Sunday, December 6, 2015

কাফিরেরা ছোট বয়স থেকে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে শহীদ করতে চেয়েছে

উল্লেখ্য, আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আবির্ভাবে আবূ লাহাব খুশী হয়েছিল বলে যারা একে লাহাবী উৎসববলে আখ্যা দিতে চায় তাদের দৃষ্টিভঙ্গিটা তাহলে এই সাব্যস্ত হয় যে, আবূ লাহাব বা তার সমগোত্রীয়রা যদি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্ম মুবারক ঠেকাতে পারত অথবা জন্ম মূহুর্তে উনাকে শহীদ করতে পারত (নাউযুবিল্লাহ্) তাহলেই আজকের ওহাবী, খারিজী, জামাতী, ইলিয়াসী তাবলীগ, দেওবন্দী বিদয়াতীদের কাছে অধিকতর আনন্দদায়ক ও গ্রহণযোগ্য হতো।
বলাবাহুল্য, এরও নজীর রয়েছে সীরাতগ্রন্থে। মক্কার ইহুদী ও খৃষ্টানরা ছিল আসমানী কিতাবধারী। ওরা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, হাবীবুল্লাহ্, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আগমণ সম্পর্কে অনেক তথ্যাদি জানতো। ওরা হযরত আব্দুল্লাহ্ আলাইহিস সালাম-এর মাঝে এমন অনেক লক্ষণ পরিস্কার দেখতে পায় যাতে ওদের মাঝে এ ধারণা বদ্ধমূল হয়ে গেল যে, আখিরী নবী, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আগমণের সাথে হযরত আব্দুল্লাহ্ আলাইহিস সালাম কোন না কোনভাবে অবশ্যই সম্পৃক্ত আছেন। ওরা উনাকে হত্যার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলো এবং সেই চেষ্টায় আত্মনিয়োগ করলো।
একবার হযরত আব্দুল্লাহ্ আলাইহিস সালাম দূরবর্তী এক জঙ্গলে শিকার করতে গেলেন। টের পেয়ে আহলে কিতাবরা উনাকে ঘিরে ফেললো। তিনি তখন সম্পূর্ণ একা এবং অসহায়। ওরা ছিল সমস্ত্র। ঘটনাক্রমে এ সময় হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম-এর পিতা হযরত ওয়াহাব ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম ঐ জঙ্গলে ছিলেন। তিনি দেখলেন, হঠাৎ অদৃশ্য থেকে একটি দল আবির্ভূত হলো এবং হযরত আব্দুল্লাহ্ আলাইহিস সালামকে ঘিরে ফেলা ইহুদী ও খৃষ্টানদের দলটিকে তাড়িয়ে নিয়ে গেল। (মাদারেজুন্ নুবুওওয়াত)
সীরাতে ইবনে হিশামগ্রন্থে বর্ণিত রয়েছে, “শিশু বয়সে সীনা চাকের ঘটনার পর লোকজনের পরামর্শে হযরত হালিমা আলাইহাস সালাম এক গণকের কাছে নিয়ে যান। সে লোক হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললো, “(হে বালক!) বলতো, ব্যাপারটা কি?” হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে সমস্ত ঘটনা খুলে বলতেই গণক লাফিয়ে দাঁড়াল এবং চিৎকার করে ডাকতে লাগলো, “হে আরবরা! এক মহাদূর্যগ আসন্ন। এ বালক এবং আমাকে হত্যা কর। যদি তোমরা তা না কর এবং সে বড় হয়ে যায়, তবে তোমাদের বড়দের বুদ্ধি-বিবেক নষ্ট করে দিবে, তোমাদের ধর্মকে মিথ্যা সাব্যস্ত করবে, মানুষকে অচেনা এক প্রতিপালকের দিকে আহবান করবে, সম্পূর্ণ অচেনা এক নতুন ধর্মের দিকে তোমাদের ডাকবে।
হযরত হালিমা আলাইহাস সালাম বললেন, “এসব শুনে আমি তার হাত থেকে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ছিনিয়ে নিলাম। বললাম, ‘তুই এক বদ্ধপাগল ও উন্মাদ। এসব কথা বলবি যদি আগে জানতাম, কিছুতেই এ বরকতময় শিশুকে নিয়ে আসতাম না। তোর মরার সাধ জেগে থাকলে তুই নিজেই লোকজন ডেকে নে। আমি কিছুতেই মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হত্যা করতে দিবনা।” (ইবনে হিশাম)
হযরত ঈসা ইবনে আব্দুল্লাহ্ ইবনে মালিক হতে রেওয়ায়েত আছে যে, এক বৃদ্ধ গণক তার ক্বওম বণু হুজায়েলকে ডেকে বললো, “এ শিশু আকাশ থেকে কোন হুকুমের অপেক্ষায় আছে। এসব বলে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ব্যাপারে মানুষকে উস্কে দিতে লাগলো। কিছুদিনের মাঝে লোকটি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে উন্মাদ হয়ে গেল এবং এ অবস্থায়ই সে মারা গেল।
কিছুদিন পর হযরত হালিমা আলাইহাস সালাম-এর বাড়িতে কয়েকজন ইহুদী এলো। পরীক্ষার জন্য হযরত হালিমা আলাইহাস সালাম তাদের বললেন, “আমার এ ছেলের ভবিষ্যত সম্পর্কে তোমরা বল। তিনি এভাবে গর্ভে ছিলেন এবং এভাবে ভূমিষ্ট হয়েছেন। তাঁর ব্যাপারে আমি এই দেখেছি। হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম-এর কাছে হযরত হালিমা আলাইহাস সালাম যা যা শুনেছিলেন সব তিনি এদের বললেন।
সব শুনে ইহুদীরা পরস্পর বলাবলি করতে লাগলো, এ শিশুকে হত্যা কর। তারপর হযরত হালিমা আলাইহাস সালামকে ওরা জিজ্ঞাসা করলো, “শিশুটি কি এতিম?” হযরত হালিমা আলাইহাস সালাম (ভয় পেয়ে) বললেন, “না, উনি এতিম নন। ইনি হচ্ছেন তাঁর পিতা (তাঁর স্বামীকে দেখিয়ে) আর আমি তাঁর মা।ইহুদীরা বললো, “উনি এতিম হলে অবশ্যই আমরা তাঁকে হত্যা করতাম।” (খাসায়েসুল কুবরা)

সুতরাং পাঠক! যদিও আবূ লাহাব রসূল হিসেবে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আগমণে খুশী প্রকাশ করেনি, করেছে তার ভাতিজার আগমণে। তারপরেও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আগমণের উপর খুশী প্রকাশ যদি লাহাবী উৎসব হয় অর্থাৎ আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আগমণের উপর আনন্দ না প্রকাশ বা অখুশী প্রকাশই যদি গ্রহণযোগ্য হয় তাহলে বলতে হয় যে, যারা এরূপ করবে তারা ইতোপূর্বে বর্ণিত খৃষ্টান ও ইহুদী। কারণ আমরা এ লেখায় প্রমাণ পেয়েছি যে, সব ইহুদী ও খৃষ্টানরাই আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আগমণ মুবারক চায়নি এমনকি আগমণের পথ তথা ধারাবাহিকতা তারা রুদ্ধ করেছিল আর আগমণ মুবারকে খুশীও হয়নি। যেমনটি খুশী হয়নি শয়তান।

No comments:

Post a Comment