Friday, January 5, 2018

সহি হাদীসে বর্নিত হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সৃষ্টির মুল

হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, 
اخْرج الْحَاكِم وَالْبَيْهَقِيّ وَالطَّبَرَانِيّ فِي الصَّغِير وَأَبُو نعيم وَابْن عَسَاكِر عَن عمر بن الْخطاب رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لما اقْتَرَف آدم الْخَطِيئَة قَالَ يَا رب بِحَق مُحَمَّد لما غفرت لي قَالَ وَكَيف عرفت مُحَمَّدًا قَالَ لِأَنَّك لما خلقتني بِيَدِك ونفخت فِي من روحك رفعت رَأْسِي فَرَأَيْت على قَوَائِم الْعَرْش مَكْتُوبًا لَا إِلَه إِلَّا الله مُحَمَّد رَسُول الله فَعلمت انك لم تضف إِلَى اسْمك إِلَّا احب الْخلق إِلَيْك قَالَ صدقت يَا آدم وَلَوْلَا مُحَمَّد مَا خلقتك

অর্থ: “হযরত ইমাম আবূ আব্দুল্লাহ হাকিম নীশাপূরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি, হযরত ইমাম বাইহাক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি, হযরত ইমাম ত্ববারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘আছ ছগীর’ নামক কিতাবে, হযরত ইমাম আনূ নাঈম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এবং ইবনে ‘আসাকির রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অর্থাৎ উনারা প্রত্যেকেই স্বীয় কিতাবে উল্লেখ করেন যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যখন আবুল বাশার সাইয়্যিদুনা হযরত আদম ছফীউল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার চরম ফরমাবর্দারী করে দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ মুবারক রাখেন, তখন তিনি বলেন, আয় বারে ইলাহী মহান আল্লাহ পাক! আপনি আপনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে আমার সম্মানিত দোআ মুবারক কবূল করুন, আমার সম্মানিত নেক আমল মুবারক কবূল করুন! তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, আপনি কিভাবে আমার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে চিনলেন? সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল বাশার ছফীউল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, যখন আপনি আপনার সম্মানিত কুদরতী হাত মুবারক-এ আমাকে সৃষ্টি মুবারক করেন এবং আমার মাঝে সম্মানিত রূহ মুবারক ফুঁকে দেন, তখন আমি আমার সম্মানিত মাথা মুবারক উত্তোলন করি। তারপর আমি দেখতে পাই যে, সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক উনার সম্মানিত স্তম্ভ মুবারকসমূহে লিপিবদ্ধ রয়েছেন-
لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ! তখন আমি বুঝতে পারি যে, আপনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক উনার সাথে যেই সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক লিখিত রয়েছে, নিশ্চয়ই তিনিই আপনার নিকট সর্বাধিক প্রিয় মহাসম্মানিত ব্যক্তিত্ব মুবারক। সুবহানাল্লাহ! তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, হে হযরত আবুল বাশার ছফীউল্লাহ আলাইহিস সালাম! আপনি সত্য কথাই বলেছেন। যদি আমি আমার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সৃষ্টি না করতাম, তাহলে আমি আপনাকেও সৃষ্টি করতাম না।” সুবহানাল্লাহ! (খছায়িছুল কুবরা শরীফ, মুস্তাদরকে হাকিম, ত্ববারণী, বাইহাক্বী, আবূ না‘ঈম, ইবনে আসাকির ইত্যাদী)
হাকিমে হাদীছ হযরত ইমাম আবূ আব্দুল্লাহ হাকিম নীশাপূরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, 
هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحُ الْإِسْنَادِ
অর্থ: “এই সম্মানিত ও পবত্র হাদীছ শরীফখানা ছহীহ সনদে বর্ণিত।” সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাদরকে হাকিম)
শাইখুল ইসলাম আল্লামা হযরত আহমদ শিহাবুদ্দীন ইবনে হাজার হাইতামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘ফতওয়ায়ে হাদীছিয়্যাহ শরীফ’ উনার মধ্যে আবূ আব্দুল্লাহ হাকিম নীশাপূরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ‘মুস্তাদরকে হাকিম শরীফ’ উনার  বরাতে উক্ত হাদীছ শরীখানা উল্লেখ করার পর বলেন, 
وَفِي سَنَد واه قَالَ ابْن عدي: فِيهِ أَحَادِيث حسان
অর্থ: “এই সম্মানিত ও পবত্র হাদীছ শরীফখানা চমৎকার সনদে বর্ণিত। হযরত ইবনে আদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, এই বিষয়ে আরো বহু সম্মানিত ও পবিত্র হাসান হাদীছ শরীফ রয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ!
তারপর তিনি এই সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফখানা ছহীহ প্রমাণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! (ফতওয়ায়ে হাদীছিয়্যাহ ১/১৩৪)

No comments:

Post a Comment