‘নবীজীর ইন্তিকাল দিবস হচ্ছে দুঃখের দিন। আর দুঃখের দিনে খুশি প্রকাশ করাটা অন্যায়।’ এ কথাটা কতটুকু সত্য? সহিহ দলিল কি বলে ??
এ ধরনের কথা কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ-এর সম্পূর্ণ খিলাফ। কেননা কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে, নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণের বিলাদত (জন্ম) , বিছাল (ইন্তেকাল), পুনরুত্থান প্রত্যেকটিই রহমত, বরকত ও সাকীনার কারণ এবং ঈদ বা খুশি প্রকাশের কারণ।
যেমন,
যেমন,
১) হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের ব্যাপারে কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে
-وسلم عليه يوم ولد ويوم يموت ويوم يبعث حيا
অর্থ: ‘উনার প্রতি সালাম (শান্তি) যে দিন তিনি বিলাদত শরীফ লাভ করেছেন এবং যেদিন তিনি বিছাল শরীফ লাভ করবেন এবং যেদিন তিনি পুনরুত্থিত হবেন।’ (সূরা মারইয়াম, আয়াত শরীফ ১৫)
-وسلم عليه يوم ولد ويوم يموت ويوم يبعث حيا
অর্থ: ‘উনার প্রতি সালাম (শান্তি) যে দিন তিনি বিলাদত শরীফ লাভ করেছেন এবং যেদিন তিনি বিছাল শরীফ লাভ করবেন এবং যেদিন তিনি পুনরুত্থিত হবেন।’ (সূরা মারইয়াম, আয়াত শরীফ ১৫)
২) অনুরূপ হযরত ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম সম্পর্কে উনার নিজের বক্তব্য কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-
والسلم على يوم ولدت ومو اموت ويوم ابعث حيا
অর্থ: ‘আমার প্রতি সালাম যেদিন আমি বিলাদত শরীফ লাভ করি, যে দিন আমি বিছাল শরীফ লাভ করি এবং যেদিন পুনরুত্থিত হবো।’ (সূরা মারইয়াম, আয়াত শরীফ-৩৩)
والسلم على يوم ولدت ومو اموت ويوم ابعث حيا
অর্থ: ‘আমার প্রতি সালাম যেদিন আমি বিলাদত শরীফ লাভ করি, যে দিন আমি বিছাল শরীফ লাভ করি এবং যেদিন পুনরুত্থিত হবো।’ (সূরা মারইয়াম, আয়াত শরীফ-৩৩)
৩) হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে- রাসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
حياتى خير لكم ومماتى خير لكم
অর্থ: ‘আমার হায়াত-মউত সব অবস্থাই তোমাদের জন্য কল্যাণ বা খায়ের-বরকতের কারণ।’ (কানযুল উম্মাল)
حياتى خير لكم ومماتى خير لكم
অর্থ: ‘আমার হায়াত-মউত সব অবস্থাই তোমাদের জন্য কল্যাণ বা খায়ের-বরকতের কারণ।’ (কানযুল উম্মাল)
৪) হাদীছ শরীফ-এ আরো বর্ণিত রয়েছে- হুযূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
ان من افضل ايامكم يوم الجمعة فيه خلق ادم وفيه قبض
ان من افضل ايامكم يوم الجمعة فيه خلق ادم وفيه قبض
অর্থ: ‘তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে উত্তম দিন হচ্ছে জুমুআর দিন। এ দিনে হযরত আদম আলাইহিস সালাম পয়দা হয়েছেন এবং এ দিনেই তিনি বিছাল (ইন্তাকাল) লাভ করেছেন।’ (নাসায়ী শরীফ)
অতঃপর হুযূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
ان هذا يوم جعله الله عيدا
অর্থ: ‘এ জুমুআর দিন হচ্ছে এমন একটি দিন যে দিনকে আল্লাহ ঈদের দিন সাব্যস্ত করেছেন।’ (ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমদ)
অতঃপর হুযূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
ان هذا يوم جعله الله عيدا
অর্থ: ‘এ জুমুআর দিন হচ্ছে এমন একটি দিন যে দিনকে আল্লাহ ঈদের দিন সাব্যস্ত করেছেন।’ (ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমদ)
প্রতিভাত হলো যে, জুমুআর দিনটি আল্লাহ তায়ালা উনার নবী ও রসূল হযরত আদম আলাইহিস সালাম- এর বিছাল (ইন্তেকাল) এর দিন হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ স্বয়ং নিজেই সে দিনটিকে খুশির দিন হিসেবে নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। তাহলে কি আল্লাহ পাক অন্যায় করেছেন? নাঊযুবিল্লাহ!
অতএব, শরীয়তের দলীল-আদিল্লাহ দ্বারা নবীজীর বিছাল শরীফ-এর দিন ১২ই রবীউল আউয়াল শরীফকে কারো পক্ষেই শোকের দিন হিসেবে সাব্যস্ত করা সম্ভব নয়। উপরন্তু মৃত্যুর তিন দিনের পর শোক করা সম্পূর্ণ হারাম।
রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : ‘ যে আল্লাহ এবং পরকালে বিশ্বাস করে, সে যেন তিন দিনের অতিরিক্ত শোক পালন না করে, তবে স্বামী মারা গেলে স্ত্রী চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে। (বুখারি, মুসলিম)।
তাই আখিরী হুযূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিলাদত (জন্ম) শরীফকে নিয়ামত মনে করে উক্ত দিনে ঈদ বা খুশি প্রকাশ করাই হচ্ছে প্রত্যেক উম্মতের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

No comments:
Post a Comment