Wednesday, January 13, 2016

নবিজির মর্যাদা



  • হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা বর্ননা করেছেন যে ,আমি হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কদম মুবারকে আরজি পেশ করলাম , ইয়া রসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার মাতা পিতা আপনার জন্য কোরবান হোক। যখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম বেহেশতে ছিলেন তখন আপনি কোথায় অবস্থান করতে ছিলেন ? হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুচকি হাসি মুবারক দিলেন যাতে উনার দন্ত মুবারক দেখা গেল । তারপর তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন “ আমি হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার পৃষ্ঠদেশ মুবারকে ছিলাম। তারপর পিতা হযরত নুহ আলাইহিস সালাম উনার উনার পৃষ্ঠ মুবারকে আমাকে জাহাজে তোলা হল। তারপর হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পৃষ্ঠ মুবারকে (আমার নুর) স্থাপন করা হল। আমার পিতা মাতা (পিতৃ মাতৃ বংশ মুবারক) আলাইহিমাস সালাম কখনো বিয়ে শাদী বিহীন নিকটবর্তি হননি। মহান আল্লাহ পাক সদাই আমাকে পবিত্র জন্মসুত্রে পবিত্র রেহেমে স্তানান্তরিত করে গেছেন। তাওরাত শরীফ ও ইনজীল শরীফ উনাতে উল্লেখ সহকারে আমার আগমনী খোশখবর জানানো হয়। প্রত্যেক নবী আলাইহিস সালাম আমার প্রশংসা করে গেছেন। আমার নুর মুবারকের কারনে ভোরের আলো উদ্ভাসিত হয়। আর আকাশের মেঘমালা আমার সোজন্যেই ছায়া নামায় । আর মহান আল্লাহ পাক নিজের সুন্দর নাম মুবারক সমুহ থেকে আমার নাম দেন। কাজেই তিনি পবিত্র আরশ পাক উনার মালেক মাহমুদ আর আমি মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম । আর মহান আল্লাহ পাক আমাকে হাউজে কাওসার প্রদানের ওয়াদা করেছেন। তিনি সবার আগে আমাকেই সুপারিশকারী বানিয়েছেন। আর আমি প্রথম ব্যক্তি যার সুপারিশ কবুল করা হবে। তারপর মহান আল্লাহ পাক আমাকে নিজের উম্মতদের জন্য সময়ে আবির্ভুত করেছেন । আমার উম্মত উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার প্রশংসাকারী । তারা নেক কাজের আদেশকারী ও বদকাজের নিষেধকারী । “
ü ইবনে আসাকির,তারিখে মদীনায়ে দামিশক , ৩/৪০৮
ü আস সুয়ুতী,আদ দুররুল মনসুর,৬/৩৩২
ü ইবনে কাসীর,আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ,২/২৫৮
ü আল মুনাবী,ফয়যুল কদীর,৩/৪৩৭
৭. হযরত কাব আল আহবার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ননা করেছেন যে , হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি উনার সন্তান হযরত শীষ আলাইহিস সালাম উনাকে বলেছেন যে , হে হযরত শীষ আলাইহিস সালাম ! আপনি যখনি মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক নিবেন ,সাথে সাথে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক নিবেন । নিঃসন্দেহে আমি হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উনার পবিত্র নাম মুবারক পবিত্র আরশ উনার পাদদেশে লিখিত দেখতে পেয়েছি। তখন আমি মাটি ও প্রানের পর্যায়ের পর (প্রানের সঞ্চার পেয়ে) আমি সারা আসমান পরিভ্রমন করলাম )। আসমানের এমন কোথাও জায়গা পেলামনা যেখানে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক লিপিবদ্ধ নেই। নিঃসন্দেহে আমি হুরদের গলায়,বেহেশতের মহলে, বাশের পাতায়,তুবা (পবিত্র গাছ) পাতায় , সিদরাতুল মুনতাহার পাতাসমুহে ,পর্দা মুবারকের কিনারায় , ফেরেশতাদের চোখের মাঝখানেও হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক লিপিবদ্ধ দেখলাম। অতএব আপনিও উনার নাম মুবারক বেশি করে স্বরন করবেন। অবশ্য ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রতিক্ষনে উনার নাম মুবারক স্বরন করে থাকেন।
ü ইবনে আসকির, তারিখে মদীনায়ে দামিশক , ২৩/২৮১
ü আস সুয়ুতী, আল খাসায়িস আল কুবরা , ১/১২
৮. হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্নিত , মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন “ আপনি আপনার আলোচনাকে বুলন্দ (সমুন্নত ) করেছি “ । সুরা আলম নাশরাহ ৯৪/৪ । এ আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে মহান আল্লাহ পাক নিজেই ইরশাদ মুবারক করেছেন “হে আমার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ! আযানে ,ইকামতে,নামাজের দোয়ায়, মিম্বরে, জুমুয়ার খোতবায়, ঈদুল ফিতরের দিনে, ঈদুল আযহার দিনে, তাশরিকের দিনে, আরাফার দিনে, পাথর নিক্ষেপের জায়গায়, সাফা –মারওয়ার তাওয়াফের সময়, বিয়ের খোতবায়,পৃথিবীর পুর্ব-পশ্চিমে অর্থাৎ সর্বত্র যখনই আমার নাম মুবারক নেওয়া হবে ,তখন আমার নাম মুবারকের সাথে আপনার নাম মুবারক ও স্বরন করা হবে। আর মহান আল্লাহ পাক (ইরশাদ মুবারক করেছেন যে) উনার কোন বান্দা যদি (দিনরাত) মহান আল্লাহ পাক উনার ছানা-ছিফত করে আর বেহেশত-জাহান্নামের সাথে সাথে (ইসলাম উনার অন্যান্য বিষয়েরও সাক্ষ্য দেয় কিন্তু মেনে না নেয় যে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহান আল্লাহ পাক উনার সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবি ও রাসুল ,তাহলে সে কখনো ফায়দা পাবেনা এবং কাফের বলে প্রতিপন্ন হবে।
ü আল কুরতবী ,আল-জামি লি – আহকামিল কুরআন। ২০/১০৬
ü আল-বাগবী ,মা’আলিমুত তানযীল,৪/৫০২
ü তাবারী,জামিউল বায়ান,৩০/২৩৫
ü আশ-শাফী,আহকামুল কুরয়ান,১/৮৫
ü আস সুয়ুতী, আদ দুররুল মানসুর, ৮/৫৪৭-৫৪৯
ü আস সুয়ুতী, আল-ইতকান,১/১২৮,২/৫৩৬
ü আস-সান’আনী,তাফসিরুল কুরয়ান,৩/৩৮০
ü আস-সা’লবী,আল জাওয়াহিরুল হাসান,৪/৪২৪
ü ইবনুল জওজী,যাদুল মায়সীর,৯/১৬৩
ü আশ-শওকানী,ফতহুল কদীর,৫/৪৬৩
ü আল-ওয়াহীদি,আল-ওয়াজিযু ফী তাফসিরুল কিতাবিল আযীয, ২/১২১২
ü আল-আলুসী,রুহুল মা’আনী ,৩০/১৬৯
৯. হযরত আবু আব্বাস হারুন ইবনুল আব্বাস আল হাশেমী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ননা করেছেন যে, যে ব্যক্তি হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ফযিলত বা বৈশিষ্ট্যসমূহের স্বীকৃতি দেয়না ,আমার মতে সে মুরতাদ । তার তওবা কবুল করা যাবেনা আর তাকে হত্যা করা যাবে। কেননা নিঃসন্দেহে মহান আল্লাহ পাক তিনি হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সমস্থ নবি রাসুল আলাইহিমুস সালাম উনাদের উপর মর্যাদা দান করেছেন।আর মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ মুবারক” হে আমার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ! আপনার নাম মুবারক উল্লেখ ছাড়া কখনো আমার নাম মুবারক উল্লেখ করা যাবেনা’। আর মহান আল্লাহ পাক উনার এ নির্দেশনা মুবারক “ হে আমার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার জীবন মুবারক উনার শপথ”। সুরা আল হাজর ১৫/৭২ । এ আয়াত শরীফ উনার তাফসিরে উল্লেখ আছে যে ,মহান আল্লাহ পাক বলেছেন “ হে হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনাকে সৃষ্টি না করলে আমি হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকেও সৃষ্টি করতামনা “
(এ পবিত্র হাদীস শরীফ ইমাম ইয়াযীদ আল-খালাল ২৩৪-৩১১ হিঃ বর্ননা করেছেন। এ হাদিস শরীফ উনার সনদ সহীহ )
ü আল খালাল, আস সুন্নাহ, ১/২৭৩,ক্রমিক ২৭৩
১০. হযরত বরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্নিত আছে যে , হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত হাসসান বিন সাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে নির্দেশ মুবারক করলেন যে “ মুশরিকদের অর্থাৎ কাফিরদের নিন্দা করুন (কবিতা পাঠ করুন)। হযরত জীবরাঈল আলাইহিস সালাম তিনি এ কাজে থাকবেন।
আর বোখারী শরীফের এক বর্ননায় হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোরাইযার দিন হযরত হাসসান বিন সাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে আদেশ মুবারক করলেন যে “মুশরিকদের অর্থাৎ কাফিরদের নিন্দা করুন (কবিতা পাঠ করুন)।অবশ্যই হযরত জীবরাঈল আলাইহিস সালাম তিনি আপনার সাথে শরীক হবেন 
ü বোখারী শরীফ ,আস সহীহ,কিতাবঃবদউল খালক,বাবঃযিকরুল মালাইকা ,৩/১১৭৬,ক্রমিক ৩০৪১
ü বোখারী শরীফ ,আস সহীহ,কিতাবঃ আল মাগাযী,বাবঃমারযাউন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিনাল আহযাব ও মাখরাজাহু ইলা বনি কুরাইযা, ,৪/১৫১২,ক্রমিক ৩৮৯৭
ü বোখারী শরীফ ,আস সহীহ,কিতাবঃ আল-আদব,বাবঃহুযারাউল মুশরীকীন, ,৫/২২৭৯,ক্রমিক ৫০৮১
ü মুসলিম শরীফ ,আস সহীহ,কিতাবঃ ফাযায়িলুস সাহাবা,বাবঃ ফাযায়িলু হাসসান ইবনে সাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু,৪/১৯৩৩,,৩/১১৭৬,ক্রমিক ২৪৮৭
ü নাসায়ী শরীফ ,আস সুনান আল কুবরা ,৩/৪৯৩, ক্রমিক ৬০২৪
ü আহমদ ইবনে হাম্বল ,আল মুসনদ,৪/৩০২
ü আল বায়হাকী,আস সুনান আল কুবরা ,১০/২৩৭
ü তাহাবী,শরহে মা’আনীয়াল আসার, ৪/২৯৮
ü তাবরানী ,আল মু’জাম আস-সগীর,১/৯০,ক্রমিকি ১১৯
ü তাবরানী, আল মু’জাম আল আওসাত ,২/৪৯,ক্রমিক ১২০৯, ৩/২৬৮,ক্রমিক ৩১০৮
ü তাবরানী , আল মু’জাম আল কাবীর,৪/৪১,ক্রমিক ৩৫৮৮-৩৫৮৯
ü ইবনে তাইমিয়া , আস সারিমুল মাসলুল,১/২১৪
১১. হযরত কা’আব ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্নিত আছে যে “ তিনি হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে আরজি পেশ করলেন যে মহান আল্লাহ পাক কবিতার ব্যাপারে কি নাযিল করেছেন ?  তখন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করলেন যে যে মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরতি হাত মুবারকে আমার প্রান মুবারক সেই মহান আল্লাহ পাক উনার নামে শপথ করে বলছি যে (কবিতায়) আপনি ওদের(কাফের মুশরিকদের) সম্পর্কে যা বলবেন সেগুলো তীর বর্ষনের মত তাদের বিদ্ধ করবে”
ü আহমদ ইবনে হাম্বল,আল মুসনদ,৬/৩৮৭ ,ক্রমিক ২৭২১৮,৩/৪৫৬
ü ইবনে হাব্বান ,আস সহীহ,১৩/১০২, ক্রমিক ৫৭৮৬,১১/৫, ক্রমিক-৪৭০৭
ü বোখারী শরীফ, আত তারিখআল-কবীর,১৯/৭৫
ü তাবরানী,আল-মু’জাম আল-কবীর,১৯/৭৫,ক্রমিক ১৫১-১৫৩
ü বায়হাকী,আস সুনান আল-কুবরা,১০/২৩৯
ü আল-বগবী, শরহুস সুন্নাহ,১২/২৭৮, ক্রমিক ৩৪০৯
ü ইবনে আবদিল বর,আল-ইসতি’আব, ৩/১৩২৫
ü আল-মুযী, তাহযিবুল কামাল,২৪/১৯৫
ü আল-হুসাইনী,আল-বায়ান ওয়াত তা’রীফ,১/২১৬, ক্রমিক ৫৬৬



No comments:

Post a Comment