Tuesday, December 1, 2015

বুখারী শারীফের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যাকার আল্লামা ইবন হাজর আসকলানি রহমতুল্লাহি আলাইহি এর নামে বানোয়াট উক্তি প্রচার করল দেওবন্দী/কাওমী/হিফাজতিরা।


দেওবন্দী/কাওমী/হেফাজতিদের গুরু জুনায়েদ বাবু নগরী তার মিলাদ বিরোধী লিখায় সহীহ বুখারী শারীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল বারী’ এর লেখক আল্লামা ইবন হাজর আসকলানি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি কে একজন মিলাদ বিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করতে গিয়ে ভুল তথ্য দিয়ে লিখে - 
  • আল্লামা হাফেজ ইব্নে হাজার আসক্বালানী শাফী (রাহ্.)কে প্রশ্ন করা হয়মীলাদ অনুষ্ঠান কি বিদ্আতনা শরীয়তে এর কোন ভিত্তি আছেজবাবে তিনি বলেন, “মীলাদ অনুষ্ঠান মলতঃ বিদ্আত। তিন পবিত্র যুগের সালফে সালিহীনের আমলে এর অস্তিত্ব ছিল না।” (হিওয়ার মাআল মালিকী-১৭৭ পৃষ্ঠা)।

আসুন এবার ইমাম ইবন হাজর আসকলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি সম্পূর্ণ মন্তব্য দেখা যাক আরবী বই এর স্ক্যান কপিসহ
শায়খুল ইসলাম ও মুহাদ্দীস ইমাম ইবনে হাজর আসকালানী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি কে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মীলাদ দিবস উদযাপন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি লিখিতভাবে যে উত্তর দেন তা নিম্নরূপ:
মীলাদুন্নবী  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামউদযাপনের উৎস বলতে এটি এমন এক বেদআত (উদ্ভাবন) যা প্রথম তিন শতকের সালাফ আস্ সালেহীন (পুণ্যাত্মাবৃন্দ) কর্তৃক আমাদেরকে জ্ঞাত করানো হয় নিযদিও এতে প্রশংসনীয় ও প্রশংসনীয় নয় উভয় দিকই বিদ্যমান। কেউ প্রশংসনীয় দিকগুলো গ্রহণ করে প্রশংসনীয় নয় এমন দিকগুলো বর্জন করায় যত্নবান হলে তা বেদআতে হাসানা তথা কল্যাণময় নতুন প্রথা হবে। আর তা না হলে এর উল্টো হবে। এ বিষয়ের বৈধতা প্রতীয়মানকারী একটি নির্ভরযোগ্য শরীয়তের দলিল আমার সামনে এসেছেআর তা হলো বুখারী ও মুসলিম শরীফে উদ্ধৃত সহীহ হাদীস যাতে বর্ণিত হয়েছে যে  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনা মোনাওয়ারায় হিজরত করে দেখতে পান সেখানকার ইহুদীরা ১০ই মহররম (আশুরা) তারিখে রোযা রাখেন। এমতাবস্থায় তিনি তাদেরকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা উত্তর দেয়, ‘এই দিনে আল্লাহতালা ফেরাউনকে পানিতে ডুবিয়ে মূসা আলাইহিস সালাম-কে রক্ষা করেন। তাই আমরা মহান প্রভুর দরবারে এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে রোযা রেখে থাকি।’ এই ঘটনা পরিস্ফুট করে যে আল্লাহতালার রহমত অবতরণের কিংবা বালা-মসীবত দূর হওয়ার কোনো বিশেষ দিনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাসেই উদ্দেশ্যে বার্ষিকী হিসেবে তা উদযাপনের সময় নামাযরোযাদান-সদকাহ বা কুরআন তেলাওয়াতের মতো বিভিন্ন এবাদত-বন্দেগী পালন করা শরীয়তে জায়েয। আর রাসূলুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মীলাদের (ধরণীতে শুভাগমন দিবসের) চেয়ে আল্লাহর বড় রহমত কী-ই বা হতে পারেএরই আলোকে প্রত্যেকের উচিত হযরত মূসা আলাইহিস সালাম ও ১০ই মহররমের ঘটনার (দালিলিক ভিত্তির) সাথে সঙ্গতি রেখে মীলাদুন্নবী  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিবস উদযাপন করাতবে যাঁরা এটি বিবেচনায় নেন নাতাঁরা (রবিউল আউয়াল) মাসের যে কোনো দিন তা উদযাপনে আপত্তি করেন নাঅপর দিকে কেউ কেউ সারা বছরের যে কোনো সময় (দিন/ক্ষণ) তা উদযাপনকে কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই বৈধ জেনেছেন। আমি মওলিদের বৈধতার দলিল সুন্নাহর আরেকটি উৎস থেকে পেয়েছি (আশুরার হাদীস থেকে বের করা সিদ্ধান্তের বাইরে)। এই হাদীস ইমাম বায়হাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু  থেকে বর্ণনা করেন: হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুয়্যত প্রাপ্তির পর নিজের নামে আকিকাহ করেনঅথচ তাঁর দাদা আবদুল মোত্তালিব তাঁরই বেলাদতের সপ্তম দিবসে তাঁর নামে আকিকাহ করেছিলেনআর আকিকাহ দুবার করা যায় না। অতএবহুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশ্বজগতে আল্লাহর রহমত হিসেবে প্রেরিত হওয়ায় মহান প্রভুর দরবারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্যে এটি করেছিলেনতাঁর উম্মতকে সম্মানিত করার জন্যেওযেমনিভাবে তিনি নিজের ওসীলা দিয়ে দোয়া করতেন। তাই আমাদের জন্যেও এটি করা উত্তম হবে যে আমরা মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামদিবসে কৃতজ্ঞতাসূচক খুশি প্রকাশার্থে আমাদের দ্বীনী ভাইদের সাথে সমবেত হইমানুষদেরকে খাবার পরিবেশন করি এবং অন্যান্য সওয়াবদায়ক আমল পালন করি।’ এই হাদীস পূর্বোক্ত হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দ্বারা মীলাদ ও নবুয়্যত-প্রাপ্তির দিবস পালনার্থে সোমবার রোযা রাখার হাদীসকে সমর্থন দেয়।
[হুসনুল মাকসাদ ফী আমলিল মওলিদপৃষ্ঠা ৬৩-৬৫] এবার মূল আরবী কিতাবের স্ক্যান কপি দেখুনঃ
১. http://www.ahlus-sunna.com/index.php?option=com_content&view=article&id=46&Itemid=29&limitstart=56
২. http://www.ahlus-sunna.com/index.php?option=com_content&view=article&id=46&Itemid=29&limitstart=57
৩. http://www.ahlus-sunna.com/index.php?option=com_content&view=article&id=46&Itemid=29&limitstart=58

No comments:

Post a Comment