Monday, December 14, 2015

চোক্কা মৌলভী দ্বারা ইসলামী দিবস থেকে দূরে রাখার ষড়যন্ত্র

চোক্কা মৌলভীদের ভ্রান্ত ফতওয়াবাজি ও মুসলিম জাতিকে আটকে রাখার কৌশল
আজকাল একদল ফতওয়াবাজ বের হয়েছে, যারা কোন ইসলামী দিবস দেখলে বিদআত বলে ফতওয়া দেয়। বলা শুরু করে- “সাহাবীরা কি এগুলো করেছেন ?” খাইরুন কুরুনে কি হয়েছে ? হয়ত দলিল পাওয়া গেলো, তারপরও বলবে- আরো স্পষ্ট কোন দলিল আছে ? উনারা কি হুবুহু পালন করেছেন ? এভাবেই করেছেন ? ওভাইবেই করেছেন ? এভাবে নানান যুক্তিতর্ক দিয়ে ইসলামী দিবসগুলো আটকাতে চেষ্টা করে।
আমার মনে হয়, যারা এ ধরনের চেষ্টা করে তাদের উদ্দেশ্য মুসলমানদের নেক কাজে বাধা দেওয়া। কারণ ঐ দিন হয়ত নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্মৃতি বিজড়িত কোন দিন রয়েছে। মুসলমান মাত্রই তো নবীজির স্মৃতিকে আকড়ে পড়ে থাকতে চায়, সেটা যতটুকুই পারা যাক না কেন। কিন্তু এ কাজে বাধা দেয়া কেন ?
আমি দেখেছি, একটা ছেলেকে। সে তেমন ইবাদত-বন্দেগি করতো না। কিন্তু শবে বরাতের রাতে গিয়ে মসজিদে থাকতো। ঐ রাতে নফল নামাজ পড়তো। কিন্তু একবার এক চোকা মৌলভী তাকে দিয়ে ফতওয়া দিলো- শবে বরাতের নামাজ পরা বিদাত। একথা শুনে ছেলেটার মন ভেঙ্গে গেলো, সে জানতো নামাজ পরা সওয়াব, কিন্তু সেটা বিদাত সেটা তো শুনে নাই। একথা শুনে সে নামাজ পড়াই বাদ দিলো। যে ছেলেটি কখন নামাজ পরে না, এমনও তো হতে পারে ঐ একরাতের মনোযোগ দিয়ে নামাজ পরার কারণে সে আল্লাহ’র দরবারে কবুল হতে পারতো, কিন্তু তাকে নানান ফতওয়াবাজি করে সে সুযোগটা কেড়ে নেওয়া কতটুকু যু্ক্তি সঙ্গত বলুন ?
আজকাল এই মৌলভীগুলো ফতওয়া দিচ্ছে, ঈদে মীলাদুন নবী নাকি বিদআত। সাহাবীগণ নাকি এ দিবস পালন করে নাই। আমি এদের কথার আগামাথা কিছুই বুঝতে পারি না। আরে সাহাবীগণ তো রাতদিন ২৪ ঘণ্টাই নবীজির স্মরণে থাকতেন, উনারা আবার নতুন করে ১২ তারিখ পালনের সময় কোথায়। আবু বকর সিদ্দিক রদ্বিয়াল্লাহুকে বলা হয়েছে হিজরতের জন্য প্রস্তুত থাকতে, তিনি মাসের পর মাস দরজায় দাড়িয়ে রইলেন, নবীজির অপেক্ষায় থাকলেন। এটাই তো ১২ই রবিউল আউয়াল শরীফের শিক্ষা, নবীজিকে পাওয়ার জন্য সন্তুষ্ট থাকা, শুকরিয়া আদায় করত অনুসরণ করা, সম্মানপ্রদর্শন করা্ এবং খেদমত করা। আর সাহাবীগণ সে কাজটা করেছেন পুরো সময়টা জুড়ে, উনাদের আলাদা করে কিছু করার কোন প্রয়োজন নেই। আজকাল গাফেল মুসলমান ১২ রবিউল আউয়াল তারিখ আসলে কিছু হলেও তো নবীজিকে স্মরণ করে, শুকরিয়া স্বরুপ দুরুদ-মিলাদ পরে। আপনারা সে উপলক্ষটাও বন্ধ করে দিতে চান ! হায়রে দুনিয়া ! এমনও তো হতে পারে, এই দিন পালন করতে গিয়ে তার মধ্যে নবী প্রেমে জাগ্রত হতো এবং সেখান থেকে সে পুরোটা জীবনই নবীজির রঙ্গে রঙ্গিন করতো, কিন্তু সে সুযোগটা বন্ধ করে দিলে তো কিছুই হবে না।
আমি দেখেছি, চোকা মৌলভীরা মুসলমানদের এ দিবস থেকে ফিরিয়ে রাখার জন্য বিভিন্ন সময় অসত্যের আশ্রয় নেয়। তাদের এহেন আচরণে আমি চিন্তায় পরে যাই- ভাবি, আসলে এদের উদ্দেশ্যটা কি ? ভালো হলে তো এমন করার কথা নয়।
ব্যাপারাটা কেন বললাম, আমি কয়েক বছর আগে দেখছি- একটা চোকা মৌলভী এসে আমাকে বলবো- ঈদে মীলাদুন নবী পালন করা যাবে না, কারণ নবীজি ১২ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন নাই, তারিখ নিয়ে মতভেদ আছে। ৯ তারিখ হতে পারে।
আমি বললাম- আপিনি তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন কেন, ১২ তারিখের পক্ষে তো সহিহ দলিল আছে।
তখন সে বলবো- না না, আপনার দেওয়া হাদীসের থেকে আমার কাছে আরো শক্ত রেফারেন্স আছে।” তখন সে আমাকে ‘রাহীকুল মাখতুম’ ও ‘সীরাতুন্নবী’ নামক নবীজির দুটো জীবনীগ্রন্থের রেফারেন্স দিলো।
আমি এ ব্যাপারে আবার খুব শক্ত। একটি রেফারেন্স পেলে তা যাচাই বাছাই করে নেই। বইদুটো পড়ে দেখলাম সেখানে মাহমূদ পাশা নামক এক মিশরীয় জোতির্বিজ্ঞানীর গবেষণাকে রেফারেন্স হিসেবে দাড় করানো হয়েছে। এই মাহমুদ পাশা সম্পর্কে জানতে গিয়ে পেলাম- সে ‘মিশরীয় রেনেসা’ নামক একটি অান্দোলনের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব ছিলো। আর মিশরীয় রেনেসা নামক এই আন্দোলনটি ছিলো ‍মূলত নাস্তিক, খ্রিস্টান ও শিয়াদের। যাদের কাজ ছিলো মিশর থেকে ইসলামকে তুলে দেওয়া। সহজ ভাষায় বলতে- মিশরীয় রেনেসা ছিল ফেরাউনের যুগে ফিরে যাওয়ার এক কৌশল।
বিষয়টি জানার পর আমি অবাক হলাম, ১২ রবিউল আউয়াল যেন মানুষ পালন না করে, সেজন্য এই চোক্কা মৌলভীরা সহিহ হাদীস বাদ দিয়ে নাস্তিকের রেফারেন্স ব্যবহার করছে আবার সেই নাস্তিকের রেফারেন্স দলিল হিসেবে প্রচারও করছে !! অদ্ভূত !!
শুধু তাই নয়, এরা নিজের প্রয়োজনে অনেক স্পষ্ট হারামকে (যেমন: ছবি, টিভি) হালাল বলছে, কিন্তু ইসলামী দিবসগুলো বিরুদ্ধে অযথাই পেচাচ্ছে, নানান যুক্তি তর্ক দিয়ে বাধা দিতে চাইছে। আরে ভাই তোমার করার ইচ্ছা হয় না, তুমি করো না, তুমি নিজেও তো ১০০ ভাগ ইসলাম মানতে পারছো না, যে ছেলেটা একরাতে নামাজ পড়তে চায় তাকে তুমি বাধা দাও কেন ? যে ছেলেটা ১ দিন নবীজির প্রতি দুরুদ সালাম পড়ে উনাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে চায়, তাতে তুমি বাধা দেও কেন ??
সত্যিই বলতে এসকল চোক্কা ফতওয়াবাজদের কারনেই আজকে মুসলিম তরুণ সমাজ ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, ইসলাম রেখে তারা কাফিরদের অনুসরণ-অনুকরণে ব্যস্ত হয়েছে। আলটিমেলি ক্ষতি হচ্ছে পুরো মুসলিম জাতির। আল্লাহ তায়ালা এ সকল চোক্কা মৌলভীদের হেদায়েত দান করুন।

No comments:

Post a Comment