সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন : “তোমাদের কেউ প্রকৃত মু’মিন হতে পারবে না যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার মা-বাবা, ছেলে-মেয়ে এমন কি সমস্ত মানুষের চাইতে বেশী প্রিয় হব । (বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ)
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে নিজের জীবন থেকে বেশী মুহব্বত করার প্রকৃত নজীর দেখিয়েছেন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ । নিম্নে দৃষ্টান্ত উল্লেখ করা হলো-
হাদীছ শরীফে বর্ণিত হয়েছে, ছিদ্দীকে আকবর হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু প্রকাশ্যে ইসলাম প্রচার করার অনুমতি প্রার্থনা করেন । প্রথমে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনুমতি দেননি। পরে হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর বারংবার অনুরোধের প্রেক্ষিতে সমমত হন । হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু কা‘বা গৃহে হাজির হয়ে খুৎবা আরম্ভ করেন। খুৎবা শুরু হতেই চতুর্দিক থেকে কাফিররা উনার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কাফিররা তাঁকে এমন মারধর করে যে, উনার চেহারা এবং নাক, কান মুবারক সবকিছু রক্তে রঞ্জিত হয়ে যায়। অমানুষিক নির্যাতনে তিনি বেহুশ হয়ে যান । এ খবর শুনে বনী তায়েমের লোক এসে হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে নিয়ে যান । অনেকেরই ধারণা ছিল যে, তিনি আর বাঁচবেন না । সন্ধ্যা পর্যন্ত হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু অচেতন অবস্থায় ছিলেন । সন্ধ্যার সময় উনার হুশ হওয়ার পর সর্ব প্রথম কথা এই ছিল ‘‘আমার প্রিয় নবীজী কি অবস্থায় আছেন ?’’ উপসি'ত লোকজন বলল, যাঁর জন্য এ অবস্থা, জ্ঞান শক্তি আসার পর সেই নবীর নাম ! এটা শুনে সকলেই চলে গেল । উনার মাতা উম্মুল খায়র কিছু খানা তৈরী করে খেতে বললেন, কিন' নবী প্রেমিক হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর ঐ একই কথা ‘‘আমার প্রিয় নবীজীর অবস্থা কি ? তিনি কেমন আছেন ? তিনি কি ভাল আছেন ?’’ উনার মা বললেন, ‘‘বাবা, আমি জানি না তিনি কি অবস্থায় আছেন ?’’ তিনি বললেন, ‘‘উমরের ভগ্নী উম্মে জামিলের নিকট গিয়ে জেনে আসুন ।’’ মা ছেলের দু:খ কষ্ট সহ্য করতে না পেরে উম্মে জামিলের নিকট গিয়ে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার হালত জিজ্ঞাসা করলেন । হযরত উম্মে জামিল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বললেন, ‘‘হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভাল আছেন এবং দারে আরকামে আছেন ।’’ হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, ‘‘আল্লাহ পাকের কসম ! আমি ঐ পর্যন্ত কিছু খাব না, পানও করব না, যে পর্যন্ত হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সাক্ষাত না পাই ।’’ কসম শুনে উনার মা বাধ্য হয়ে হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-কে দারে আরকামে নিয়ে আসেন । প্রিয় নবীজীকে দেখে হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলেন এবং সকল ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণও কাঁদতে লাগলেন । হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, ‘‘হুযূর ! ইনি আমার মা, আমার মাকে ঈমানের দাওয়াত দিন এবং হিদায়েতের জন্য দোয়া করুন । সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাওয়াত দিলেন এবং দোয়া করলেন । সঙ্গে সঙ্গে তিনি ঈমান কবুল করে মুসলমান হয়ে গেলেন। (সুবহানাল্লাহ) (মাসিক আল-বাইয়্যিনাত শরীফ ১০৫/১৩৯)
No comments:
Post a Comment