Friday, January 5, 2018

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক সাত আসমানের সমস্ত জায়গায় লিপিবদ্ধ করে দিয়েছেন।

স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই আশিক্ব হয়ে উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক উনার সাথে উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক সম্মানিত জান্নাত মুবারক, সম্মানিত আরশ মুবারক এবং সাত আসমানের সমস্ত জায়গায় লিপিবদ্ধ করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!:

এই বিষয়ে অনেক সম্মানিত ও পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ রয়েছে। নিম্নে কতিপয় সম্মানিত ও পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ উল্লেখ করা হলো,
১নং সম্মানিত ও পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ:
عَنْ حَضرت جابر رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم رأيت على باب الجنة مكتوبا لا اله الا الله محمد رسول الله 
অর্থ: “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি দেখেছি সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার দরজা মুবারক-এ লিখা রয়েছে-
لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” সুবহানাল্লাহ! (ফাদ্বায়িলুছ ছাহাবাহ লিআহমদ ইবনে হাম্বল ২/৬৬৫, দায়লামী শরীফ ২/২৫৭)
২নং সম্মানিত ও পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ:
عن ابن عباس رضي الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ليس في الجنة شجرة إلا وعلى كل ورقة منها مكتوب لا إله إلا الله محمد رسول الله.
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুমা উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মধ্যে এমন কোনো গাছ নেই, যেই গাছের প্রতিটি পাতায় পাতায় লিখা নেই-لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” (আদ দীবাজ ১/২২, তারীখে বাগদাদ ৭/৩৩৭, মুখতাছারু তারীখে দিমাশক্ব ৫/১৭৮ ইত্যাদি)
৩নং সম্মানিত ও পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ:
হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, 
الدَّلِيلُ الثَّامِنُ: مَا وَرَدَ مِنْ حَدِيثِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ وأنس، وجابر، وَابْنِ عَبَّاسٍ، وَابْنِ عُمَرَ، وَأَبِي الدَّرْدَاءِ، وَأَبِي هُرَيْرَةَ، وَغَيْرِهِمْ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخْبَرَ أَنَّهُ ্রمَكْتُوبٌ عَلَى الْعَرْشِ وَعَلَى كُلِّ سَمَاءٍ وَعَلَى بَابِ الْجَنَّةِ وَعَلَى أَوْرَاقِ شَجَرِ الْجَنَّةِ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. 
অর্থ: “আষ্টম দলীল: যা (১) হযরত উমর ইবনে খত্তব আলাইহিস সালাম উনার, (২) হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার, (৩) হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার, (৪) হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার, (৫) হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার, (৬) হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার, (৭) হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার অর্থাৎ উনাদেরসহ আরো অনেক বিশিষ্ট হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের থেকে বর্ণিত সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে উল্লেখ রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক-এ, সমস্ত আসমানসমূহে, সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার দরজায় এবং সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার প্রত্যেক গাছের পাতায় পাতায় লিপিবদ্ধ রয়েছে-لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” সুবহানাল্লাহ! (হাওই শরীফ ২/১৩৬)
হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ও ইবনে হাজার হাইতামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অর্থাৎ উনারা সম্মানিত ও পবিত্র কালিমা শরীফ উনার সম্পর্কে বর্ণিত সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফসমূহ উনাদেরকে ছহীহ বলেছেন, যার কারণে উনারা এই সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা দলীল পেশ করেছেন। আর এই সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফসমূহ ৭ জন বিশিষ্ট হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরসহ আরো অধিক সংখ্যক বিশিষ্ট হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের থেকে বর্ণিত হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! (হাওই শরীফ ২/১৭৪, ফতওয়ায়ে হাদীছিয়্যাহ ১/১৫২) 
৪নং সম্মানিত ও পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ:
وَرَوَى ابْنُ عَسَاكِرُ عَنْ كَعْب الْاَحْبَارِ قَالَ: ্রاِنَّ اللهَ اَنْزَلَ عَلٰى اٰدَم عَلَيْهِ السَّلَامُ عصيًّا بِعَدَدِ الْاَنْبِيَاءِ الْـمُرْسَلِيْنَ، ثُـمَّ اَقْبَلَ عَلَى ابْنِهٖ شِيْثٍ فَقَالَ: اَىْ بُنَـىَّ اَنْتَ خَلِيْفَتِـىْ مِنْ بَعْدِىْ فَخُذْهَا بِعِمَارَةِ التَّقْوٰى وَالْعُرْوَة الْوُثْقٰى وَكُلَّمَا ذَكَرْتَ اللهَ فَاذْكُرْ اِلـٰى جَنْبِهِ اسْمَ مُـحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَاِنَّـىْ رَأَيْتُ اسْـمَهٗ مَكْتُوْبًا عَلـٰى سَاقِ الْعَرْشِ وَاَنَا بَيْنَ الرُّوْحِ وَالطِّيْنِ، كَمَا اَنِّـىْ طفت السَّمَاوَاتِ فَلَمْ اَرَ فِـى السَّمَاوَاتِ مَوْضِعًا اِلَّا رَأَيْتُ اسْمَ مـُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَكْتُوْبًا عَلَيْهِ، وَاِنَّ رَبِّـىْ اَسْكَنَنِـىَ الْـجَنَّةَ فَلَمْ اَرَ فِـى الْـجَنَّةِ قَصْرًا وَّلَا غُرْفَةَ اِلَّا اسْمَ مُـحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَكْتُوْبًا، وَلَقَدْ رَأَيْتُ اسْمَ مُـحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَكْتُوْبًا عَلـٰى نُـحُوْرِ الْـحُوْرِ الْعِيْنِ، وَعَلـٰى وَرَقِ قصب آجام الجنة، وَعَلـٰى وَرَقِ شَجَرَة طُوْبـٰى، وَعَلـٰى وَرَقِ سِدْرَةِ الْـمُنْتَهٰى، وَعَلـٰى اَطْرَافِ الْـحِجَبِ، وَبَيْنَ اَعْيُنِ الْـمَلَائِكَةِ، فَاَكْثِرْ ذِكْرَهٗ فَاِنَّ الْـمَلَائِكَةَ تَذْكُرُهٗ فِـىْ كُلِّ سَاعَاتِـهَاগ্ধ.
অর্থ: “হযরত কা’ব ইবনে আহবার রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল বাশার আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার উপর হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সমসংখ্যক (অর্থাৎ উনারা যতজন ততখানা) সম্মানিত ‘আছা মুবারক নাযিল করেন। সুবহানাল্লাহ! তারপর তিনি উনার সম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত শীছ আলাইহিস সালাম উনার নিকট অগ্রসর হয়ে বলেন, হে আমার প্রিয় আওলাদ! আপনি আমার পর আমার খলীফা তথা নায়িব হবেন। তাই আপনি উক্ত সম্মানিত দায়িত্ব মুবারক সম্মানিত তাক্বওয়া মুবারক উনার ভিত্তি দ্বারা এবং সুদৃঢ় হাতল মুবারক দ্বারা শক্তভাবে আঁকড়িয়ে ধরুন। আর আপনি যখনই মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত যিকির মুবারক করবেন, আলোচনা মুবারক করবেন, তখনই মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত যিকির মুবারক করবেন, সম্মানিত আলোচনা মুবারক করবেন। সুবহানাল্লাহ! কেননা নিশ্চয়ই আমি সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক উনার স্তম্ভ মুবারক-এ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক লিখা দেখিছি। সুবহানাল্লাহ! আর তা মহান আল্লাহ পাক তিনি লিপিবব্ধ করেছেন, যখন আমি রূহ ও মাটির মাঝে ছিলাম। সুবহানাল্লাহ! আর আমি আসমানসমূহ (সপ্ত আসমান)  ঘুরে দেখেছি; কিন্তু আসমানসমূহে এমন কোনো জায়গা আমি দেখিনি, যেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক লিপিবদ্ধ নেই। অর্থাৎ সপ্ত আসমানের সমস্ত জায়গায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক লিপিবদ্ধ রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ বসবাস করিয়েছেন; কিন্তু আমি সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার এমন কোনো সম্মানিত বালাখানা মুবারক এবং সম্মানিত কামরা বা রুম মুবারক পাইনি, যেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ইসম বা নাম মুবারক লিপিবদ্ধ নেই। সুবহানাল্লাহ! আর আমি অবশ্যই সমস্ত সম্মানিত জান্নাতী হুর উনাদের সম্মানিত গলা মুবারক-এ, উনাদের বুক মুবারক উনার উপরিভাগে (এবং উনাদের চোখের ভিতরে) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক লিপিবদ্ধ দেখেছি। সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার প্রতিটি গাছের ডালে ডালে, পাতায় পাতায়, সম্মানিত তূবা বৃক্ষের পাতায় পাতায়, সিদ্রতুল মুন্তাহার পাতায় পাতায়, সম্মানিত হিজাব মুবারক উনার কিনারে কিনারে এবং সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের চোখসমূহে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ইসম বা নাম মুবারক লিপিবদ্ধ দেখেছি। সুবহানাল্লাহ! কাজেই আপনি অধিক পরিমাণে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত যিকির মুবারক করুন, উনার সম্মানিত আলোচনা মুবারক করুন। কেননা সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা সবসময় দায়িমীভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত যিকির মুবারক করেন, সম্মানিত আলোচনা মুবারক করেন।” সুবহানাল্লাহ! (খছায়িছুল কুবরা, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ, মাওয়াহিবুল লাদুননিয়্যাহ, শরহুয যারক্বানী, ইবনে আসাকির, শরহুল বুখারী, আল হাওই শরীফ ইত্যাদি)

No comments:

Post a Comment