদুর রসুলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিখিত দেখলাম। তখনি আমি জেনে গেলাম যে আপনার নাম মুবারকের সাথে উনার নাম মুবারক সারা সৃষ্টির সেরা হিসেবে আপনার কাছে প্রিয়’। এতে মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন ,হে আদম আলাইহিস সালাম !আপনি সঠিক বলেছেন । সৃষ্টির সবার চেয়ে আমার প্রিয় হচ্ছেন আমার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। এখন যখন আপনি উনার উছিলা দিয়ে আমার কাছে আরজি পেশ করেছেন তখন আপনাকে আমি ক্ষমাই করে দিলাম। যদি হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সৃষ্টি করা না হত ,তাহলে আমি আপনাকেও সৃষ্টি করতামনা “ (এ হাদিসটি ইমাম হাকেম,বায়হাকী ও ইবনে আসাকের বর্ননা করেছেন। ইমাম হাকীম রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন এ হাদীসের সনদ সহি)
ü হাকেম আল মুস্তাদরাক,২/৬৭২, ক্রমিক ৪২২৮
ü বায়হাকী, দলাইলুন নুবুওয়াত ৫/৪৮৯
ü আল কাযী আয়ায,আস শিফা ,১/২২৭
ü ইবনে আসাকের,তারিখে মদিনায়ে দামিশক,৭/৪৩৭
ü ইবনে কাসীর,আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া,১/১৩১,২/২৯১,১/৬
ü আস সুয়ুতী,আল খাসায়িসুল কুবরা ১/৬
ü ইবনে সুরায়া ,সিলাহুল মুমিন ফিদ দুয়া ১/১৩০,ক/২০৬  

নবিজির মর্যাদা বুলন্দ করা হয়েছে

২. হযরত আবু সাঈদ আল খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্নিত যে, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেছেন “ হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম আমার কাছে আসলেন এবং বললেন যে ‘ নিশ্চয় আমার এবং আপনার রব মহান আল্লাহ পাক আপনার জন্য বার্তা পাঠিয়েছেন যে তিনি আপনার যিকির কত বুলন্দ করে রেখেছেন ? হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবকিছু জানা সত্বেও জবাব মুবারক দিলেন মহান আল্লাহ পাক তিনি-ই ভালো জানেন । তখন হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম বললেন ‘মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেছেন “হে আমার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখনই আমার যিকির হবে তখনই আমার সাথে আপনার ও উল্লেখ হবে “ সুবহানাল্লাহ
ü ইবনে হাব্বান আস সহীহ,৮/১৭৫,ক্রমিক ৩৩৮২
ü আবু ইয়ালা ,আল মুসনদ, /৫২২,ক্রমিক ১৩৮
ü আদ দায়লামী ,মুসনদুল ফিরদাউস , ৪/৪০৫, ক্রমিক ৭১৭৬
ü আত তাবরানী, জামিউল বায়ান, ৩০/২৩৫
ü ইবনে কাসীর, তাফসিরুল কোরয়ানুল আযীম, ৪/৫২৫
ü আল হায়সমী , মাওয়ারিদিল যিমনা ,১/৪৩৯
ü আল আসকলানী , ফতহুল বারী ,৮/৭১২
ü আল মুনাবী,ফয়যুল কদীর, ১/৯৮
ü আল উন্দুলুসী ,রুহফাতুল মুহতাজ, ১/৩০৬

দরুদ শরীফ পড়া ব্যতিত দোয়া কবুল হবেনা

১. হযরত ফাযালা ইবনে ওবাইদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্নিত যে, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে নামাযের সময় এমনভাবে দোয়া করতে শুনলেন যে ,সে দোয়ায় হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর দরুদ শরীফ পাঠ করলনা । এতে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফরমানেল যে, উক্ত ব্যক্তি তাড়াতাড়ি দোয়া সেরে নিলেন।তারপর তিনি উক্ত ব্যক্তিকে কাছে ঢেকে নিলেন এবং উনাকে বা উক্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কাউকে জানালেন যে “আপনাদের মাঝে কেউ যদি নামাজ পড়েন । তাহলে উনার উচিত হবে সর্বপ্রথম মহান আল্লাহ পাক উনার মাহাত্ব্য বর্ননা করা । তারপর হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি দরুদ পড়া। অতঃপর যা চেয়ে দোয়া করা হবে তাই কবুল করা হবে।
ü তিরমিযি ,আস সুনান ৫:৫১৭,ক্রমিক ৩৪৭৭
ü আবু দাউদ,আস সুনান, কিতাব- আস সালাত ২:৭৬,ক্রমিক -১৪৮১
ü আহমদ ইবনে হাম্বল,আল মুসনদ,৬:১৮, ক্রমিক ২৩৯৮২
ü ইবনে খুযাইমা ,আস সহীহ,১:৩৫১, ক্রমিক – ৭০৯-৭১০
ü ইবনে হাব্বান ,আস সহীহ, ৫:২৯০ ,ক্রমিক ১৯৬০
ü আল হাকেম, আল-মুস্তাদরক , ১:৪০১, ক্রমিক- ৯৮৯
ü আত তাবরানী ,আল মুজাম আল কবীর,১৮:৩০৭, ক্রমিক ৭৯১,৭৯৩