Saturday, January 16, 2016

সমস্ত জিন-ইনসান, বান্দা-বান্দী, উম্মতের জন্য একমাত্র অনুসরণীয়, অনুকরণীয় হলেন =হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিঃ

কুল-কায়িনাতের যিনি  আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা তিনি উনার কালাম পাক-এর বহু আয়াত শরীফ-এ হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইত্তিবা, ইতায়াত তথা অনুসরণ, অনুকরণ করার জন্য বলেছেন, আদেশ-নির্দেশ করেছেন।
যেমন, 
  • এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তোমাদের কাছে যা নিয়ে এসেছেন তা গ্রহণ করো বা পালন করো এবং যা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন তা থেকে বিরত থাক। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তিদাতা।”(সূরা হাশরঃ  আয়াত শরীফ-৭)
  • হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন যে, একদিন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব রদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এসে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা ইহুদীদের থেকে তাদের কিছু ধর্মীয় কথা শুনে থাকি, যাতে আমরা আশ্চর্যবোধ করি, এর কিছু আমরা লিখে রাখবো কি? হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, তোমরাও কি দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছ; যেরকম ইহুদী-নাছারারা দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে? অবশ্যই আমি তোমাদের নিকট পরিপূর্ণ, উজ্জ্বল ও সুস্পষ্ট দ্বীন নিয়ে এসেছি। হযরত মূসা আলাইহিস সালাম (ইহুদীদের যিনি নবী ও রসূল) তিনিও যদি হায়াত মুবারক-এ থাকতেন তাহলে উনাকেও আমার অনুসরণ করতে হতো।” (মুসনাদে আহমদ, বাইহাক্বী, মিশকাত, মিরকাত, আশয়াতুল লুময়াত, লুময়াত, শরহুত ত্বীবী, তা’লীকুছ ছবীহ ইত্যাদি)
  • মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “যদি তোমরা মু’মিন-মুসলমান হয়ে থাকো তাহলে মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে অনুসরণ করো।” (সূরা আনফাল : আয়াত শরীফ-১)


  • মহান আল্লাহ পাক তিনি অন্যত্র ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অনুসরণ করলো প্রকৃতপক্ষে সে মহান আল্লাহ পাক উনারই অনুসরণ করলো।” (সূরা নিসা: আয়াত শরীফ-৮০)

  • হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে, “ হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, কোনো ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তার প্রবৃত্তি আমি যা এনেছি তার আনুগত্য বা অনুসরণ না করবে।” (শরহুস সুন্নাহ, মিশকাত)

  • বুখারী শরীফ’-এ বর্ণিত রয়েছে, “ হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, আমার সমস্ত উম্মতই জান্নাতে প্রবেশ করবে শুধুমাত্র যে আমাকে অস্বীকার করবে সে ব্যতীত। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কোন ব্যক্তি আপনাকে অস্বীকারকারী? তিনি বললেন, যে আমাকে ইতায়াত বা অনুসরণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে আমার নাফরমানী করবে অর্থাৎ ইতায়াত বা অনুসরণ করবে না, সেই আমাকে অস্বীকারকারী।”

  • হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনুসরণ করাটা হিদায়েত ও রহমত লাভের কারণ। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “যদি তোমরা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনুসরণ করো তবেই তোমরা হিদায়েত লাভ করবে।” (সূরা আন নূর : আয়াত শরীফ-৫৪)
  • তিনি আরো ইরশাদ করেন, “হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনুসরণ করো: অবশ্যই তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হবে।” (সূরা আন নূর : আয়াত শরীফ-৫৬)
  • হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যদি কেউ অনুসরণ না করে তাহলে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় সে বিদয়াতী-বেশরা, বিধর্মীদের অনুসরণ করতে বাধ্য। ফলে সে কুফরী ও গুমরাহীতে মশগুল হবে এবং পরিণামে জাহান্নামের কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে। যেমন, ইরশাদ মুবারক হয়েছে, ‘যেদিন জাহান্নামের আগুনে তাদের চেহারা ঝলসিয়ে দেয়া হবে সেদিন তারা বলবে, হায়! আমরা যদি মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের আনুগত্য করতাম।” (সূরা আহযাবঃ আয়াত শরীফ-৬৬)


বান্দা-বান্দী, উম্মত যদি নাজাত পেতে চায়; তাহলে তাদের জন্য ফরয-ওয়াজিব হলো, ঈমান এনে আক্বীদা শুদ্ধ করে প্রতিক্ষেত্রে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনুসরণ অনুকরণ করা।

No comments:

Post a Comment