পবিত্র মক্কা শরীফে:
১। ৫৭০ খ্রিস্টাব্দ রজব মাসের প্রথম জুমুয়ার রাতে (লাইলাতুর রাগাইব) হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিতা আম্মা হযরত আমিনা আলাইহাস্ সালাম-এর রেহেম শরীফে তাশরীফ আনেন।
২। হযরত খাজা আব্দুল্লাহ্ আলাইহিস্ সালাম-এর বিছাল শরীফের ৬ মাস পরে, ৫৭০ খ্রীঃ ২৯শে আগস্ট পারস্যের সুবিখ্যাত সম্রাট নওশেরওয়াঁর রাজত্বের চতুর্বিংশ বৎসরে আছ্হাবে ফীল্-এর ঘটনার ৫৫ দিন পরে, পবিত্র রবিউল আউয়াল শরীফের ১২ই শরীফ তারিখে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীমি বা সোমবার শরীফে (সর্বাধিক মশহুর মত) সূর্যোদয়ের কিছুক্ষণ পূর্বে, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দুনিয়াতে তাশ্রীফ আনেন।
৩। হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস্ সালাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিলাদত শরীফ-এর তৃতীয় দিনে তাঁকে মক্কা শরীফে নিয়ে যান এবং নাম মুবারক রাখেন ‘মুহম্মদ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এর পূর্বে কারো নাম ‘মুহম্মদ’ ছিল না।
৪। বিলাদত শরীফ-এর পর তাঁর সম্মানিতা আম্মা আমিনা আলাইহাস্ সালাম-এর দুগ্ধ পান করেন।
৫। দু’দিন পর হযরত ছূওয়াইবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা-এর দুগ্ধ পান করেন।
৬। অতঃপর ভাগ্যবতী হযরত হালিমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তাঁকে নিয়ে যান। ২ বৎসর প্রতিপালনের পর
মক্কা শরীফে নিয়ে আসেন। কিন্তু মহামারি থাকার কারণে আবার নিয়ে যান এবং মোট ৬ বৎসর হযরত হালিমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা-এর ঘরে ছিলেন। এর মধ্যে একবার সিনা মুবারক চাক করা হয়।
৭। ৬ বৎসর বয়স মুবারকেই তাঁর সম্মানিতা আম্মা হযরত আমিনা আলাইহাস্ সালাম বিছাল শরীফ লাভ করেন।
৮। এরপর পিতামহ হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস্ সালাম-এর তত্ত্বাবধানে প্রতিপালিত হন। ৮ বৎসর বয়স মুবারকে পিতামহ বিছাল লাভ করলে, পিতৃব্য আবু তালিবের তত্ত্বাবধানে প্রতিপালিত হন।
৯। ১০ বৎসর বয়স মুবারকে ছাগল চড়ায়েছেন।
১০। ১২ বৎসর বয়স মুবারকে সিরিয়ায় বাণিজ্যার্থে গমন। এ সময় বিভিন্ন আশ্চর্য আশ্চর্য ঘটনা সংঘটিত হয়
এবং বোহাইরা নামক পাদ্রী নবী হওয়ার ভবিষ্যত বাণী করেন এবং সাক্ষ্য দেন।
১১। ১৩/১৪ বৎসর বয়স মুবারকে দ্বিতীয়বার সিনা মুবারক চাক করা হয়।
১২। বয়স মুবারক যখন ১৪/১৫, তখন ‘হরবুল ফুজ্জারে’ পিতৃব্যদের সাথে গমন করেন।
১৩। ৫৯৫ খিস্টাব্দে ১৪ বৎসর বয়স মুবারকে ‘হিলফুল ফুজুল’ গঠন করেন।
১৪। ১৭ বৎসর বয়স মুবারকে পিতৃব্য হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর সঙ্গে বাণিজ্যার্থে ইয়েমেন যান।
১৫। ২০ বৎসর বয়স মুবারকে বিভিন্ন রকম স্বপ্ব দেখতেন এবং ফিরিস্তাদের আওয়াজ শ্রবণ করতেন। আবু তালিব স্বপ্বের ঘটনা শুনে মনে করতো কোন অশুভ আছর হয়েছে, তাই বৈদ্য ডেকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করলে বৈদ্য বলেছিল, আপনার ভাতিজার কোন রোগ হয়নি বা আছর করেনি, বরং তাঁর শিরার বিভিন্ন লক্ষণে মনে হচ্ছে, ইনি একজন মহান ব্যক্তিত্ব হবেন।
১৬। ২৪ বৎসর বয়স মুবারক হতে হযরত খাদিজাতুল কুবরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা-এর ব্যবসা পরিচালনা করেন।
১৭। ২৫ বৎসর বয়স মুবারকে হযরত খাদিজাতুল কুবরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা শাদী মুবারকের প্রস্তাব দেন এবং শাদী মুবারক সুসম্পন্ন হয়। তখন হযরত খাদিজাতুল কুবরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা-এর বয়স মুবারক ছিল ৪০ বৎসর। শাদী মুবারকের মোহ্রানা ছিল ৫০০ দেরহাম (রৌপ্য মুদ্রা)।
১৮। ২৫ হতে ৩৫ বৎসর বয়স মুবারক পর্যন্ত বিশেষভাবে জনকল্যাণে নিয়োজিত থাকেন ও বিপন্ন মানুষকে আর্থিক সাহায্য করেন।
১৯। ৩৫ বৎসর বয়স মুবারকে পবিত্র ক্বাবা শরীফ সংস্কারে বিভিন্ন গোত্রের কলহ দূর করেন এবং হজরে আস্ওয়াদ নিয়ে যে ফিৎনা হয়, সেটাও সমাধা করেন।
২০। ৩৫ থেকে ৪০ বৎসর বয়স মুবারক পর্যন্ত হিরা গুহায় বিশেষভাবে ইবাদতে মশগুল হন। তিনি মাঝে মাঝে খাওয়ার জন্য বাড়ী আসতেন কিন্তু অধিকাংশ সময় হযরত খাদিজা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা খাবার দিয়ে আসতেন।
২১। ৪০ বৎসর বয়স মুবারকে তৃতীয়বার সিনা মুবারক চাক করা হয়, ওহী নাযিল হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নুবুওওয়াত ঘোষণা করা হয়।
২২। নুবুওওয়াত প্রাপ্তির তৃতীয় বৎসর পর্যন্ত ভিতরে ভিতরে ইসলাম প্রচার করেন।
২৩। ৪৩ বৎসর বয়স মুবারকে প্রকাশ্যে ইসলামের প্রতি আহ্বান জানান। আবু লাহাব তখন বিরোধিতা করেছিল, ফলে ‘সুরা লাহাব’ নাযিল হয়।
২৪। নুবুওওয়াতের ৫ম বৎসরে কাফিরদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে আল্লাহ পাক-এর নির্দেশে ১৬ জন, কোন কোন মতে ১৫ জন নারী-পুরুষ নিয়ে আবিসিনিয়ায় প্রথম হিজরত করেন।
২৫। নুবুওওয়াতের ৬ষ্ট বৎসরে হযরত হামযা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত উমর ফারুক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ইসলাম গ্রহণ করেন। তখন হতে প্রকাশ্যে ক্বাবা শরীফে নামাজ পড়া শুরু হয়। তখন মুসলমানের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৪০/৫৭ জন।
২৬। নুবুওওয়াতের ৭ম বৎসরে চন্দ্র দ্বিখন্ডিত করেন।
২৭। নুবুওওয়াতের ৭ম হতে ১০ম বৎসর পর্যন্ত শিয়াবে আবু তালিবে অবস্থান করেছিলেন। এর দুই মাস পর আবু তালিবের মৃত্যু হয়, তার তিন মাস পর হযরত খাদিজাতুল কুবরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা-বিছাল শরীফ লাভ করেন। এ দশম বৎসরকে বলা হয়, ‘আমুল হুযন’ অর্থাৎ শোকের বৎসর।
২৮। নুবুওওয়াতের এ ১০ম বছরের শেষের দিকে হযরত খাদিজা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহার পর, হযরত সাওদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা এবং হযরত আয়েশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা (বয়স মুবারক ছিল ৬ বৎসর)-এর সাথে শাদী মুবারক সুসম্পন্ন হয়।
২৯। নুবুওওয়াতের এ দশম বৎসরেই তায়েফ গমন করেন ও প্রত্যাবর্তন করেন। এ সময় জ্বীন সম্প্রদায় ইসলাম গ্রহণ করে।
৩০। নুবুওওয়াতের দশম বৎসরের শেষে মদীনা শরীফ থেকে লোকজন আগমন করেন ও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন।
৩১। নুবুওওয়াতের একাদশ বৎসরে প্রথম আকাবা হয়।
৩২। নুবুওওয়াতের একাদশ বৎসরে স্বশরীরে মি’রাজ শরীফ সংঘঠিত হয়।
৩৩। নুবুওওয়াতের দ্বাদশ বৎসরেই হযরত মাসআব ইবনে উমাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-কে দ্বীনের তালিমের জন্য মদীনা শরীফে পাঠান।
৩৪। নুবুওওয়াতের ত্রয়োদশ বৎসরে বাইয়াতে উকবা সংঘঠিত হয়। এ বছরেই মুসলমানগণ মদীনা শরীফে হিজরত করেন। এ বৎসরেই হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে নিয়ে হিজরত করেন এবং ছাওর গুহায় অবস্থান করেন। এর মধ্যে বিভিন্ন ঘটনা সংঘঠিত হয়।
No comments:
Post a Comment